Header Ads

ad728
  • Breaking News

    ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে আসলেই বাংলাদেশ কার পাশে থাকবে ?

    গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী সরকারের নেতৃস্থানীয়রা বার বার ঘোষণা দিচ্ছে, “ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে বাংলাদেশ ভারতের পাশে গিয়ে দাড়াবে।” প্রথমেই বলে রাখি- যুদ্ধ পরের বিষয়, কিন্তু ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে প্রথমেই দু’শ্রেণীর কথা মিডিয়ায় শোনা যাবে- ১) আওয়ামী লীগ- আমরা ভারতের পক্ষে, ২) নিউট্রাল চেতনাবাদী- দুই দেশ আমাদের শত্রু, আমরা কারো দলেই না। একটা কথা মনে রাখবেন- খেলা হলে প্রত্যেকেই কোন না কোন দলের সাপোর্ট অন্তর থেকে নিয়ে নেয়। কেউ প্রকাশ্যে নেয়, কেউ বা মনের গভীরে নেয়, নিরপেক্ষ থাকাটা খুবই সামান্য। রাজনীতিতে একটা কথা আছে- “পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নাকি নিরপেক্ষ নয়।” কথাটা একেবারে ভুল না। তবে আরো শুদ্ধ হচ্ছে একটা শিশুও নিরপেক্ষ নয়। কারণ শিশুকে তার বাবা-মা’র পক্ষ নিতেই দেখা যায়। তাই ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ হলে বাংলাদেশী জনগণ অবশ্যই কারো না করো পক্ষ নিবে। তবে ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে, আওয়ামী সরকার যেভাবে ভারত লেহননীতি শুরু করেছে, তাতে যুদ্ধের প্রথম কথাই উঠতে পারে- “যুদ্ধ লাগলে কি বাংলাদেশী সেনাবাহিনীকে সরকার ভারতের পক্ষে যুদ্ধ করার জন্য পাঠাবে ??” বাস্তবতা হলো- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগলে ভারত কখনই পাকিস্তানের সাথে পারবে না, এবং এর আগে কখন পারেও নাই। ভারতের দাবিকৃত প্রত্যেটা যুদ্ধজয়ই সার্জিকাল স্ট্রাইকের মত ভুয়া। তবে ইতিহাস বলে একমাত্র বাংলাদেশই পাকিস্তানের সাথে পেরে উঠতে পারে, যা ৭১ সালে দেখা গিয়েছিলো। এই সুযোগটা যদি ভারত আওয়ামী সরকারের জোরে নিতে চায়, তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর এক উর্ধ্বতন অফিসার, কয়েক বছর আগে সে মিশন থেকে ফিরে বলেছিলো- “বাইরে গেলে স্পষ্ট দেখা যায়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মধ্যে এক ধরনের অন্তরঙ্গতা রয়েছে। পাকিস্তানী অফিসাররা আমাদের কাছে এসে বলতো- ৭১ এর জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী, মনে রেখো মুসলমান-মুসলমান ভাই।" অপরদিকে ভারতীয় অফিসারদের সাথে যখন দেখা হতো তখন তাদের চোখে-মুখে বিদ্বেষের ছাপ দেখতে পেতাম।” ১৯৭১ সালের পর থেকে আজ পর্যণ্ত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’ বহু ইনভেস্ট করেছে যেন বাংলাদেশে মানুষের মাঝে পাকিস্তান বিদ্বেষ তৈরী হয়, এতে করে দুই শত্রু দেশের মাঝে অন্তত ভারতকে অবস্থান করতে হবে না। কিন্তু সেই প্রচেষ্টা কতটুকু সফল হয়েছে, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। দেশের মাটিতে হয়ত বাংলাদেশ-পাকিস্তান মিলতে পারছে না, কিন্তু বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ-পাকিস্তান কিন্তু ভাই-ভাই। তাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করারও এতটা সহজ বিষয় নয়। এ ধরনের চেষ্টা হলে হিতে বিপরীতও (ক্যু) হতে পারে। আমার কথাগুলোকে আপনারা অন্যরকম ভাববেন না। আমি কথা বলার চেষ্টা করি বাস্তবতার ভিত্তিতে। কারো উপর আমার মত চাপিয়ে দেওয়ার চেস্টা আমার নেই। আপনি মিডলইস্টের মাটিতে যান- সেখানে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানী কর্মজীবিদের মধ্যে রয়েছে ভাব, অপরদিকে ভারতীয়রা চান্স পেলেই এদের উপর বিদ্বেষ নিয়ে হামলে পড়ে। আপনি ক্রিকেট খেলায় যান, সেখানেও কোন বাংলাদেশী বোলার বলবে না- আমি ভারতীয় বোলার আশ্বিনকে ফলো করি।” অথচ বাংলাদেশের সুপারস্টার মুস্তাফিজ কিন্তু প্রকাশ্যেই বলে দিয়েছে সে মুহাম্মদ আমিরকে ফলো করে। একই কাজ করেছেন আরেক স্টার ক্রিকেটার তামীম ইকবাল, সেও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে সে আফ্রিদী ভক্ত। আসলে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান আলাদা হলেও তাদের ধর্মীয় বাধন কিন্তু এখন ছেদ হয়নি। স্বাভাবিকভাবে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় দুইদেশের জনগণের মধ্যে একটা সম্পর্ক রয়েই যাবে। “মুসলিম-মুসলিম ভাই ভাই”- এ সম্পর্ক অবশ্যই ক্রিয়া করবে। তাই ‘ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে বাংলাদেশ ভারতের পাশে থাকবে’, হ্যা শুধূ আওয়ামীলীগ থাকতে পারে, কিন্তু বাকি পুরো দেশই পাকিস্তানের পক্ষে থাকবে, এবং এটাই বাস্তবতা ও স্বাভাবিক।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728