কাসিম বিন আবু বাকার কি আমাদের অনেক কিছু ভুলিয়ে দিচ্ছে ?
বাংলাদেশে এখন প্রতিবাদের একমাত্র মাধ্যম ফেসবুক মিডিয়া। এই ফেসবুক বন্ধ করতে বেশ কয়েকবার ততপর হয় সরকার। কিন্তু পাবলিকের চরম সেন্টিমেন্টের কথা চিন্তা করে হয়ত সে দিকে পা বাড়ায়নি। কিন্তু সম্প্রতি ফেসবুকে এমন কিছু ইস্যু নিয়ে আসা হয়েছে যা পাবলিকের সচেতনামূলক পোস্ট থেকে সেন্টিমেন্ট ঘুড়িয়ে দিয়েছে অন্যদিকে। সেরকম একটি ইস্যু হলো কাসিম বিন আবু বাকার ইস্যু। আমি কাসিম বিন আবু বাকারের একটা সাক্ষাতকার দেখলাম বাংলাট্রিবিউন লাইভে, দেখে লোকটার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা জাগেনি, এই নিম্নরূচির লোকটাকে কেন ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া হাইলাইট করছে সেটা বুঝতে বেশি কষ্ট হওয়ার কথা নয়।
যাই হোক, আপনাদের মনে থাকার কথা- ভারতের সফরের আগে আওয়ামী সরকার কিন্তু বলেছিলো ভারতের সাথে সামরিক চূক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার ভারত সফর শেষ হওয়ার পর শুধু শেখ হাসিনা বললেন- ``আমার উপরে বিশ্বাস রাখুন, আমার দ্বারা দেশের কোন ক্ষতি হবে না“। ব্যস ! এই হলো চূক্তির বর্ণনা ! শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত এপিএস মতিয়ুর রহমান রেন্টুর লেখা বই- আমার ফাঁসি চাই‘ এ শেখ হাসিনার একটি বক্তব্য কিন্তু সবার মনে থাকার কথা। সেখানে শেখ হাসিনা বলেছিলেন- ``বাংলাদেশের আর্মিরা। জানোয়ারের দল, অমানুষের দল। এই অমানুষ জানোয়ারেরা আমার বাবা-মা-ভাই সবাইকে মেরেছে–এদের যেন ধ্বংস হয়।‘‘ ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার আমালে বিডিআর বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে। বলা হয়- বিডিআর বিদ্রোহে সেনাবাহিনীর যত সেনাকর্মকর্তা নিহত হয়েছে, কোন বিশ্বযুদ্ধেও এক সাথে এত সেনাকর্মকর্তা মারা যায়নি। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে প্রধানমন্ত্রীর উপর ভরসা রাখা আসলেই কষ্ট। তবে ভুল আমাদেরই । আমরা ডুবে আছি গ্রাম্যপ্রেম সাহিত্যিক কাসিম বিন আবু বাকারকে নিয়ে, কিন্তু দেশ গোল্লায় যায়, যাক।
শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর মিডিয়ায় আসে হাওরের ইস্যু নিয়ে। হাওরের ইস্যুকেও আমার কাছে গণ্ডগোল মনে হয়েছে। মিডিয়া হাওরের ইস্যুকে কৌশলগত অন্যদিকে নিয়ে গেছে। প্রথমে কিছু মিডিয়া ভারত থেকে ক্ষতিকারক কিছু ভেসে আসা বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে কোন মিডিয়া বিষয়টি টেনে নিয়ে যায়নি। কেন করেনি ?? বরং ইস্যু ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারী কর্মকর্তাদের দুর্নীতি টেনে এনেছে। সরকারী কর্মকর্তারা দুর্নীতি করে, এটা চিরন্তন সত্য। আওয়ামীলীগের আমলেও করে, বিএনপির আমলেও করে। কিন্তু ভারত থেকে কিছু ভেসে এসেছে, এই বিষয়টি এড়িয়ে বাধ নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়টি হাইলাইট করাকে আমার কাছে কোন কিছুকে লুকিয়ে ফেলা মনে হয়েছে। কারণ গত কয়েকদিন আগে আমি এক কৃষকের সাক্ষাতকার প্রকাশ করি। সেখানে কৃষক একটা কথা বলেছিলো- বাধপুননির্মাণ করলেও পানি ঠেকানো সম্ভব ছিলো না। পানি অনেক উপর দিয়ে এসেছে। অপরদিকে কৃষক বলেছে- পানিতে লাল কিছু ভেসে এসেছে, তা তীব্র ঝাঝালো গন্ধ, যার কারণে অনেকের বমি হয়। এই লাল বস্তুর কারণেই মাছের মড়ক হয়। ভারতীয় ঢল থেকে কি বস্তু ভেসে আসে, এটা নিয়ে চাইলেই বাংলাদেশী মিডিয়া রিপোর্ট করতে পারতো, কিন্তু সেটা তারা কৌশলে এড়িয়ে গেছে। কিন্তু কেন গেছে সেটাই প্রশ্ন। তবে এটা নিশ্চিত, ঐ সময় (মার্চের ২৮-২৯ তারিখ, শেখ হাসিনার ভারত সফরের ১ সপ্তাহ আগে) বাংলাদেশে তুমুল আলোচনা চলছিলো- তিস্তার পানি নিয়ে। সবাই ভারতের কাছে পানি চাচ্ছিলো। সেটাই হিংসুটে ভারত দেখিয়েছে- `পানি চেয়েছিস ! এই নে পানি (মেঘালয় দিয়ে)। এমন পানি দেবো, যেন সারা জীবন মনে রাখিস।‘
লেখা আর বাড়াবো না। গত কয়েকদিন আগে অনলাইনে বাংলাদেশে এক বন্ধুর সাথে আলাপ করছিলাম। বন্ধুর একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তা । বন্ধুর কাছে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা দু:খ প্রকাশ করে বলেই ফেলেছেন- ভারতের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা হারানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভারত সরকার ও বাংলাদেশে তাদের দালালরা এ ব্যাপারে কোন ছাড় দেবে না।“
---------------------------------------------------
--আমার ফেসবুক পেইজ Noyon Chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
--আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/)
No comments