যে পরিচয়ে পরিচিত হবে দিনাজপুর জেলা
বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলা কোন পরিচয়ে পরিচিত হবে ?
চেহেলগাজির পরিচয়ে নাকি কৃষ্ণের (কান্তজি) পরিচয়ে ?
গত কয়েকদিন আগ একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, বলেছিলাম- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলায় কান্তজিউর মন্দির নামক একটি মন্দিরকে ঘিরে প্রায় ২০০ বিঘা এলাকা জুড়ে পর্যটন স্পট গড়ে তুলছে বাংলাদেশ পর্যটন মন্ত্রনালয়। খরচ করছে শত শত কোটি টাকা। এ স্পটটি ঘিরে ভারতের হিন্দুদের টানতে চাইছে সরকার। একই সাথে বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে পরিচিত করতে চাইছে হিন্দু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাথে। (https://goo.gl/549O7i)
উল্লেখ্য কান্তজিউর মন্দির কিন্তু দিনাজপুর জেলার প্রাচীন কোন ঐতিহ্য নয়। এর সৃষ্টি ১৭৫২ সালে অর্থাৎ আজ থেকে ২৬৩ বছর আগে। দিনাজপুরে কিন্তু এর থেকে বহু পুরাতন মুসলিম ঐতিহ্য আছে। কিন্তু সেটার পেছনে ১ টাকাও খরচ করেনি সরকার। বরং ফেলে রেখেছে চরম অবহেলায়। ফলে দিনাজপুরে যে এত গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম ঐতিহ্য আছে সেটা জানেই না বাংলাদেশে এমনকি খোদ দিনাজপুরের মুসলমানরা।
এ রকম দিনাজপুরে একটি ঐতিহ্যের নাম হচ্ছে চেহেলগাজি মাজার ও মসজিদ। যার সৃষ্টি আজ থেকে প্রায় ৬৫৭ বছর আগে, ১৩৫২ সালে। চেহেল শব্দের অর্থ চল্লিশ। আর গাজি মানে মুসলিম ধর্মযোদ্ধা। স্থানীয় জনশ্রুতি থেকে জানা যায়,
৪০ জন গাজীকে (ধর্মযোদ্ধা) একত্রে এখানে গণকবর দেয় এক হিন্দু রাজা। এজন্য এ স্থানের নাম হয় চেহেল (চল্লিশ) গাজী। গোপাল নামক এক স্থানীয় হিন্দু রাজার বিরুদ্ধে উক্ত গাজীরা যুদ্ধ করে শহীদ হন।
সম্ভবতঃ সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এর কামরূপ অধিকারের সময় (১৩৫৮) এ যুদ্ধ হয়। জানা যায়- চল্লিশ জন অশ্বারোহী সমন্বয়ে গঠিত একটি গাজী বা মুজাহিদ দল বেদব্রাক্ষণ অধ্যুষিত বরেন্দ্র ভুমির এই প্রত্যমত অংশে ইসলামের একত্ববাদ ও উন্নত সভ্যতার বাণী প্রচার করতে এসে সহানীয় অত্যাচারী নৃপতি গোপাল রাজার দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন এবং পরিশেষে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। ঐ হিন্দু রাজা মুসলিম যোদ্ধাদের কেটে টুকরো টুকরো করে লম্বা লম্বি কবরে (৩৬ হাত দৈর্ঘ্য,৮ ফুট চওড়া) তাদের গণকবর দেয়। এই ৪০ জন গাজীর গণকবরই চেহেলগাজির মাজার নামে পরিচিত। পরিবর্তীতে ১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দে চেহেলগাজী মাজার সংলগ্ন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এটা সর্বজনস্বীকৃত দিনাজপুরে ইসলাম ধর্ম প্রচারে এই ৪০ জন শহীদ ধর্মপ্রচারকের অবদান চির স্মরণীয়।
৪০ জন গাজীকে (ধর্মযোদ্ধা) একত্রে এখানে গণকবর দেয় এক হিন্দু রাজা। এজন্য এ স্থানের নাম হয় চেহেল (চল্লিশ) গাজী। গোপাল নামক এক স্থানীয় হিন্দু রাজার বিরুদ্ধে উক্ত গাজীরা যুদ্ধ করে শহীদ হন।
সম্ভবতঃ সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ এর কামরূপ অধিকারের সময় (১৩৫৮) এ যুদ্ধ হয়। জানা যায়- চল্লিশ জন অশ্বারোহী সমন্বয়ে গঠিত একটি গাজী বা মুজাহিদ দল বেদব্রাক্ষণ অধ্যুষিত বরেন্দ্র ভুমির এই প্রত্যমত অংশে ইসলামের একত্ববাদ ও উন্নত সভ্যতার বাণী প্রচার করতে এসে সহানীয় অত্যাচারী নৃপতি গোপাল রাজার দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন এবং পরিশেষে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। ঐ হিন্দু রাজা মুসলিম যোদ্ধাদের কেটে টুকরো টুকরো করে লম্বা লম্বি কবরে (৩৬ হাত দৈর্ঘ্য,৮ ফুট চওড়া) তাদের গণকবর দেয়। এই ৪০ জন গাজীর গণকবরই চেহেলগাজির মাজার নামে পরিচিত। পরিবর্তীতে ১৪৬০ খ্রিষ্টাব্দে চেহেলগাজী মাজার সংলগ্ন মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এটা সর্বজনস্বীকৃত দিনাজপুরে ইসলাম ধর্ম প্রচারে এই ৪০ জন শহীদ ধর্মপ্রচারকের অবদান চির স্মরণীয়।
ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন, অযত্নে আর অবহেলায় ভেঙ্গেচুরে মাটির নিচে দেবে গেছে চেহেলগাজির মাজার। ফলে এখানে মুসলিমদের একটি ঐতিহ্য ছিলো তা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারছে না, ফলে তারা শিক্ষাভ্রমণ করছে ঐ কান্তজিউর মন্দিরকে ঘিরে, যে মন্দিরের দেয়ালে দৃশ্যমান হচ্ছে পর্তুগিজ দলদস্যুদের ছবি, ভাবছে এই পর্জুগিজ জলদস্যুতাই মনে হয় বাংলার ঐতিহ্য। কিন্তু চেহালগাজি নামে দিনাজপুরে যে একটি মুসলিম বীরদের আগমণ ঘটেছিলো তা তারা জানতেই পারছে না।
আমার মনে হয়, দিনাজাপুরে কান্তজিউর মন্দিরে ইনভেস্ট না করে পর্যটন মন্ত্রনালয়ের উচিত চেহেলগাজিদের স্থাপনায় ইনভেস্ট করা, যেন বাংলার মুসলমানরা তাদের সঠিক ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।

No comments