Header Ads

ad728
  • Breaking News

    গত সোমবার দিবাগত রাতে ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্রাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    অস্ত্রাগারটি মহারাষ্ট্রের পুলগাঁওয়ে অবস্থিত। অ্স্ত্রাগারটি শুধু ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্রের ডিপো নয়, বরং পুরো এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্রের ডিপো। এর আয়তন প্রায় ১০ হাজার একর বা ৪০ বর্গ কিলোমিটার। এর নাম রাখা হয়েছিলো- ‘সামরিক সম্ভারের মক্কা’ বা ‘Mecca Of Ammunition’। এতে সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের মজুদ ছিলো- ট্যাংক বিধ্বংসী মাইন, ট্যাংক শেল, আর্টিলারি শেল, মর্টার শেল এবং শক্তিশালী এক্সপ্লোসিভ। এ অস্ত্রের ডিপো থেকে দেশটির ১১ লক্ষ সেনাবাহিনীর মূল অস্ত্র সরবারাহ করা হতো। দেশের বিভিন্ন কারখানায় অস্ত্র তৈরি হওয়ার পর এখানে এনে মজুত করা হয়। পরে সেসব অস্ত্রশস্ত্র বিভিন্ন এলাকায় বণ্টন করা হয়। এজন্য এটিকে ভারতের ১৪টি ফিল্ড অস্ত্রের ডিপোর ‘মাদার’ বা ‘মা’ বলে ডাকা হয়। উল্লেখ্য সাধারণ একটি অস্ত্র গুদাম, যেমন জম্মু-কাশ্মীরে অবস্থিত খুন্দ্র অস্ত্রের ডিপোতে ২০০৭ সালে অস্ত্রের মজুদ ছিলো প্রায় ২২ হাজার মেট্রিক টন। তাহলে গতকালকে যে ‘মাদার’ ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ঘটলো সেখানে কত লক্ষ মেট্রিক টন অস্ত্রের মজুদ ছিলো সেটা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। সংবাদে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের পর ভয়াবহ বিষ্ফোরণ শুরু হয় এবং বিষ্ফোরণের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিলো যে অস্ত্রাগারের বাইরে ৫-১০ কিলো দূরের এলাকাতেও শক্তিশালী ভূমিকম্পের মত কাপুনি সৃষ্টি হয় এবং ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যায় এবং সমস্ত কাচের জানালা ভেঙ্গে পরে। (http://goo.gl/qVGUQF) এটা স্বাভাবিক এত বড় একটি অস্ত্রের গুদাম নিশ্চয় ২০-৫০ জন লোক দিয়ে চলে না। অথচ এই ঘটনার ভারতীয় সেনাবাহিনী মিথ্যা দাবি করছে, এতে নাকি মাত্র ২০ জন নিহত হয়েছে। আপনি যে কোন সেনা কর্মকর্তার সাথে কথা বললে জানতে পারবেন- এ ধরনের বড় কোন অস্ত্র গুদাম নিয়ন্ত্রণ ও সিকিউরিটির জন্য বিশাল জনবল ও আর্মি ফোর্স লাগে। সেখানে শত শত উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা ও সহস্রাধিক সৈনিক সম্ভার প্রয়োজন। এ কারণে সিকিউরিটির কথা বিবেচনা করে অস্ত্রের ডিপোগুলো সাধারণত সেনা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরেই স্থাপন করা হয়। সে হিসেবে এশিয়ার সবচেয়ে অস্ত্র ডিপো নিয়ন্ত্রণে কত হাজার সেনা কর্মকর্তা ও সৈন্য সম্ভার ছিলো তার হিসেব ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন পর্যন্ত দেয়নি। উল্লেখ্য ঘটনার পর, অস্ত্রাগারের বাইরের এলাকা থেকে ১৭ জন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। তারা জানায়- তারা কিছুই স্মরণ করতে পারছে না। ডাক্তাররা জানায়- প্রচণ্ড বিষ্ফোরণের কারণে এত ভয়াবহ কম্পন তৈরী হয় যে, তারা তৎক্ষণাত অজ্ঞান হয়ে পড়ে, এ কারণে তাদের কিছুই মনে পড়ছে না। এ ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ঘটনা পর বিষ্ফোরণের কারণে অস্ত্রাগার থেকে পালানো বা ভেতরে কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।যদিও প্রাথমিক খবরে দাবি করা হয়েছিলো, অস্ত্রগার থেকে মাত্র দুইজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের অবস্থা জীবিত না মৃত সে সম্পর্কে কোন খবর ভারতীয় মিডিয়া প্রকাশ হয়নি। (https://goo.gl/W19XR9) যাই হোক, শেষে শুধু একটা কথা বলবো- সৃ্ষ্টিকর্তা মনে হয় সবকিছুতেই সমতা রক্ষা করে চলেন। প্রত্যেক ক্রিয়ারাই বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে দেন, ক্ষেত্রে বিশেষে প্রতিক্রিয়ার মাত্রা শত-সহস্রগুন পর্যন্ত হয়ে থাকে। যে ভারত ২০০৮ সালে বাংলাদেশে বিডিআর বিদ্রোহ ঘটিয়ে ৭২ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছিলো, বাংলাদেশ হয়ত তার প্রতিশোধ নিতে পারেনি, নিতে পারেনি সেনা স্বজনদের কান্নার বদলা। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার খাতা থেকে তো সেই হিসেব-নিকেশ মুছে যায়নি। হয়ত সেই হিসেবেরই কয়েকশ’ গুন বদলা মিটিয়ে দিলেন তিনি। যে হিসেব ৬৫ বছর ধরে জমে চলেছে জম্মু-কাশ্মীরে, যেখানে ভারতীয় সেনারা মুসলিম নারীদের ঘর থেকে টেনে-হেচরে নিয়ে ধর্ষণ করে, যেখানে ভারতীয় সেনাদের আগ্রাসনের মুসলিম নারীদের কুমারী থাকা দায়, সেই হিসেবও হয়ত নেয়া চলছে। ঘরে ‘গরুর মাংশ আছে’ ব্যস এইটুকু গুজবে যেখানে মানুষকে যখন ঘর থেকে টেনে-হেচরে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, সেই হিসেবও হয়ত রক্ষা করবেন সৃষ্টিকর্তা। আসলেই সৃষ্টিকর্তার হিসেব বুঝা দায়।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728