
গত কয়েকদিন যাবত ঢাকায় ১৪২ তলা ভবন র্নিমাণের কথা শোনা যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী সংসদে দাড়িয়ে বলেছে- এটা নাকি তার স্বপ্নের ভবন। (http://goo.gl/rSmAeP)
এ ভবনটি নির্মিত হলে তা হবে বুর্জ খলিফার পর সবচেয়ে সুউচ্চ ভবন। ঢাকাস্থ পূর্বাচলে ৬০ একর জায়গার উপর ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে ভবনটি। আজকে ভবনটি নির্মাণের জন্য সরকারের সাথে একটি চুক্তিও করতে যাচ্ছে কেপিসি গ্রুপ নামক একটি র্নিমাতা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কালী প্রদীপ চৌধুরী গত বছর সেপ্টেম্বরে এই ভবনটি নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
কালী প্রদীপ চৌধুরী সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী মাল মুহিত বলেছে-
“আমাদের সিলেটের ছেলে বিশ্বখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কেপিসি গ্রুপ গড়ে তুলেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বড় বড় ভবন নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেছেন।”
কালী প্রদীপ চৌধুরী সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী, একটি হিন্দু নিউজ পোর্টাল (http://goo.gl/hHxLqK) অথবা একজন ছাত্রলীগ নেতা যে উদ্ভট প্রশংসা করেছে (লেখাটা ডিলিট করে দিয়েছে, স্ক্রীনশট কমেন্টে), তার সত্যতা আমাদের জানা নেই। তবে পৃথিবীর দ্বিতীয় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে আগ্রহপ্রকাশকারী কেপিসি গ্রুপ আগে কতগুলো স্কাইস্ক্রেপারস বা আকাশচু্ম্বি ভবন নির্মাণ করেছে সেটা জানার প্রয়োজন আছে বৈ কি।
আমার জানা মতে কেপিসির কালী প্রদীপ চৌধুরীর স্কাইস্ক্রেপার নির্মাণের কোন অভিজ্ঞতা নেই, সে পরিচিত মূলত মেডিকেল কলেজ ও ক্লিনিক স্থাপনের জন্য। তবে তার মধ্যেও রয়েছে ভেজাল।
২০০০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কালী প্রদীপ চৌধুরী’র KPC Medical Management Inc দেউলিয়া ঘোষিত হয়। সে সময় কেপিসি কর্তৃপক্ষ ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তারের বেতন না দিয়ে এবং রোগী ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এতে মারাত্মক ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিলো। বিষয়টি নিয়ে সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো। (http://goo.gl/74Ff84)
এছাড়া ভারতের আসামে কেপিসি অবৈধ মানি লন্ডারিং এর সাথে জড়িত বলে প্রমাণিত। (http://goo.gl/TccO4a)
একইসাথে সাম্প্রতিক কালী প্রদীপ চৌধুরী তার মেডিকেলে বিজনেসে জালিয়াতি, ধান্দাবাজি এবং দুর্নীতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচিত ও আইনী পদক্ষেপের সম্মুখীন হয়েছে। (http://goo.gl/mZhlRk)
মজার ব্যাপার হচ্ছে, পূর্বাচলের যে এলাকায় ১৪২ তলা ভবন তৈরীর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে কালী প্রদীপ ও মাল মুহিত, সে এলাকাটা উত্তরার বিমানবন্দর থেকে অনেক কাছে। বিমান উঠামানার এত কাছে ১৪২ তলা ভবন নির্মাণর অনুমতি দেওয়া সম্ভব না। তাই প্রস্তাবিত ভবনের উচ্চতার বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অনুমতি দেয়নি। তবে সরকারের তরফ থেকে অনুমতি দেওয়ার জন্য সিভিল এভিয়েশন অথরিটিকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। (http://goo.gl/Xk0FuP)
আসলে, বাংলাদেশে ১৪২ তলা ভবন নির্মাণ হোক এটা আমিও চাই। কিন্তু ছাগল দিয়ে যেমন হাল চাষ হয় কালী-ফালী দিয়েও এইসব স্কাইস্ক্রেপার হয় না। আপনাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে ১৯৭৩ সালে যে সিয়ার্স টাওয়ার (বর্তমান উইলস টাওয়ার) নির্মিত হয়েছিলো (৯০ এর শেষ ভাগ পর্যন্ত তা ছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে উচ্চতম ভবন) তার নকশা ও গঠনকৌশল প্রণয়ন করেছিলেন বাঙালি মুসলিম স্থপতি (বুয়েট) ফজলুর রহমান খান (https://goo.gl/68u3IZ)।
তার মানে বাংলাদেশী মুসলমানরা সেই ৮০ দশকেই আমেরিকায় সুউচ্চ ভবন বানিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলো, এখনও চেষ্টা করলে মুসলমানরাই তা পারবে। তাই নতুন করে ধান্ধাবাজ, চোর-জোচ্চোর আর কালী-ফালী আমাদানি করার কোন প্রয়োজন দেখি না।
No comments