পূজার সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অর্থ লুট : চট্টগ্রামে পুলিশ, চসিক ও প্রশাসনের হিসাবে অমিল
শুক্রবার, ৭ অক্টোবর ২০১৬
প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় দুর্গাপূজার সংখ্যা বেশি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে। পূজামণ্ডপ অনুপাতে সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন সংস্থার সহায়তা লোপাট করার জন্য পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেশি দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পূজা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। জেলা প্রশাসনের কাছে সরবরাহকৃত তালিকায় অনেকগুলো পূজামণ্ডপের নাম একাধিকবার উল্লেখ এবং ভুয়া পূজামণ্ডপের নাম অন্তর্ভুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে গত বছরও দুর্গাপূজার সংখ্যা বেশি দেখিয়ে বেশকিছু টাকা তসরুপ করেন মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা। গত বছর জেলা প্রশাসনের কাছে দেয়া তালিকায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপের কথা উল্লেখ করেন পূজা পরিষদের নেতারা। অথচ গত বছর নগরীতে দুর্গাপূজা হয় ২২৯টি মণ্ডপে। এসব নিয়ে বেসরকারি টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল। তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও কথা উঠেছিল। কিন্তু তা না হওয়াতে এবারো সেই একই পন্থায় অসাধু চক্রটি পূজার টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করছে।
এবার চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের মাধ্যমে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো তালিকায় পূজামণ্ডপের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৩০০টি। মহানগর এলাকায় ২৮৪টি পূজামণ্ডপের জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জেনারেটরের তেল বাবদ ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৪ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রামে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নগরীতে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৮৪টি বলে ঘোষণা দেয় পরিষদের নেতারা। অথচ গতকাল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি জানায়, নগরীতে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ২৩১। এর মধ্যে একটি পূজামণ্ডপে দীর্ঘদিন ধরে পূজা হয় না। নগরীতে দুর্গাপূজার প্রকৃত সংখ্যা ২৩০টি। সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো তালিকায় মহানগর পূজা পরিষদ ৭০টি পূজামন্ডপ বেশি দেখিয়েছে।
জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিটি মণ্ডপে সরকারিভাবে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ করা হয়। এ ছাড়া জেনারেটর খরচ বাবদ সিটি কর্পোরেশন প্রতিটি মণ্ডপের জন্য ৫ হাজার টাকা করে দিয়ে থাকে। ৭০টি বেশি পূজা দেখানোয় ৩৫ হাজার কেজি বেশি চাল পাওয়া যাবে। ৫০০ কেজি চালের দাম ১৫ হাজার টাকা দরে হিসাব করলে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশন থেকে জেনারেটর বাবদ সরবরাহকৃত ৫ হাজার টাকা তো রয়েছেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতা ভোরের কাগজকে বলেন, মহানগর পূজা পরিষদের পক্ষ থেকে সরবরাহকৃত তালিকায় তারা আন্দরকিল্লা পূজা উদযাপন পরিষদ নামে একটি সংগঠন দেখিয়েছেন যার কোনো অস্তিত্ব নেই। কোতোয়ালি থানা এলাকায় দুর্গাপূজা হয় ৭৮টি তারা দেখিয়েছেন ৯৮টি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ড. অনুপম সাহা ভোরের কাগজকে বলেন, দুর্গাপূজা সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেই পূজামণ্ডপের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সে অনুপাতেই সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়। এখন মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে যে তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে সে অনুপাতে জেলা প্রশাসন চাল বরাদ্দ করবে। এ ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের কিছু করার থাকে না।
অনিয়ম দুর্নীতির ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অনেকটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, আমরা লিস্ট দিয়েছি, আপনারা যাচাই-বাছাই করে দেখেন গিয়ে। এই বলে তিনি মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
খবরের সূত্র: http://archive.is/XhRhx

No comments