রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলো না ব্রাক্ষ সমাজের অন্তর্ভূক্ত ছিলো, ইতিহাস কি বলে?
গত কয়েকদিন আগে এটিএন বাংলার এক টকশোতে হেফাজতের মুফতি ফয়জুল্লাহকে ঘিরে ধরেছিলো তিন নাস্তিক। মুফতি ফয়জুল্লাহ বলছিলেন- রবীন্দ্রনাথ হিন্দু, আর ঐ তিন বলছিলো- রবীন্দ্রনাথ ব্রাহ্ম সমাজের অনুসারী। মুফতি ফয়জুল্লাহ বিষয়টি পার্থক্য ধরতে না পারায়, ওরা বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষও করলো। আসলে একজন মানুষ অনেক কিছু নাই জানতে পারে, এটা দোষের কিছু নয়। যেমন ঐ নাস্তিকরা অনেক কিছু জানে না বা পারে না। এরা সারা জীবন ইসলামের বিরোধীতা করে, মরার পর মুফতি ফয়জুল্লাহদের ভাড়া করে নিয়ে যায়, তখন নাস্তিকদের জ্ঞান ও ধর্মীয় পরিচয়ের আসল সংকট ধরা পরে।
যাই হোক, রবীন্দ্রনাথ কি আসলেই ব্রাহ্ম সমাজের অন্তুভূর্ক্ত ছিলো, নাকি হিন্দু ছিলো, সেটা নিয়ে আলোচনার দরকার আছে। আমি অনেক আগে একটা স্ট্যাটাসে বিষয়টি নিয়ে লিখেছিলাম, এখন শুধু কপি করে স্ট্যাটাসটা বসিয়ে দিলাম, পড়ে দেখুন-
--------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে একটা ভুল ধারনা সবার মধ্যেই আছে, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু নয়, পুরোদস্তুর ব্রাহ্ম সমাজের অন্তর্ভূ্ক্ত ছিলেন। আমিবিষয়টি এ কারণেই ভুল বলছি, রবীন্দ্রনাথ কত পার্সেন্ট ব্রাহ্ম সমাজ এবং কত পার্সেন্ট হিন্দু সমাজের অন্তুর্ভূক্ত ছিলেন সেটা যাচাই করারদরকার আছে।
আসলে ব্রাহ্ম সমাজ ছিলো ব্রিটিশদের বানানো একটি নতুন ধর্ম, হিন্দুদের মধ্য হতে অনেকেই ব্রিটিশ বেনিয়াদের থেকে অতিরিক্ত সুবিধাআদায় করতে উপরে উপরে সেই ধর্মে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা ছিলেন পুরো দস্তুর হিন্দুয়ানী। ঠাকুর পরিবারও তারব্যতিক্রম ছিলো না।
রবীন্দ্রনাথের বাবা দেবেন্দ্রনাথকে বলা হয় ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারক ও দার্শনিক (উইকি দেখুন) অথচ ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। পুরো পরিবারকেদুর্গা পূজার ব্যবস্থা করে দিয়ে নিজে একটু আড়লে থাকতেন এই আরকি। (সূত্র: বসন্তকুমার চট্টপাধ্যায়ের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের জীবনস্মৃতি,১৯২০ পৃষ্ঠা: ৩৬)। নিজে ব্রাহ্ম দাবি করলেও বাবার শ্রাদ্ধ হিন্দু পদ্ধতিতেই করেছেন দেবেন্দ্রনাথ। ব্রাহ্মদের মধ্যে পৈতা ত্যাগ করা জরুরীছিলো, অথচ রবীন্দ্রনাথকে অনুষ্ঠান করে পৈতা দেওয়া হয়েছিলো (সূত্র: এ এক অন্য ইতিহাস, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা)। শুধু তাই না,ব্রাহ্ম সমাজে জাতিভেদ নিষিদ্ধ। অথচ রবীন্দ্রনাথের পৈতা পরার অনুষ্ঠানে রাজনারায়ণ বসু নামক এক ব্যক্তিকে শূদ্র বলে অপমানিত করেবের করে দেওয়া হয়। (রাজনারায়ন বসুর লেখা আত্মচরিত, পৃ:১৯৯)
আসলে ব্রাহ্ম সমাজের দাবি করেও রবীন্দ্রনাথের আচরণ ছিলো গোড়া হিন্দুদের মত। তাই গোড়া হিন্দুদের মত সতীদাহ প্রথাকে সমর্থন করেকবিতাও লিখেছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
“জ্বল জ্বল চিতা ! দ্বিগুন দ্বিগুন
পরান সপিবে বিধবা বালা
জ্বলুক জ্বলুক চিতার আগুন
জুড়াবে এখনই প্রাণের জ্বালা
শোনরে যবন, শোনরে তোরা
যে জ্বালা হৃদয়ে জ্বালালি সবে
স্বাক্ষী রলেন দেবতার তার
এর প্রতিফল ভুগিতে হবে” (জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জ্যোতিন্দ্রনাথের নাট্য সংগ্রহ, কলকাতা: বিশ্ব ভারতী ১৯৬৯, পৃষ্ঠা: ২২৫)
তবে শুনতে খারাপ শোনা গেলেও এটা সত্য, রবীন্দ্রনাথের পৈতৃক ব্যবসার মধ্যে অন্যতম সফল ব্যবসা ছিলো পতিতালয় ব্যবসা।রবীন্দ্রনাথের দাদা দ্বারকানাথের কলকাতা নগরীতে ৪৩টা বেশ্যালয় ছিলো। এছাড়া ছিলো মদ আর আফিমের ব্যবসাও। (সূত্র: আনন্দবাজারপত্রিকা, ২৮ কার্তিক, ১৪০৬। এ এক অন্য ইতিহাস, অধ্যায়: অসাধারণ দ্বারকানাথ, লেখক: গোলাম আহমদ মর্তুজা, পৃষ্ঠা: ১৪১)
তবে রবীন্দ্রনাথ পতিতাদের মধ্যেও যে সাহিত্য রস খুজে পেয়েছেন সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় বুড়িগঙ্গার পাশে বিখ্যাতগঙ্গাজলী’র (একটি এলাকার নাম যেখানে ঐ সময় বিশাল পতিতালয় ছিলো) পাশে এসে লিখেছিলো “বাংলার বধূ বুকে তার মধু”।
সত্যিই কথা বলতে, ঐ সময় কলকাতায় বিশেষ কারণে যৌনরোগ সিফিলিস খুব কমন ছিলো। তাই ১৯২৮ সালে অবতার পত্রিকায় কবিগুরুরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সিফিলিস রোগের খবরটা তেমন গুরুত্ব পায় নি। (রবীন্দ্রনাথের সিফিলিস হয়েছিলো এর সূত্র: বই-নারী নির্যাতনেররকমফের, লেখক: সরকার সাহাবুদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা: ৩৪১, বইটি কিনতে চাইলে:http://www.boi-mela.com/
আজকাল ভারতের উগ্র জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি প্রায়ই বলে থাকে ভারতের সকল মুসলমানই হিন্দু। একথাটা কিন্তু ভারতের জাতীয় কবিরবীন্দ্রনাথই প্রথম চালু করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: মুসলমানরা ধর্মে ইসলামানুরাগী হলেও জাতিতে তারা হিন্দু। কাজেই তারা ‘হিন্দুমুসলমান’। (সূত্র: আবুল কালাম শামসুদ্দিনের লেখা অতীত দিনের স্মৃতি, পৃষ্ঠা: ১৫০)
অনেকেই এটা জানে না, ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সূচনা হয়েছিলো জোড়াসাকোর ঠাকুর পরিবারের হাত ধরেই। তাদের অর্থায়নে সূচিতহয়েছিলো ‘হিন্দু মেলা’ (দেখতে পারেন বাংলাপিডিয়া: http://goo.gl/rrLTCN)। পরবর্তীতে এ হিন্দু মেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে `জাতীয়সভা'। এসভায় কোন ভাবেই কোন মুসলমান, খ্রিস্টান ও নিম্নবর্ণের হিন্দু প্রবেশ করতে পারতো না। হিন্দুমেলার প্রধান ব্যক্তিত্ব ছিলেন ঠাকুরপরিবারের সদস্যরা, আর কবি রবিন্দ্রনাথ
---------------------------------------------------
--আমার ফেসবুক পেইজ Noyon Chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
--আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/)

No comments