
মার্কিন সেনাবাহিনীতে ধর্ষণের ঘটনা মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়েছে। এমত অবস্থায় ধর্ষণ রোধে ওবামা ‘যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি’ নামক একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় লে: কর্নেল পদমর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তাকে। তার নাম জেফ ক্রুসিস্কি। কিন্তু সমস্যা ঘটে কিছুদিন পর । দেখা যায় কয়েকদিন পর সেই লেঃ কর্নেল জেফ ক্রুসিস্কি নিজেই ধরা খায় ধর্ষণ করতে গিয়ে। (http://bit.ly/2dJtRJa)
বাংলাদেশেও কিন্তু একইরকম পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। সরকার আওয়ামীলীগ ও হিন্দুদের হাতে ক্ষমতা দিয়েছে কথিত জঙ্গীবাদ রুখতে। সেই উদ্দেশ্যে তারা সারা দেশব্যাপী শুরু করেছে কথিত জঙ্গীবাদ বিরোধী সভা। আর বর্তমানকালের অন্যতম আলোচিত সেই ‘কুপাকুপি বদরুল’ও কিন্তু সেই জঙ্গীবাদবিরোধী সমাবেশেরই অন্যতম সংগঠক। আওয়ামীলীগ তার মাধ্যম দিয়ে জঙ্গীবাদবিরোধী অনুষ্ঠান করাতো।
যাই হোক, আমি অনেক আগেই বলেছি, বর্তমান কালে কথিত জঙ্গীবাদ বিরোধী প্রচারের অন্যতম উদ্দেশ্য ইসলামিস্টকের কোনঠাসা করা, দাড়ি-টুপির বিরুদ্ধে মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করা, বোরকা পড়লে, মসজিদে গেলে জঙ্গীবাদ সৃষ্টি হয় সেই গুজব রটিয়ে দেয়া। আর এই কাজটি করে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ, বামপন্থী-নাস্তিক ও হিন্দুরা। অথচ এই তিনটি গোষ্ঠী যদি হাজারও জঙ্গীপনা করে তবে কিন্তু সেটা জঙ্গীবাদ হিসেবে প্রচার হয় না, কিন্তু মুসলমানরা একটা বায়ু ত্যাগ করলেই সেটাকে বোমা হিসেবে প্রচার করা হয়। বলা হয় মুসলমানরা জঙ্গি। আসুন সে ধরনের কিছু ঘটনাই দেখি-
১) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গোপিনাথ দাস নামক এক হিন্দু অস্ত্রসহ আটক হলো। কিন্তু সেটাকে কেউ জঙ্গীবাদ বলে প্রচার করলো না। কারণ আটককৃত ব্যক্তি একজন হিন্দু ।(http://bit.ly/2d2Ybjw)
২) হিন্দু এমপি পঙ্কজ দেবনাথ এক মুসলিম ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু তাকে কেউ সন্ত্রাসী বলছে না। কারণ হত্যার হুমকি দাতা একজন হিন্দু।(http://bit.ly/2dlQ6o6)
৩) যশোরে মুসলিম ইউপি চেয়ারম্যানকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে হিন্দু এমপি রণজিৎ কুমার রায়। কিন্তু এরপরও তাকে কেউ জঙ্গী বলছে না, কারণ হুমকি দাতা একজন হিন্দু। (http://bit.ly/2cWJU8x) ।
৪) ট্টগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশ্যে জবাই করার হুমকি দিয়েছে হিন্দুরা। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কুরুক্ষেত্র (হিন্দুদের জিহাদ) করার ঘোষণা দেয় এবং তাদের অফিস জ্বালিয়ে দেয়। তারপরও তাদেরকে কেউ জঙ্গী বলছে না। কারণ ঘটনাকারীরা হলো হিন্দু। (http://bit.ly/2cF9dLG)
৫) এক মুসলিম মুক্তিযোদ্ধকে ঘুষি মেরে হত্যা এক হিন্দু ওসি। তারপরও তাকে কেউ জঙ্গী ট্যাগ দেয় না, কারণ সে একজন হিন্দু। (http://bit.ly/2dkHxhx)।
৬) মন্দির থেকে প্রকাশ্যে বন্দুক বের করে মুসলমানদের উপর গুলি চালায় ইসকন। কিন্তু তারপরও কেউ তাদের জঙ্গী বলে না। কারণ গুলি করেছে হিন্দুরা। (http://bit.ly/2dwX4Yv)
৭)চট্টগ্রামের হালিশহরে প্রকাশ্যে মুসলমানদের জবাই করার হুমকি দেয় হিন্দুরা, কিন্তু তারপরও কেউ তাদের জঙ্গী বলে না। কারণ হুমকিদাতা হিন্দু। (http://bit.ly/2dsnMmP)
৮)বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় এক মুসলিম শিক্ষকের উপর হামলায় চালায় মনতোষ দাস নামক এক হিন্দু । কিন্তু তারপরও মনতোষ দাসকে কেউ জঙ্গী বলে না। কারণ সে একজন হিন্দু। (http://bit.ly/2d9CoK6)।
৯) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া থেকে একটি কাটা রাইফেল ও চার রাউন্ড গুলিসহ কার্তিক চন্দ্র দাস (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু মিডিয়ায় বলা হয়নি কার্তিক চন্দ্র একজন জঙ্গী, কারণ সে হিন্দু। (http://bit.ly/2dJuMJy)
১০) সুনামগঞ্জে জয়কুমার বৈষ্ণব বাহিনীর নাম শুনেনি এমন কম মানুষ আছে। এই বাহিনীর আতঙ্কে সুনামগঞ্জবাসী অতিষ্ট। তারপরও জয়কুমার বৈষ্ণবকে জঙ্গী হিসেবে ঘোষণা করা হয় না। কারণ সে একজন হিন্দু। (http://bit.ly/2dS3q4p)
১১) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রশাসন জিম্মি হয়ে পড়েছে দেবাশীষ বাহিনীর কাছে। কিন্তু তারপরও দেবাশীষকে জঙ্গী বলা হচ্ছে না। কারণ দেবাশীষ একজন হিন্দু। (http://bit.ly/2dJnMLR)
১২) শ্যামলী পরিবহনের মালিক গণেশ চন্দ্র ঘোষ ও তার ভাই রমেশ চন্দ্র ঘোষ এক মুসলিম কর্মচারিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার লাশ ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। কিন্তু তারপরও কেউ তাদের জঙ্গীবলে না। কারণ খুনিরা হিন্দু। (http://bit.ly/2dJpHQH)
তারমানে হিন্দু ও আওয়ামীলীগ হাজারো কুপাকুপি আর সন্ত্রাসীপনা করলেও তাদের জঙ্গী বলা হচ্ছে না। অপরদিকে একটু দাড়িটুপি ওয়ালা হলেই বলা হচ্ছে-- “ইস ! মুসলমানরা কেমন বায়ু ত্যাগ করেছে, ঠিক বোমার মত শব্দ। শালারা আসলেই একটা জঙ্গী।”
No comments