একজন নারীকে ফুলের বাগান থেকে তুলে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করলো দৈনিক প্রথম আলো
দৈনিক প্রথম আলোতে একটা খবর (http://bit.ly/2f7nLYk) আপলোড করা হয়েছে-
যার শিরোনাম- আমার নাম কোথায় ?
খবরের ভেতর পড়লে যে কেউ ভাববে,
হয়ত এ লেখার মাধ্যমে নারীদের অধিকার আদায়ের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবতা, এ লেখায় একজন নারীকে ফুলের বাগান থেকে তুলে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আসুন বিস্তারিত আলোচনা করি।
লেখার মধ্যে যে পয়েন্টগুলো এসেছে-
১) আফগান আইনে সন্তানের জন্ম সনদে মায়ের নামে নয়, বাবার নামে পরিচিত থাকতে হবে। নারী অধিকারকর্মীরা এ আইন ভাঙ্গতে কাজ করছে।
২) আফগানিস্তানে নারীদের নিজের নামে ডাকা হয় না, ডাকা হয় বাড়ির কোন পুরুষের সাথে সম্পর্কে পরিচয়ে । নারী অধিকার কর্মীরা নাকি চাচ্ছে- তাদের নাম প্রকাশ্যে ডাকা হোক।
৩) নারী অধিকার কর্মীদের দাবি- এর মাধ্যমে নাকি তাদের পরিচয় অস্বীকার করা হয়। অনেক পুরুষ তার স্ত্রী নাম প্রকাশ্যে বলতে চান না, লজ্জা পান। এটা নাকি কুসংস্কার। বড়দের থেকে এটাই নাকি শুনে এসেছেন।
৪) খবরে একজন বলেছে- “ইসলামে কোথাও নারীদের নাম গোপন করতে বলা হয়নি। যদি নাম গোপনের বিষয় থাকত, তাহলে ইসলামে নবীদের স্ত্রীদের নাম আমরা কীভাবে জানলাম?
৫) ঐ দলের সদস্য একজন বলছে- ‘কারও মা, বোন, মেয়ে বা স্ত্রী হওয়ার আগে আমি একজন নারী ও মানুষ। আমি আমার নিজের নামে পরিচিত হতে চাই। বাড়িতে, স্কুলে, ঘরে, বাজারে সব জায়গায় অন্যের পরিচয়ে নিজেকে দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত।’
৬) আরেকজন বলছে- “জানাজার সময়, এমনকি কবরের গায়েও নারীদের নাম উল্লেখ করা হয় না। নারী মৃত্যুর পরও নামহীন থেকে যান। এটা খুবই বেদনাদায়ক।”
প্রথম আলোর এ লেখাটা ফেসবুক পেইজে (http://bit.ly/2w5lctE) দেওয়ার পর, ঋষিরাজ চৌহান নামক এক ভারতীয় হিন্দু কমেন্ট করেছে- “ইসলাম নাকি নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, লোল !! কিভাবে ?”
ঋষিরাজ চৌহান প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আমাদের জানতে হবে, সম্মান কাকে বলে ? সম্মান কিভাবে পায় ?
প্রথম আলোর আর্টিকেলটার দিকে খেয়াল করুন, (১) নম্বর পয়েন্ট মানে, ‘পিতার নামে সন্তানের জন্মসনদ’, আফগান এ আইন কিন্তু ঠিক আছে। মানুষ পরিচিত হয় বাবার দ্বারা, আর পশু পরিচিত হয় পশুর মায়ের দ্বারা। এর কারণ মানুষের মধ্যে বৈধ-অবৈধ বাছ-বিচার আছে। কোন নারীর সন্তান হলে বাবার নাম থাকলে বোঝা যাবে কার সন্তান, কিন্তু মায়ের দ্বারা পরিচিত হতে গেলে বাবা নির্দ্দিষ্ট নাও হতে পারে। যারা এসব নিয়ে আন্দোলন করছে, তাদের প্রাথমিক দাবি- জন্ম সনদে বাবা’র সাথে মা’য়ের নাম থাকুক, আর পরের দাবিটাই হচ্ছে- একজন সন্তান মায়ের মাধ্যেমে পরিচিত হবে, বাবার দরকার কি ? সোজা ভাষায় এই দাবিতে- তারা একজন নারীর যততত্র শারীরিক সম্পর্কের অধিকার চায়। ‘যার বাবার পরিচয় নাই- সে জারজ’, পশ্চিমাদের সমাজটাই জারজ। তার মায়ের কয় নম্বর বয়ফ্রেন্ডের সন্তান সে, সেটা তার জানা নাই। কারণ তার মা একাধিক পুরুষের বিছানায় যেতো। ফলে বাবার পরিচয় নেই, মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হতে চায় তারা। একবার শুনেছিলাম- জার্মানদের নাকি অবসর সময়ে গল্পের বিষয় হচ্ছে- ‘কার দাদা কে?’। মুসলিম সমাজের সে সমস্যা নাই। মুসলমানরা তাদের বাবা-দাদা-তার উপরে-তার উপরে সবার পরিচয় জানে। কিন্তু লেজকাটা শিয়ালের মত অন্যের লেজ কাটার জন্য পশ্চিমারা চায়, তাদের মত মুসলমানদের পিতৃ পরিচয় হারিয়ে যাক। এই জন্য মুসলিম সমাজে জন্ম সনদে মায়ের নামের প্রচারণা চালায়। আর বোকা মুসলমানরা তাদের অধিকার পাচ্ছে, এই ভেবে সেগুলো গ্রহণ করে। বাস্তবে একজন সন্তান তার বাবার পরিচয়ে পরিচিত হলে বরং তার মাকে অধিক সম্মান দেয়া হয়। তার মা যে সত্বী সেটাই প্রমাণ হয়। কিন্তু মায়ের দ্বারা পরিচিত হলে, তার মায়ের সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন করাটা স্বাভাবিক। তাই বলছিলাম- সম্মানটা কোথায় আগে সেটা বুঝুন।
এরপর আলোচ্য আর্টিকেলের (২), (৩), (৪), (৫) এবং (৬) নং বিষয়গুলোর দিকে আসি। সবগুলো উত্তর প্রায় একই-“সম্মানটা কোথায় আগে সেটা বুঝুন।”
বেশকিছুদিন আগে, বাংলাদেশের সংসদে বিরোধীদল বিএনপির কেউ বক্তব্য রাখছিলো। বক্তব্যের মধ্যে বার বার হাসিনা’,‘হাসিনা’ নাম উচ্চারণ করছিলো। তখন আওয়ামীলীগের এক সাংসদ (নামটা মনে নেই) দাড়িয়ে বলে উঠে “বেয়াদব ! নাম ধরে বলে।”।
প্রথম আলোর আর্টিকেলটা খেয়াল করুন- নারীদের ‘প্রকাশ্যে’ নাম ধরে ডাকা হয় না। এটা নাকি খারাপ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- কাউকে যদি আপনি সম্মান দেন, তবে তার নামটা প্রকাশ্যে উচ্চারণ না করাই বরং ভদ্রতা। তাদের বিভিন্ন উপাধি, পেশা কিংবা কারো সাথে সম্পর্কের নাম দিয়ে ডাকা তার জন্য সম্মানজনক। যেমন-বঙ্গবন্ধু কন্যা (হাসিনা বললে কি বেশি সম্মান হবে ?), শেরে বাংলা, ডাক্তার সাহেব, স্যার, ইমাম সাহেব, হুজুর, মা, মিসেস চৌধুরী ইত্যাদি।
ভদ্রতা-সভ্যতা বলে এক বিষয় আছে। এগুলোর স্বাভাবিক কিছু নিয়ম আছে। একজন নারীর নাম প্রকাশ্যে উচ্চারণ করলেই তার অধিকার বেশি হবে, এটা সম্পূর্ণ ভুল। বরং একজন মানুষকে সম্মান দিতে চাইলে তার নাম প্রকাশ্যে উচ্চারণ না করে বিভিন্ন সম্পর্ক, উপাধি বা পেশাগত নাম দিয়ে ডাকলে তাকে বেশি সম্মান দেয়া হবে। ইসলাম সেই সম্মানের নিয়মটাই শিখিয়ে দিয়েছে।
(৪) নং পয়েন্টে বলা হচ্ছে-
“ইসলামে কোথাও নারীদের নাম গোপন করতে বলা হয়নি। যদি নাম গোপনের বিষয় থাকত, তাহলে ইসলামে নবীদের স্ত্রীদের নাম আমরা কীভাবে জানলাম?”
একথার মধ্যে বড় একটা ভুল আছে। আপনি মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থগুলো পড়ে দেখবেন- প্রকাশ্যে ডাকা বা সম্বোধন করার সময় মুসলমানদের শেষ নবী স্ত্রীদের নামগুলো কিন্তু প্রকাশ্যে উচ্চারণ করা হয়নি, উপাধি বা কারো সাথে সম্পর্কের ভিত্তি দিয়ে ডাকা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আরবে পুরুষদেরকেও সম্মানের জন্য অমুকের পুত্র, অমুকের বাবা ইত্যাদি নাম ধরে ডাকা হতো। এটা সম্মান দেবার জন্য, হেয় করার জন্য নয়।
যেমন: মুসলমানদের শেষ নবীর একজন স্ত্রী’র নাম আমরা ইতিহাসে পাই ‘হযরত উম্মু সালামা’। কিন্তু এটা কিন্তু তার নাম নয়, তার আসল নাম হিন্দ। উম্মু শব্দের অর্থ মা, আর সালামা হচ্ছে তার একজন ছেলে সন্তানের নাম (আগের ঘরের সন্তান)। কিন্তু ইতিহাসে কিন্তু তাকে সবাই চিনছেন ছেলের নাম অনুসারে মানে ‘উম্মু সালামা’ হিসেবেই। অনেকের নাম হয়ত পরবর্তীতে ইতিহাসে ব্যক্তি হিসেবে সম্পূর্ণ নির্দ্দিষ্ট করতে উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু প্রকাশ্যে ডাকাডাকির জন্য কখনই তা শোভনীয় নয়।
সবার শেষে বলবো-
ফেসবুক পেইজে- ঋষিরাজ চৌহান নামক এক ভারতীয় হিন্দু প্রশ্ন করেছিলো “ইসলাম নাকি নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, লোল ! কিভাবে ?” আমার মনে হয়- আপনারা এতক্ষণে উত্তর পেয়ে গেছেন। হিন্দুরা যেখানে নিজ ধর্মের নারীদের বক্ষকে অনাবৃত রাখতো, কেউ আবৃত করলে তার থেকে ব্রেস্টট্যাক্স নিতো, সেখানে মুসলিম সমাজ নারীকে সম্মান দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে তার নাম ধরে পর্যন্ত ডাকতো না, এবার বুঝুন অবস্থা।
---------------------------------------------------
--আমার ফেসবুক মূল পেইজ Noyon Chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
--আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/

No comments