Header Ads

ad728
  • Breaking News

    সখী সাম্প্রদায়িকতা কারে কয় ?


    সম্প্রতি ব-দ্বীপ প্রকাশনের মালিক শামসুজ্জোহা মানিক গ্রেফতার হওয়ার পর কিছু কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বী তার প্রতিবাদ জানিয়েছে। উল্লেখ্য শামসুজ্জোহা মানিক জন্মসূত্রে একজন মুসলমান এবং সে নিজ ধর্ম নিয়েই কটাক্ষ করেছিলো। এতে মুসলমানদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় এবং ফলস্বরূপ মুসলিম সংখ্যাগুরু রাষ্ট্রের পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেফতার করে। অর্থাৎ পুরো বিষয়টিই মুসলমানদের ধর্মানুভূতির সাথে সম্পৃক্ত, এখানে হিন্দুদের নাক গলানোর কোন দরকারও নেই, সুযোগও নেই।
    উল্লেখ্য কিছুদিন আগে কুমিল্লায় মা ভাবনী (সুজন দাসী) নামক এক মহিলা হিন্দু ধর্মকে অবজ্ঞা করে। পরবর্তীতে হিন্দুদের প্রতিবাদের মুখে ঐ মহিলাকে আটক করে পুলিশ (http://goo.gl/rzS59i)। এসময় কিন্তু কোন মুসলমানকে দেখা যায়নি ঐ মহিলার পক্ষ নিয়ে হিন্দুদের বিরোধীতা করতে। অথচ শামসুজ্জোহা মানিকের গ্রেফতারের পর অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে দেখা যাচ্ছে বিষয়টির বিরুদ্ধে বেশ উচ্চ-বাচ্চ করতে এবং শামসুজ্জোহা মানিকের মুক্তি দাবি করতে। এর মধ্যে রয়েছে-
    বাংলাদেশ হাইকোর্টের উকিল রাজেশ পাল (নিজ ফেবু একাউন্টে)
    উ্ইম্যান চ্যাপ্টারের সম্পাদক সুপ্রীতি ধর (নিজ ফেবু একাউন্টে)
    সিলেট টুডে’র সাংবাদিক একুশ তফাদার (নিজ ফেবু একাউন্টে)
    এছাড়া রয়েছে
    অধ্যাপক অনুপম সেন,
    অধ্যাপক অজয় রায়,
    সমাজকর্মী আরমা দত্ত,
    সমাজকর্মী চন্দন শীল
    এডভোকেট দীপক ঘোষ
    (http://goo.gl/p1HoyR)
    উপরের অমুসলিম চরিত্রগুলো নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ দাবি করে মুসলমানদের ধর্মানুভূতি আঘাতের পক্ষে বললেও আসলেই কি তারা ধর্মনিরপেক্ষ ? নাকি মুক্তমনার বেশে উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু ?
    পাঠক, এ সম্পর্কে সবগুলো চরিত্র বিচার করার দরকার নাই। পুরো হাড়ির মধ্য থেকে একটি মাত্র ভাত ‍তুলে নিয়ে টিপলেই বাকিগুলোর অবস্থা বোঝা সম্ভব । আমি শুধু প্রথম চরিত্র, মানে বাংলাদেশ হাইকোর্টের উকিল রাজেশ পালের চরিত্র বিশ্লেষণ করবো।
    উল্লেখ্য ব-দ্বীপ প্রকাশনীর মালিক গ্রেফতার হওয়ার পর তার বিরোধীতা করে বেশ কয়েকটি স্ট্যাটাস প্রসব করেছে বাংলাদেশ হাইকোর্টের এই উকিল। যার একটি লেখা আবার সিলেটটুডে২৪ এও ছাপা হয়েছে (http://goo.gl/TguGX1)। যেখানে রাজেশ পাল মুক্তমনার বেশ ধরে ব-দ্বীপ প্রকাশনের ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমের পক্ষে বলেছে, মুসলমানদের বিরুদ্ধে বলেছে।
    পাঠক, এ তো গেলো রাজেশ পালের ফেবু টাইমলাইনের কথা। রাজেশ পালরা নিজ ফেবু টাইমলাইনে অসাম্প্রদায়িকতার বেশ ধরে মুসলমানদের বিরোধীতা করলেও নিজস্ব সিক্রেটগ্রুপগুলোতে (যেগ্রুপগুলো শুধু নিজ সদস্য ছাড়া কারো কেউ দেখতে পারে না) ঠিকই উগ্র সাম্প্রদায়িকতার মহড়া চালিয়ে থাকে, হায়েনার মত হিংস্র দাত বের করে সাম্প্রদায়িকতার ট্রেনিং দেয় অন্য হিন্দুদেরকে।
    এ সম্পর্কে বলতে হয়, বাংলাদেশে ‘সনাতন’ নামক উগ্র হিন্দুদের একটি সিক্রেট গ্রুপ আছ, যার মেম্বার ২৮ হাজার। এই ২৮ হাজার বাংলাভাষী হিন্দু সবার চোখের আড়লে থেকে সারা দিন ঐ গ্রুপের মধ্যে মুসলিম বিরোধী সাম্প্রদায়িকতার ট্রেনিং নেয়। এই ট্রেইনার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ হাইকোর্টের এই উকিল কথিত মুক্তমনা রাজেশ পাল।
    ছবিতে দেখুন, ঐ সিক্রেট গ্রুপে ২০১৫ সালের ৫ই জানুয়ারী রাজেশ পাল একটি স্ট্যাটাসে হিন্দুদের সাম্প্রদায়িকতার তালিম দিচ্ছে। স্ট্যাটাসটি হুবুহু কপি করে দিলাম-
    “পারস্পরিক সহযোগীতার বলয় সৃষ্টি:
    পারস্পরিক সহযোগীতার ভিত্তিতে আমাদের কমিউনিটি রিলেশনস বিলড আপের দিকে দৃষ্টি দেয়া উচিত।মূলতঃ এর উপর ভিত্তি করেই ইহুদীরা আজ শীর্ষে অবস্হান করছেন।কয়েকটি উদাহরণ দিই।তাহলে আমার বক্তব্য সহজবোধ্য হবে। আপনার শিশুটির জন্য গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন,অন্য ধর্মাবলম্বী না রেখে একজন সনাতনীকে সে সুযোগ দিন।কারখানায় শ্রমিক দরকার হলে সনাতনী শ্রমিক নিয়োগ দিন।ডাক্তার বা আইনজীবীর প্রয়োজন হলে একজন সনাতনী ডাক্তার বা আইনজীবীর শরণ নিন।পারিবারিক বাজার,সদাই করতে হলে হিন্দু মালিকানাধীন দোকানটি থেকে কিনুন।মেরামতের কাজে মিস্ত্রি প্রয়োজন হলে কাজটা একজন হিন্দু মিস্ত্রিকে দিন।একজন হিন্দু রোগী বা মক্কেলের থেকে ফিস নেয়ার সময় যথাসাধ্য ছাড় দিতে হবে হিন্দু ডাক্তার বা আইনজীবীদের।অফিসে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজ সম্প্রদায়ের মানুষদের অগ্রাধিকার দিতে হবে হিন্দু নিয়োগকর্তাদের।এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সহযোগীতার বলয় গড়ে তুলতে হবে সনাতনীদের।তাহলে ইহুদীদের মত তারাও অচিরেই হয়ে উঠবে সম্পদশালী।
    প্রস্তাবটি আপনাদের সদয়বিবেচনার জন্য পেশ করা হলো।”
    কি বুঝলেন ?
    উত্তর সোজা। ব-দ্বীপ প্রকাশক গ্রেফতার হয়েছে, এটার বিরোধীতা তারা করছে শুধু মাত্র উগ্র সাম্প্রদায়িক হওয়ার কারণে। যদিও তারা মুসলমানদের সামনে আসে ধর্মনিরপেক্ষ বা নাস্তিকতার বেশে, আসলে প্রকৃত সত্য এরা প্রত্যেকেই উগ্র সাম্প্রদায়িক হিন্দু তথা মুসলমান বিদ্বেষী।
    যদিও মুসলমনরা বিষয়টি বুঝতে পারে না, অনুধাবন করতে পারে না হিন্দুদের শত্রুজ্ঞান সম্পর্কে । আর একারণেই শত্রুজ্ঞানহীন মুসলিম জাতির বর্তমানে এ করুণ অবস্থা।
    সবাইকে ধন্যবাদ।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728