প্রসঙ্গ : সিআইএ’র প্রজেক্ট নারীবাদ, ব্যাখ্যা
কয়েকদিন আগে ‘নারীবাদ’কে সিআইএ’র প্রজেক্ট বলায় কিছু নারীকে দেখলাম মাই্ন্ড করেছে। আসলে ফেসবুকে বসলে আমার কোর্টের জবানবন্দীর কথা মনে পড়ে। কোন আসামী/বাদী/সাক্ষীকে যখন কাঠগড়ায় দাড় করানো হয়, তখন কাটগড়ার দেয়ালে ঝুলানো সেই বাণী পড়ানো হয় - “যাহা বলিবো সত্য বলিবো সত্য বৈ মিথ্যা বলিবো না।” আমিও চেষ্টা করি, ফেসবুকে বসার আগে অন্তত সেই বাণীখানা পাঠ করে নিতে। তবে সত্য বললে অনেকের মনে কষ্ট লাগাটা স্বাভাবিক। এজন্য আমিও দুঃখিত, কিন্তু সত্য বলা থেকে পিছপা হই কি করে, বলুন ?
বলছিলাম “সিআইএ’র প্রজেক্ট নারীবাদ” নিয়ে। আসলে এখানে আরেকটা ব্যাখ্যার দরকার আছে। আরো খুলে বললে- নারীবাদ কুচক্রী ইহুদীদের একটা প্রজেক্ট, যেহেতু বর্তমানে ইহুদীরা আমেরিকার উপর ভর করেছে, তাই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সেই প্রজেক্ট বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এ কারণেই বলেছি- সিআইএ’র প্রজেক্ট নারীবাদ।
হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক অ্যারন রুশো এক সাক্ষাৎকারে ফেমিনিস্ট বা নারীবাদীদের মুখোশ উন্মোচন করেছিলো। তার মতে নারীবাদীদের পরিচালনা করে সিআইএ এবং অর্থ দেয় ইহুদী ধনকুবের রকফেলার পরিবার। এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে তাদের নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার বাস্তবায়ন। ‘নারীবাদ’ নামক কথিত আন্দোলনের পেছনে রুশো দুটি কারণ দাড় করিয়েছিলো-
১) সমাজের অর্ধেক জনসংখ্যা(নারী)কে ট্যাক্স দাতা বানানো।
২) পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে দেয়া। সমাজে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করা।
(সূত্র:https://youtu.be/zCpjmvaIgNA, http://bit.ly/2uhRJ1i)
২) পারিবারিক বন্ধন ভেঙ্গে দেয়া। সমাজে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করা।
(সূত্র:https://youtu.be/zCpjmvaIgNA, http://bit.ly/2uhRJ1i)
এখানে আপনার জেনে রাখার প্রয়োজন- ইহুদীদের একটা কাজ হচ্ছে সমাজের মধ্যে শ্রেণী বিভেদ সৃষ্টি করা। এবং এর মাধ্যমে একটি গোষ্ঠীকে অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরী করে সমাজকে বিশৃঙ্খল করা। এতে ঐ সমাজ কখন উন্নত হতে পারবে না, এবং এর আলেটিমেট ফল ভোগ করবে ইহুদীরা, মানে তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হবে।
ধর্ম (বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম) যেখানে বলছে, নারী হচ্ছে পুরুষের অর্ধাঙ্গ। দুই জনে মিলে সমাজ তৈরী হয়। কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- “বিশ্বে যা কিছু মহান সৃস্টি, চির কল্যানকর অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”। সেখানে নারীবাদীদের কাজ হচ্ছে, নারীর অধিকারের কথা বলে নারী ও পুরুষের মধ্যে শত্রুতা তৈরী করা। আর যে সমাজে নারী ও পুরুষ পরষ্পরের শত্রু, সে সমাজ কখনই উন্নত হবে না।
কয়েকদিন আগে ট্র্যাম্পের নারীবিরুদ্ধ আচরণ নিয়ে নারীবাদীরা আন্দোলন-বিক্ষোভ করেছিলো (http://bit.ly/2uc8OtQ)। পরে বুঝেছিলাম, বিষয়টা হলো নেগেটিভ মার্কেটিং। অর্থাৎ বিতর্কিত বিষয় দিয়ে আলোচনায় আসা। সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলো বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম নারীবাদী গ্লোরিয়া স্টাইনেম। প্রায় দেখি বাংলাদেশের তসলিমার গ্রুপগুলো গ্লোরিয়া স্টাইনেম এর একটি উক্তি ব্যবহার করে- “সে-ই স্বাধীন মেয়ে, যে বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করে, আর বিয়ের পরে, চাকরি”। যাই হোক, এই গ্লোরিয়া স্টাইনেম কিন্তু এক সময় সরাসরি সিআইএ সদস্য হয়ে কাজ করেছেন । যা সে নিজ মুখে স্বীকার করেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই সে নারীবাদী নেত্রী হয়ে উঠলো সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। (https://youtu.be/4HRUEqyZ7p8, http://bit.ly/2nwdirD)
আসলে নারীবাদ বিভিন্ন যায়গায়, বিভিন্ন পরিবেশে, নারীকে বিভিন্নভাবে বিপথে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে সর্বক্ষেত্রেই তাদের মুখোশ থাকে নারীর অধিকার আদায়। যেমন- বর্তমানে বাংলাদেশের পাঠ্যপুস্তকে ‘ও’তে ওড়না নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে নারীবাদীরা। তারমানে বাংলাদেশে নারীবাদীরা চায় নারীর বুক থেকে ওড়না উঠে যাক। আবার ঐ নারীবাদীরই কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকায় আন্দোলন করছে “ফ্রি দ্য নিপল মুভমেন্ট” (http://bit.ly/1HIIibp)। এই আন্দোলন হচ্ছে নারীর স্তনের মাঝের নিপল অংশকে আড়াল থেকে মুক্ত করা।
মানে বাংলাদেশের সমাজে ট্যাবু ধরা হয় নারীর আড়াল করা বক্ষের স্ফিত অংশকে। তাই সেটা ওড়না দিয়ে আড়াল করা হয়। আর ইউরোপ-আমেরিকায় বিকিনি পরিহিতা নারী শুধু ‘নিপল’ অংশটুকু ঢেকে রাখলে তাকে সভ্য মনে করা হয়। সেখানে নিপলটা ট্যাবু। তাই সেটাকে সরিয়ে দিতে সেখানকার নারীবাদীরা আন্দোলন করে। কিন্তু আজকে যাদের কথা শুনে ‘ও’ তে ওড়না তুলে দেওয়া হলো, আগামীকালকেই কিন্তু তাদের আন্দোলন হবে, “আপনার কন্যার নিপলখানা বের করুন” ।
মানে বাংলাদেশের সমাজে ট্যাবু ধরা হয় নারীর আড়াল করা বক্ষের স্ফিত অংশকে। তাই সেটা ওড়না দিয়ে আড়াল করা হয়। আর ইউরোপ-আমেরিকায় বিকিনি পরিহিতা নারী শুধু ‘নিপল’ অংশটুকু ঢেকে রাখলে তাকে সভ্য মনে করা হয়। সেখানে নিপলটা ট্যাবু। তাই সেটাকে সরিয়ে দিতে সেখানকার নারীবাদীরা আন্দোলন করে। কিন্তু আজকে যাদের কথা শুনে ‘ও’ তে ওড়না তুলে দেওয়া হলো, আগামীকালকেই কিন্তু তাদের আন্দোলন হবে, “আপনার কন্যার নিপলখানা বের করুন” ।
যাই হোক আবার আলোচনায় ফিরে আসি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রথম নারীবাদী দেখা যায় বেগম রোকেয়াকে। আমি একটা কথা শুরুতেই বলেছি, বর্তমানে ইহুদীরা ভর করেছে আমেরিকার উপর। রোকেয়ার সময় ইহুদীরা ভর করেছিলো ব্রিটিশদের উপর। বেগম রোকেয়া ঐ সময় ব্রিটিশ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিলো।
আমি আরেকটা কথা বলেছি- নারীবাদীরা যখন যে পরিবেশে যায়, সে পরিবেশ অনুসারে বুঝেশুনে কাজ করে। মানে এখন যদি নারীবাদীরা বাংলাদেশে ফ্রি দ্য নিপল আন্দোলন করে তবে নির্ঘাৎ মাইর খাবে। তাদের টার্গেট এখন ওড়না সরানো, নিপল দেখানো নয়। বেগম রোকেয়া যখন ‘নারীবাদ’ শুরু করে, তখন সে ভুলেও ধর্মের বিরুদ্ধে বলে নাই, কারণ ঐ সময় মুসলমানরা অনেক বেশি ধার্মীক ছিলো। সে বোরকা-পর্দার বিরুদ্ধেও বলে নাই। যদি বলতো সে মাইর ভিন্ন অন্যকিছু খেতো না। কিন্তু সে অতি কৌশলে ইসলামের কথা বলে, পর্দার কথা বলে নারীকে শুধু ঘরের বাইরে বের করে আনতে চেয়েছে। বলাবাহুল্য, ঐ সময় মুসলিম সম্ভ্রান্ত নারীরা ঘরের ভেতর শিক্ষক এনে পর্দার সাথে নিজস্ব সিস্টেমে লেখাপড়া করতো। কিন্তু পানিদস্যু ব্রিটিশরা এসে মুসলমানদের উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নতুন ফেউ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করে (বিস্তারিত জানতে-http://bit.ly/2tPSjAX)। ঘরের বাইরে নিম্ন কোয়ালিটির সেই শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলিম সম্রান্ত নারীদের আনা ছিলো অনেক কষ্টকর। সেই কষ্টের কাজটি করেছিলো বেগম রোকেয়া। ধর্মের বিরোধীতা করে নয় পক্ষে বলে; পর্দার বিরোধীতা করে নয়, পক্ষে বলে; জাস্ট ঘরের বাইরে বের করুন, বাকিটা পরে দেখা যাবে।
বাংলাদেশে আরেক নারীবাদীর নাম বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান, যে পঞ্চাশের দশক থেকে নারীবাদের জন্য কাজ করে। ঐ পত্রিকাটিও কিন্তু ভুলেও ইসলামের বিরুদ্ধে বলতো না, বরং সারাদিন ইসলামের পক্ষে সাফাই গাইতো, কারণ ঐ সময়ও সমাজ ছিলো অনেক ধার্মীক। কিন্তু তাদের একটি কাজ ছিলো ঘরে ঘরে গিয়ে মুসলিম নারীদের ছবি তুলে বেগম পত্রিকার মাধ্যমে মানুষের সামনে প্রকাশ করা। এর আগে এ অঞ্চলে কোন পত্রিকায় কোন নারীর ছবির কথা কল্পনাই করা যেতো না। গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, সেই ১৯৫৪ সালেই মার্কিন ইহুদী ফেমিনিস্ট আইদা আলসেথ ঢাকায় এসেছিলো বেগম পত্রিকা অফিস পরিদর্শন করতে। এ থেকে বোঝা যায় নারীবাদীদের কেন্দ্রটা আসলে কোথায় ( এ সম্পর্কে বিস্তারিত-http://bit.ly/2tQ1h1k)
যাই হোক, স্ট্যাটাস আর বড় করবো না। নারীবাদীদের মুখোশ উন্মোচনে আরো অনেক তথ্য আছে। তবে আশা করছি, এতটুকু তথ্যেই- “নারীবাদ সিআইএ তথা ইহুদীবাদীদের প্রজেক্ট” সেটা অনেকে অনুধাবন করতে সমর্থ হবে।
---------------------------------------------------
--আমার ফেসবুক পেইজ Noyon Chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
--আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/
No comments