Header Ads

ad728
  • Breaking News

    বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদান কতটুকু ?



    আজকাল হিন্দুরা এমন একটা ভাব ধরে- মনে হয় যেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধটা বোধ হয় তারাই করেছিলো, আর মুসলমানরা বোধহয় সব আকাশ থেকে ভেসে এসেছে। অথচ বাস্তব চিত্রটি ছিলো সম্পূর্ণ উল্টো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের অবদান ছিলো প্রায় শূণ্যের কোটায়, এবং এটাই ঐতিহাসিক সত্য।
    যেমন একটি উদাহরণ দিলে বুঝতে সহজ হবে। বাংলাদেশে বীরত্বসূচক পদক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন মোট ৬৭৬ জন। অথচ এর মধ্যে হিন্দু সংখ্যা মাত্র ৬টি। শতকরা হিসেবে এর পরিমাণ মাত্র ০.৮৮%। (http://sovyota.com/?p=5303)
    উল্লেখ্য ঐ সময় হিন্দুরা দাবি করতো বাংলাদেশের হিন্দুদের মোট জনসংখ্যা ছিলো প্রায় ২৮%। হিন্দুরা একইসাথে দাবি করে মুক্তিযুদ্ধে তারা বেশি নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু যুক্তি মতে, যে যত বেশি নির্যাতিত হয়, তার মধ্যে প্রতিরোধ প্রবনতাও তত বেশি হওয়া উচিত। সে হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অন্তত ৫০% হওয়ার কথা ছিলো হিন্দু। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে হিন্দুর সংখ্যা শতকরা ১%-ও না !
    এটা সবাই জানে, হিন্দুরা সে সময় ভারত পালাতে বেশি পারঙ্গম ছিলো। এ সম্পর্কে টাইম সাময়িকীর ২রা আগস্ট, ১৯৭১ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে পালিয়ে যাওয়া শরনার্থীদের মধ্যে ৭৫% ছিলো হিন্দু (https://goo.gl/mK0xlp)। যদিও কারো কারো মতে এর পরিমাণ ছিলো ৯৫% এর মত (http://goo.gl/mviFM3)
    অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের যুদ্ধ করার তুলনায় ভারত পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা ছিলো বেশি।
    কিন্তু এরপরও তো কিছু হিন্দু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো।
    কিন্তু কেন ?
    এর উত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের দিল্লী মিশন প্রধান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর বক্তব্য পড়া প্রয়োজন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন-
    “মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব আমার উপর অর্পিত ছিল। সেই সূত্রে প্রধানমন্ত্রীর (ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী) ব্যক্তিগত স্টাফদের সঙ্গে আমার হৃদিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। প্রধানমন্ত্রীর এক ব্যক্তিগত স্টাফ আমাকে ২৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ জানায় যে, আগের দিন অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে তিনজন সংখ্যালঘু নেতা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে। তারা ইন্দিরা গান্ধীর কাছে বাংলাদেশকে ভারতের অংশ করে রাখার প্রস্তাব রাখে। প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবের জবাবে বলে: ‘ইয়ে না মুমকীন হ্যায়’। (এ সম্ভব নয়) (সাংবাদিক মাসুদুল হক তার বহুল আলোচিত গ্রন্থ “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএ” গ্রন্থের ১৪০-১৪৩ পৃষ্ঠাতে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর এই সাক্ষাৎকারটি বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।)
    অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে এটা মোটেও বাংলাদেশের হিন্দুদের ইচ্ছা ছিলো না। ‘বাংলাদেশ ভারতের অংশ হবে’ এটাই ছিলো হিন্দু নেতাদের ইচ্ছা। হিন্দুরা যদি জানতো স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ ঘটবে তবে ঐ ১% হিন্দুও হয়ত যুদ্ধ করতো না।
    এ বিষয়টি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা রানা দাস গুপ্তের বক্তব্য পুরোপুরি মিলে যায়। রানা দাস গুপ্ত বলেছে-
    “রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও সংবিধানের প্রথমে বিসমিল্লাহ লেখা হবে জানলে ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধই করতাম না”। (http://goo.gl/I8u1wr)

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728