Header Ads

ad728
  • Breaking News

    সালোয়ার কামিজ-ওড়না-শাড়ি ফেলে ইউরোপীয় ধাচের পোষাক পরতে ইচ্ছা করলে ইউরোপে চলে যান



    ওয়েম্যান চাপ্টার নামক এক ওয়েবপোর্টালে একটা লেখা পড়লাম-
    লেখার শিরোনাম- ওড়নাটা ফেলে দিলে কি খুব খারাপ হবে। 
    (https://womenchapter.com/views/21877)

    লেখার ভেতরে লেখিকা- সালোয়ার কামিজ-ওড়না পড়লে বাসে, লঞ্চে কিংবা রাস্তায় বিভিন্ন দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে ধরেন। এবং বলেন- বাংলাদেশের নারীরা যেন সালোয়ার কামিজ-ওড়না এবং শাড়িকে শুধু উৎসবের পোষাক হিসেবে ব্যবহার করে, বাকি সময়টা ইউরোপীয় ধাচে টিশার্ট-জিন্সপ্যান্ট পরে (তিনি নিজেও জিন্স প্যান্ট পরে ছবি দিয়েছেন)। এ পোষাক পরলে নারীরা নাকি অধিক নিরাপদ থাকবে।

    লেখিকা সালোয়ার কামিজ ওড়না পরে লঞ্চডুবির কথা আনতেই আমার ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুরের কথা মনে পড়ে গেলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের পুকুরে ডুবে প্রায় প্রতি বছর একটা-দুটা করে ছাত্র মারা যায়। এটা নিয়ে অনেক গাল-গল্পও আছে। তবে হলের মামারা ফি-বছর মৃত্যু দেখে বলতেন- ছাত্রদের এই মৃত্যুর প্রধান কারণ জিন্স প্যান্ট। জিন্স প্যান্ট পরে সাতার কাটতে গিয়েই পানিতে ডুবে মৃত্যু হতো তাদের। এটা সবারই জানা-জিন্সপ্যান্ট পানিতে ভিজলে প্রচণ্ড রকমের ভারি হয়ে যায়, তখন অতি সাতারুরও কষ্ট হয় ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া। তাই লঞ্চডুবি থেকে বাঁচতে সালোয়ার কামিজ-ওড়না খুলে আরো মরার জন্য জিন্স প্যান্ট পরার পরামর্শ তিনি কেন দিচ্ছেন, সেটাই আমার বুঝে আসছে না। তবে লঞ্চ দুর্ঘটনার কথা যখন বলবেন, তখন আরো বলতে হয়- ঐ লঞ্চে তো অনেক পুরুষ থাকে যারা শার্ট-প্যান্ট পরিহিত থাকে, তাদের শার্ট-প্যান্ট কেন লঞ্চ ডুবি থেকে তাদের রক্ষা করে না ? তারাও কেন ডুবে যায় ?

    লেখিকা রাস্তা চলতে, গাড়িতে, লঞ্চে ওড়নাকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, লেখিকা যদি কোন পোষাকই না পরেন তবে আরো ভালো, তাহলে কোন কিছুই বাধা হয়ে দাড়ালো না। কথায় বলে- “ন্যাংটার নাই বাটবারের ভয়”। মানে তিনি সম্পূর্ণ পোষাকছাড়া থাকলে তার হিসেবে ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভবনা শূণ্য !!

    একটা খবর প্রায় দেখি- অটোরিক্সায় ওড়না পেচিয়ে নারীর মৃত্যু। আমি এ ক্ষেত্রে কিন্তু ওড়না নয়, মেয়েটিকে দায়ী করবো। ধরুন, আপনার চোখে সমস্যা আছে। চশমা ছাড়া কিছু দেখেন না। কিন্তু বাইরে বের হলে, ফ্যাশন করে আপনি চোখের চশমা কপালে তুলে রাখেন। একদিন হঠাৎ চোখে না দেখতে পেয়ে আপনি ম্যানহলে পড়ে গেলেন, এখন দোষ কি চশমার ? নাকি আপনার চশমার অপব্যবহারের ?
    ঠিক ওড়নার ব্যবহারটাও সেরকম। আজকালকার মেয়েরা বুকের ওড়না গলায় ঝুলিয়ে রাখে। এতে ওড়নার দৈর্ঘ্য যথেষ্ট সুযোগ পায় পেছন দিয়ে অটো রিকশার পেছনে মেশিনে আটকে গলায় ফাঁস তৈরী করতে। ঐ মেয়েটি যদি ওড়না দিয়ে শরীরটা একবার পেচিয়ে রাখতো (যেভাবে মাথায় কাপড়ও থাকে, আবার শরীরও ঢাকে) তবে ওড়নার অতিরিক্ত দৈর্ঘ্য থাকার কথা নয় মোটেও।

    লেখিকা, ইউরোপের নারীর কথা এনেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ইউরোপ আর এ অঞ্চলের নারী অধিকারের বিষয়টি কখনই মিল খাবে না। ইউরোপের নারীবাদীরা নারীদের বুক খোলা রাখার জন্য আন্দোলন করে (ফ্রি দ্য নিপল মুভমেন্ট) । কিন্তু এ অঞ্চলের নারী অধিকারকর্মীরা আন্দোলন করে নারীর বুক ঢেকে রাখার জন্য। এর বহু ইতিহাস পাওয়া যায়। ইতিহাস বলে- কয়েকশ বছর আগে ভারতে শুধু হিন্দু ব্রাহ্মণ নারীরা বুক ঢাকার অধিকার পেতো, কিন্তু হিন্দুদের অন্যগোত্রগুলো পেতো না। তাদের উদ্ধাঙ্গ উন্মুক্ত রাখতে হতো। যদি কোন নারী বুক ঢাকতো তবে তাকে এক ধরণের ট্যাক্স দিতে হতো, যাকে বলে ‘স্তনকর বা ব্রেস্টট্যাক্স’। বুকে কাপড় দেওয়ার অধিকার আদায়ের জন্য এ অঞ্চলের হিন্দু নারীদের বেশ আন্দোলন করতে হয় এবং এক পর্যায়ে সে অধিকার আদায়ের জন্য তারা ১৮৬৯ সালে একটি দাঙ্গাও করে, যা ইতিহাসে কাপড়ের দাঙ্গা নামে পরিচিত ।( http://bit.ly/2vnJXnG)
    নারীবাদী লেখিকা এ অঞ্চলের নারীদের ইউরোপী ধাচে পোষাক পরার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন। আমি বলবো- এর মাধ্যমে তিনি এ অঞ্চলের নারী অধিকারকর্মীদের বহু কষ্ট করে পাওয়া সাফল্য ধূলিস্যাৎ করে দিতে চেয়েছেন। তিনি কি এ অঞ্চলের নারীদের বন্ধু না শত্রু ?
    তার সালোয়ার কামিজ-ওড়না-শাড়ি ফেলে ইউরোপীয় ধাচের পোষাক পরতে ইচ্ছা করে, ভালো কথা। সে ইউরোপে চলে যাক, বাংলাদেশে কেন ?

    শেষ করবো, লেখিকার “সালোয়ার কামিজ তো পাকিস্তানের কথা মনে করায়” উক্তি দিয়ে। আমি বলবো- সালোয়ার কামিজ মুক্তিযুদ্ধের কথাও মনে করায়। কারণ নারী মুক্তিযোদ্ধা লিখে গুগলে সার্চ দিলে ৭১ সালে অনেক নারী মুক্তিযোদ্ধার ছবি পাওয়া যায় তারা সালোয়ার কামিজ-ওড়না ও শাড়ি পরিহিতা ছিলো। কিন্তু একজনও নারী পেলাম না যে শার্ট-প্যান্ট পরিহিতা। তাই আমার মনে হয়, লেখিকা বাংলাদেশের নারীদের “সালোয়ার কামিজ-ওড়না ও শাড়ি” খুলে শার্ট-প্যান্ট পরার পরামর্শ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধেই কথা বলেছেন, এজন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত।


    ---------------------------------------------------
    --আমার ফেসবুক মূল পেইজ Noyon Chatterjee 5
    (https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
    --পেইজ কোড- 249163178818686 ।

    --আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728