
আজকাল কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করলে মিডিয়া সেটা গুজব বলে দাবি করে। যেমন খবরে আসে-
--ধর্মঅবমাননার গুজব রটিয়ে হিন্দু শিক্ষককে বরখাস্ত
--পোস্টে লাইক দেওয়ার গুজব, সংখ্যালঘু শিক্ষককে কান ধরে উঠবস
--ইসলাম অবমাননার গুজব রটিয়ে শিক্ষকে গ্রেফতার
ইত্যাদি।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই মিডিয়াগুলোই কোন প্রমাণ ছাড়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে খবর করে এভাবে-
-- ‘আল্লাহু আকবার’ বলে কুপিয়ে হত্যা করা হলো মুক্তমনা ব্লগারকে
-- এবার ইসলামী জঙ্গীদের হাতে নিহত সংখ্যালঘু শিক্ষক
--- মন্দির ভাংচুর করলো মুসল্লীরা
অর্থাৎ মুসলমানদের বিরুদ্ধে খবর হলে দলিল লাগে না। অপরদিকে, হিন্দুর বিরুদ্ধে খবর হলে সেটা গুজব বনে যায়।
এখন কথা হচ্ছে, হিন্দুরা কি আদৌ ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে না ? তারা কি সত্যিই ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী ?
যারা এ ধরনের দাবি করে, আমি তাদের বলবো- আপনারা অবশ্যই মিথ্যা বলেন। কারণ অনলাইন-ইন্টারনেটের যুগে হিন্দুরা ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করে না, এটা কোন পাগলও বিশ্বাস করে না। হিন্দু পেইজ/আইডিগুলোতে যেভাবে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম, আল্লাহ নবী নিয়ে কটূক্তি চলে তা কোন সুস্থ মানুষ সহ্য করতে পারে না। শুধু তাই নয়, কমেন্টে কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ইসলাম নিয়ে কথা বলতে আসলে তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে জঘন্য সব শব্দ। যারা ফেসবুক ইউস করেন, এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হননি, এমন মানুষ খুব কমই আছে।
যাই হোক, ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন- আযম খান নামক এক ব্যক্তি কোন একটি ফাঁসির রায় নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছে। বলছে- পাবলিক ঐ দলের লোকজনকে গালি দিতেছে। কিন্তু নিচে ওয়েম্যান চ্যাপ্টারের সম্পাদক ‘সুপ্রীতি ধর’ কমেন্টে তাকে বলছে- “গাইলে কিছু হবে না। ওদের ধর্ম তুইলা কথা বল।”
হিন্দুরা প্রতিনিয়ত ইসলাম ধর্মকে কটূক্তি করছে এটা শতভাগ সত্যি। সেটা ক্লাসরুমে হোক, আড়ালে হোক, কিংবা ফেসবুকে হোক । মিডিয়া হয়ত এটা গুজব বলে কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু বাস্তবকে লুকিয়ে রাখবে কতদিন ?
এখন কথা হচ্ছে, হিন্দুরা হঠাৎ করে কেন এত ইসলাম অবমাননা শুরু করলো ?
উত্তরটা হচ্ছে- উপরের নির্দেশ। ইতিমধ্যে সংবাদে প্রচারিত হয়েছে- হিন্দুদের মধ্যে একটি গোষ্ঠী বিদেশী সম্রাজ্যবাদী তথা মোসাদের সাথে হাত মিলিয়েছে। তারা বিশ্বজুড়ে প্রচার করছে - ‘বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন হচ্ছে’। সম্রাজ্যবাদীরা যেন হিন্দু বাচাতে বাংলাদেশে হামলা করে।
আবার, ‘হিন্দু নির্যাতন’ হচ্ছে, এটা আরো ফুলিয়ে ফাপিয়ে প্রকাশ করা সম্ভব হবে, যদি মুসলমানদের উত্তেজিত করা যায়। এবং সেটা সম্ভব যদি মুসলমানদের আল্লাহ-নবীকে নিয়ে কটূক্তি করা যায় এবং সেই যের ধরে কোন হিন্দু আঘাত প্রাপ্ত হলে সেটাই ফলাও করে প্রচার করা যাবে। তাদের দৃষ্টিতে দুটোই উপকার। আবার ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে মুসলমানরা স্বাভাবিকভাবে বসে থাকবে না। তাই সংঘর্ষ অবশ্যাম্ভী।
আসলে, মুসলমানদের মস্ত ভুল হয়ে গেছে, তারা হিন্দুদের আদর স্নেহ করে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছিলো। কিন্তু পূর্বের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে হিন্দুরা মুসলমানদের সাথে বেঈমানি করে এখন বিদেশী শত্রু ডেকে নিয়ে আসতে চাইছে। এখন বাঁচতে হলে মুসলমানদের সামনে একমাত্র উপায়- হিন্দুদের বয়কট করা, চাকুরী-বাকরী থেকে বরখাস্ত করা, হিন্দুদের মায়া ত্যাগ করা। ‘সকল হিন্দু খারাপ না’- এই তত্ত্ব মন থেকে মুছে ফেলা। সর্বক্ষেত্রে হিন্দুদের এড়িয়ে যেতে পারলেই একমাত্র বেচে থাকা সম্ভব। আর তা না হলে, মুসলমানদের জন্য অপেক্ষা করছে অন্ধকার ভবিষ্যত।
No comments