হাতে লাল সুতার রহস্য.......
করিম সাহেব গেছেন হাসপাতালে, ছেলে অসুস্থ। লোকাল ডাক্তার বলেছে হাসপাতলে ভর্তি করতে হবে। কয়েকদিন হসপিটাল ট্রিটমেন্ট দিলে সুস্থ হয়ে যাবে, বাসায় এত রেগুলার চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। করিম সাহেব সামান্য চাকুরে, এত টাকা নেই যে প্রাইভেট হাসপাতালে রেখে ছেলের চিকিৎসা করাবেন। তাই গিয়ে ভর্তি হলেন এক সরকারি হাসপাতালে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর করিম সাহেব একটি অদ্ভূত বিষয় লক্ষ্য করলেন, হাসপাতালে যে ডাক্তার তার ছেলেকে দেখতে আসে তার ডান হাতে লাল সূতা বাধা, একটু পরে যে নার্স আসলো ইঞ্জেকশন দিতে তারও হাতে লাল সূতা বাধা। প্রত্যেক শিফটের অধিকাংশ নার্সের একই অবস্থা। করিম সাহেব গেলেন হসপিটাল ডিসপেনসারিতে। সেখানেও ক্যাশে বসে আছে হাতে লাল সূতা ওয়ালা একজন। ক্যাবিন পেতে তিনি যোগাযোগ করলেন হসপিটালের প্রশাসন বিভাগে, সেখানেও বসে আছে হাতে লাল সূতা ওয়ালা একজন। এমনকি যে দারোয়ান আসছে তার হাতেও লাল সূতা বাধা। করিম সাহেব কৌতুহল বশত দাড়োয়ানের বুকে নেমপ্লেটের দিকে তাকালেন। দেখলেন দাড়োয়ানের নাম বিজয় চন্দ্র দাস। করিম সাহেব হাতে লাল সূতা বাধা এক নার্সের নাম জিজ্ঞেস করলেন, জানতে পারলেন নাম স্বপ্না রাণী। কৌশলে ডাক্তারের নামও জেনে নিলেন, নাম উৎপল সাহা।
করিম সাহেব বহু সনাতন ধর্মের লোকের সাথে চলেছেন, এতদিন তাদের হাতে লাল সূতা বাধা থাকতো না। কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের হাতে কেন লাল সূতার আধিক্য বেড়ে গেলো কেন ? এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলেন। করিম সাহেব ছোট চাকুরে করতে পারেন, কিন্তু বই পড়ার অভ্যাস তার দীর্ঘদিনের। তিনি এতটুকু ধারণা করতে পারেন, ‘লাল সূতা’ হচ্ছে একটি বিশেষ প্রতীক এবং সেই প্রতীকটি হচ্ছে একটি কমিউনিটির নির্দেশক। এতদিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সাধারণ ব্যক্তি হিসেবেই প্রবেশ করতো চাকুরেতে, কিন্তু এখন প্রবেশ করছে একটি বিশেষ কমিউনিটি তরফ থেকে, যার প্রতীক হচ্ছে ঐ লাল সূতা।
করিম সাহেব পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ভয় পেয়ে যান। কারণ যে বা যারা কমিউনিটির তরফ থেকে হিন্দুদের প্রবেশ করাচ্ছে, তারা অবশ্যই কোন লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। আগে যে রকম সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাধারণ মনে করা হতো, এখন তারা সেই পরিস্থিতিতে নেই। তাদের প্রবেশ সংগঠনের সদস্য হিসেবে, উদ্দেশ্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করা, নিয়ন্ত্রণ করা। উপরের হর্তা-কর্তার হয়ত উপরের নির্দেশ পেয়ে, ঘুষ-দুর্নীতি করে লাল সূতা ওয়ালাদের সুযোগ করে দিচ্ছে, কিন্তু এর ফল তারা নিজেরাও চিন্তা করে দেখেছে বলে মনে হয় না। লাল সূতা ওয়ালাদের একচেটিয়া প্রবেশ করিয়ে একটি স্বাধীন দেশকে পঙ্গু করে দেওয়া হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে করা হচ্চে স্বাধীনতাহীন।
করিম সাহেব, আর হাসপাতালে থাকলেন না, একদিন চিকিৎসা নিয়েই বাসায় ফিরে গেলেন। তিনি চিন্তিত। ঐ হাসপাতাল তার অসুস্থ ছেলে আর সারাতে পারবে না, খোদ হাসপাতালের নিজের অবস্থাই এখন মুমূর্ষু।

কোথায় গজনী, কোথায় মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়.....
ReplyDeleteThis comment has been removed by the author.
ReplyDeleteআপনাদের মত কিছু লেখক তাকলে সাংবাদিক লাগবে না।
ReplyDeleteআজব ব্যপার!!! আপনাকে ধন্যবাদ তথ্যটা সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য।
ReplyDeleteবিষয়টা চিন্তা করার মতো। প্রশাসনে হিন্দুদের আধিক্য বেড়ে যাচ্ছে। তাঁরা একটা লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছে। আর সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানদের স্বাধীনতা ও শক্তি হরণ করা।
ReplyDeleteকি যে হচ্ছে এই পৃথীবিতে
ReplyDeleteহু ঠিকই আছে মুসলিম রা যখন নিজেদের দায় দায়িত্ব ভুলে গিয়ে , আধুনিকতার অন্ধ অনুকরন আর ভোগ বিলাসে নিমজ্জিত করেছে তার ফল তো তাদের পেতেই হবে
ReplyDelete