জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ
কয়েকদিন আগে অনেক ইসলামী বেত্তা একযোগে ফতওয়া দিয়েছেন-
“ইসলামের নামে জঙ্গীবাদ হারাম”।
আসলে আমি তো ইসলামী বেত্তা নই, তারপরও স্বাভাবিকভাবে আমার মনে হয়েছে- ফতওয়াটা মনে হয় এরকম হলে ভালো হতো- “ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ হারাম।”
কারণ জঙ্গি শব্দটা ‘জংগ’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ যুদ্ধ, তাহলে জঙ্গীবাদ শব্দের অর্থ
দাড়ায় যুদ্ধবাদ। ফতওয়ার অর্থ দাড়ায় ইসলামের নামে যুদ্ধবাদ হারাম।
এখন ইসলামে জঙ্গীবাদ বা যুদ্ধবাদ যদি হারাম হয়, তবে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআনে কিন্তু অনেক স্থানে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে, তাহলে এ ফতওয়া অনুসারে কোরআন ঐ সকল আয়াত পড়াও কিন্তু হারাম হয়ে যাবে। কোরআনের ঐ সকল আয়াত কিন্তু বাদ দিয়ে কোরআন রচনা করতে হবে। উল্লেখ্য যুদ্ধ সংক্রান্ত আয়াত বাদ দিয়ে নতুন কোরআন রচনার চেষ্টা এর আগে কিন্তু ইহুদীরা করেছিলো।
আবার জঙ্গীবাদ বা যুদ্ধবাদ যদি হারাম হয়, মুসলমানদের শেষ নবী কিন্তু অনেকগুলো যুদ্ধ করেছেন, সেগুলোও কিন্তু ফতওয়া অনুসারে হারাম হয়ে যাবে।
শুধু তাই নয়, বর্তমান আর্মি, নেভী, এয়ারফোর্সে ভর্তি হওয়াও মুসলমানদের জন্য হারাম হবে। কারণ সেখানে যুদ্ধবাদ প্রশিক্ষন দেওয়া হয়।
এমনও হতে পারে মুসলিম বিদ্বেষী কেউ এ সকল গুপ্ত হামলা চালিয়ে মুসলমানদের থেকে কৌশলে ফতওয়া নিয়ে নিচ্ছে, তথা মুসলমান ধর্মীয়ভাবে নিবারণ করাও উদ্দেশ্য নাকি সেটাও খতিয়ে দেখার দরকার আছে। কারণ ইহুদিরা সুদূরপ্রসারী প্ল্যান নিয়েই কাজ করে। আসলে এ ধরনের একটি ফতওয়া বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ভালো মনে হতে পারে, কিন্তু সুদূর প্রসারী চিন্তা করলে অর্থাৎ কয়েকশ’ বছর পর মুসলমানরা যখন দেখবে লাখো আলেম এ ধরনের ফতওয়া দিয়েছিলেন, এমন দলিল ভবিষ্যত মুসলিম প্রজন্মের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলবে সেটাও যাচাই করার দরকার আছে।
গত কয়েকদিন আগে ফাহিম ফায়জুল্লাম নামক খুনি সহযোগী গ্রেফতার হয়েছিলো। ঐ ফাহিম ফয়জুল্লাহ কিন্তু দাড়িটুপি ওয়ালা ছিলো না। তাই ফাহিম ফয়জুল্লাহ ইসলামী মতাদর্শ থেকে হিন্দুর উপর হামলা করেছিলো এমন কোন প্রমাণ কিন্তু নাই। আবার যেহেতু তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হলো, তাই সে রকম আর প্রমাণ করারও সুযোগ নাই।
উল্লেখ্য কিছুদিন আগে আমেরিকা ফ্লোরিডা রাজ্যে অরল্যান্ডোতে একটি সমকামী ক্লাবে হামলার জন্য ওমর মতিন নামক এক ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেলো ঐ ওমর মতিনও একজন সমকামী এবং আরো দেখা গেলো ওমর মতিনের সাথে সিআইএ লিঙ্কও রয়েছে (দেখতে পারেন- সূত্র, http://goo.gl/5mBcIW, https://goo.gl/uVHrXk ,http://goo.gl/Lct3LO)
এরমানে বোঝা যাচ্ছে, ওমর মতিন কখনই ইসলামী মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সেই হামলা করে নাই। তাই সেখানে মুসলমানদের দোষ দেওয়া যায় না। অথচ মিডিয়া এমনকি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্প পর্যন্ত ঐ ঘটনার জন্য মুসলমানদের দায়ি করে গালাগাল করছে। এর দ্বারা বোঝা যায়, কথিত জঙ্গীবাদের নামে মুসলমান যে দোষারোপ করা হচ্ছে তার পুরোটাই উদ্দেশ্যমূলক। ঠিক যেভাবে বাঘ হরিণকে বলেছিলো- “তুই পানি ঘোলা করিসনি, তোর বাপদাদা চৌদ্দপুরুষ তো করেছে, তাই তোকে আমি খাবো”, ঠিক সেভাবে।
স্বাভাবিকভাবে জঙ্গীবাদ দ্বারা যদি ধর্মীয় মতাদর্শ প্রভাবিত হওয়াকে বোঝানো হয়ে থাকে তবে কিছুদিন আগেই কিন্তু ব্রিটেনের এক এমপিকে এক খ্রিস্টান উগ্রবাদী হত্যা করলো। এ ঘটনার পর কিন্তু কেউ বলে নাই- খ্রিস্টান জঙ্গিবাদ নিষিদ্ধ করা হোক। উল্লেখ্য এর আগে ইসরাইলেও কিন্তু সমকামীদের উপর হামলা চালিয়েছিলো ইহুদী সন্নাসীরা। কিন্তু তখনও কেউ বলে নাই ইহুদী জঙ্গীবাদ নিষিদ্ধ হোক। এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারতে হিন্দু উগ্রবাদ দ্বারা প্রভাবিত এমপি-মন্ত্রীরা প্রায় মুসলিম নিধনের হুমকি দেয়, দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করে। সেখানে কিন্তু কেউ বলছে না হিন্দু জঙ্গীবাদ নিষিদ্ধ করা হোক।
এখন আপনার মনের মধ্যে যদি সাম্প্রদায়িকতা বা মুসলিম বিদ্বেষ থাকে তবে আমার কিছু বলার নাই। তাই ফতওয়া দেওয়ার সময় নিউট্রাল থাকাই উত্তম। এ কারণে আমার মনে হয় ফতওয়া একটু পরিবর্তন করা উচিত। ফতওয়াটা- ‘ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ নয়’, ‘ইসলামের নামে সন্ত্রাসবাদ হারাম’ হলেই ভালো।
No comments