ভারতে হিন্দুরা মুসলিম নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে
ভারতে কিছু হিন্দু যুবক মুসলিম নাম ব্যবহার করে পোষ্টার, ই-মেইল ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলামিক সন্ত্রাসী হামলা’র হুমকি দিচ্ছেন। মুল উদ্দেশ্য হলঃ মুসলিমদের সন্ত্রাসবাদি প্রতিপন্ন করে ভূভারতে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেওয়া।
এবিষয়ে, ২০১৪ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের চারখানা ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারেঃ
১) খাগড়াগড়কান্ড নিয়ে মিডিয়ায় মোল্লাতাংকে বাংলা যখন দাউ দাউ করে জ্বলছে, ঠিক সেইসময় কোলকাতার রাজারহাটে জামাত-উল-মুজাহিদিনের নামে একটি পোষ্টার পড়ে। পোষ্টারে কোলকাতায় বোমা হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়। টিভি চ্যানেল এবং পত্র-পত্রিকাতে খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রচারও করা হয়।
একদিকে খাগড়াগড় আর অন্যদিকে রাজারহাট মেগাসিটি ও কোলকাতা বিমানবন্দরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় পুলিশও খুব তৎপরতার সাথে পোষ্টারের মালিককে খুঁজে বের করে। পোষ্টারটির মালিক ছিলেন- অমিয় সরকার।
২) ডিসেম্বর মাসের শুরুতে, উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে তিনটি মন্দিরের সামনে মোষের মাংস রেখে দেওয়া হয়। এর ফলে দাঙ্গা বিধ্বস্ত মুজাফফরনগরে নতুন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার উপক্রম দেখা দেয়। তদন্তের পরে পুলিশ ভিএইচপি’র কর্মী দেশরাজ সিংকে গ্রেপ্তার করে। নতুন করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু করতে ধৃত দেশরাজ সিং নিজে মন্দিরের সামনে মোষের মাংস রেখেছিলেন।
৩) ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে, সন্ত্রাসী সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের পক্ষ থেকে রাজস্থানের ১৬জন মন্ত্রীর কাছে হুমকি ই-মেইল পাঠানো হয়। সেই ই-মেইলে বলা হয় যে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন দ্বারা রাজস্থানে তীব্র সিরিজ সন্ত্রাসী আক্রমন চালানো হবে।
পুলিশ গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে । এফ আই আর করা হয় অজানা সন্ত্রাসী সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের নামে। অবশেষে রাজস্থান এটিএস, মেইল প্রণেতার আইপি অ্যাড্রেস ট্রাক করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের নামে ই-মেইল প্রণেতা হলেন- সুশীল চৌধুরী।
৪) ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে, আবুল খান নামক জনৈক টুইট কর্তা টুইটারের মাধ্যমে ঘোষণা করেন যে বোমা বিস্ফোরণ করে পুরো ব্যাঙ্গালোর শহর উড়িয়ে দেওয়া হবে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, আবুল খান নাম নিয়ে এক হিন্দু যুবক এই টুইটটি করেছেন।
আশ্চর্য্যের বিষয়, অত্যাশ্চর্য্যের বিষয়, উপরের চারটি ঘটনায় ধৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়, কাউকেই আটক করে রাখা হয়নি।
অষ্টম আশ্চর্য্যের বিষয়, ৩০ দিনের ভেতর ভিন্ন ভিন্ন রাজ্যে ঘটে যাওয়া চারটি ঘটনায় ধৃত অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে স্ব স্ব প্রশাসনের বিবৃতি হুবহু এক!!! প্রত্যেকের বিষয়েই বলা হয়- ধৃতরা মানসিক অবসাদ্গ্রস্থ এবং মানসিক রোগগ্রস্থ!!!
দুঃখের বিষয়, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, শুধুমাত্র ই-মেইল বা চিঠির সুত্রধরে অসংখ্য মুসলিম যুবক বছরের পর বছর ধরে জেলখানায় বন্দী থেকে নিজেদের জীবন-যৌবন নষ্ট করে ফেলছেন। আদালত থেকে বেকসুর খালস পাওয়ার আগে এই যুবকদের ভাগ্যে জামিন পর্যন্ত জোটেনা। নাহ, এই মুসলিম যুবকরা প্রত্যেকেই সন্ত্রাসবাদি, এদের মধ্যে থেকে কেউই মানসিক অবসাদে ভোগেন না বা মানসিক রোগগ্রস্থ হন না...
( কলকাতার মুসলিম সাংবাদিক জিম নেওয়াজের টাইমলাইন থেকে কপি)
References:
1) http://goo.gl/mhuuSk
2) http://goo.gl/3j7OUS
3) http://goo.gl/hsK941
No comments