ভারত কেন বর্তমান আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে কাজ কাজ করতে পারে ?
সাম্প্রতিক ভারতে আওয়ামী সরকার বিরোধী মোসাদের মিটিং এর পর অনেকেই প্রশ্ন করেছে- ভারত তো আওয়ামীলীগের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ভারত তো আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না।
আবার কেউ কেউ বলেছেন- অবস্থা দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’ ডুয়েল রোল প্লে করছে।
আসলে ঘটনাটা কি ঘটেছে বা কি ঘটতে যাচ্ছে সেটা হুবুহু বলা সম্ভব নয়, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করলে কিছুটা অনুমান করা সম্ভব।
এখানে একটি বিষয় জানার প্রয়োজন, বর্তমান আওয়ামী সরকারের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো কংগ্রেস পরিবারের, কিন্তু বিজেপি পরিবারের কখনই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো না। এর একটি কারণ হতে পারে- বঙ্গবন্ধু নিজে ছিলেন রুশপন্থী এবং আওয়ামীলীগও রুশপন্থী, তেমনি কংগ্রেস পরিবারও রুশপন্থী। কিন্তু বর্তমান বিজেপি কিন্তু রুশপন্থী নয় আমেরিকাপন্থী। যেটা ৭১ সালে দেখা গিয়েছিলো, বিজেপি (তৎকালীন ভারতীয় জনসংঘ) কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলো না।
এজন্য ধারাবাহিকভাবে বর্তমান বিজেপি কিন্তু আদর্শগত আওয়ামীলীগের সাপোর্টে নেই। আওয়ামীলীগের সাথে তাদের যে সম্পর্কটা টিকে আছে সবটাই স্বার্থগত। আওয়ামীলীগ যতদিন এবং যেপরিমাণ তাদের স্বার্থপূরণ করতে পারবে, ততদিন তারা আওয়ামীলীগের সাথে আছে, স্বার্থ আদায় শেষ হলে তারা ভিন্ন চিন্তা করবে।
বর্তমানে আমেরিকা চাইছে না, ভারত কোন মতেই রুশপন্থীদের সাথে সম্পর্ক রাখুন। যেমন সম্প্রতি চাবাহার বন্দর নিয়ে ভারতের সঙ্গে (রুশপন্থী) ইরানের চুক্তি হয়েছে। এটা নিয়ে কিন্তু বেশ অবজেকশন তুলেছে আমেরিকা। শেষেমেষ এই চুক্তি কতদূর টেকে সেটাও ভাববার বিষয়।
অন্যদিকে র’ এর ডুয়েল প্লে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে অনেকে। আসলে র’ কিংবা সিআইএস সবার বুদ্ধিদাতা মোসাদ (ইহুদীরা)। মোসাদ যা চাইবে সেদিকে হয়ত আজ অথবা কাল হাটতে বাধ্য হবে অন্যরা। প্রয়োজনে র’ এর মধ্যে পর্যাপ্ত মার্কিনপন্থী তৈরী করে নেবে মোসাদ। সম্প্রতি আওয়ামী গর্ভমেন্টের সাথে বিজেপি’র সম্পর্ক বিবেচনা করলে এটাও বোঝা যায়- বিজেপি কিংবা র’ এর সাথে তাদের দ্রুত পার্থক্য তৈরী হচ্ছে। কেন হচ্ছে ? উত্তর- আমেরিকা চাইছে তাই। ভারতের মূল নীতিনির্ধারক তথা র’ ধিরে ধিরে মার্কিন বলয়ের দিকে ঝুকে যাচ্ছে।
এখন কথা হচ্ছে- ভারত আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে গেলে কি হবে ? আমেরিকা ভারতের মধ্য দিযে বাংলাদেশে কি চাইছে ?
সেটা পরের পর্বে আলোচনা হবে। অপেক্ষা করুন......
No comments