Header Ads

ad728
  • Breaking News

    কারগিল যুদ্ধের ইতিহাস ও বিজয় উদযাপন নিয়ে কিছু কথা........


    গত ২৬ শে জুলাই কারগিল যুদ্ধ বিজয়ের ১৬ বছর উদযাপন করেছে ভারত। মোদিসহ ভারতের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে আনন্দ খুশি করতে দেখা গেলো। তবে আমি যেহেতু সত্য অনুসন্ধানী, তাই ভারতীয় হিসেবে আমার কাছে কারগিল যুদ্ধ বিজয় উৎযাপন করা নিতান্তই বোকামি। কারণ অপমানিত হওয়ার দিনকে একমাত্র বোকরাই উদযাপন করতে পারে
    একটু ব্যাখ্যা করলে বিষয়টি এরকম দাড়ায়,
    ধরুন বহিরাগত ৫টি লোক আপনার বাসায় কোন কারণে হামলা করলো এবং আপনার বাসা দখল করে নিলো। তখন আপনি আপনার আত্মীয় স্বজনকে ডাক দিয়ে ১০০ জন রেডি করলেন এবং ভারি অস্ত্র নিয়ে জনের মোকাবেলা করলেন। কিন্তু জন ব্যক্তির এতটাই সাহস বুদ্ধি যে আপনাদের ১০০ জনকে ধরে তারা ধরাশায়ী করে ফেললো। উপযুক্ত প্যাদানির পর লোক আবার আপনাদের করুণা করে, তাদের নিজ বাসায় ফিরে গেলো। এখন, বিষয়টি নিয়ে আপনি খুশি করবেন, না আতঙ্কগ্রস্থ হবেন, আপনি বলুন ?
    মূলতঃ ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধে বিজয় বলে কিছুই পায়নি ভারত। যুদ্ধে কাশ্মীরের মুসলিম স্বাধীনতাকামী মাত্র কয়েক হাজার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী একত্রে অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের কারগিল জেলার প্রায় ১০০০ বর্গ মাইল এলাকা দখল করে নিয়েছিলো সেটাকে সামাল দিতে ভারত চর্তুদিক থেকে প্রায় ৩০ হাজার সেনা বিমানবাহিনী জরো করে। কিন্তু চৌকশ সেনাপ্রধান পারভেজ মুশাররফ এবং কাশ্মীরের মুসলিম স্বাধীনতাকামীরা ভারতীয় সেনা বিমানবাহিনীকে এমন প্যাদানি দেয়, যা তারা কল্পনাও করতে পারেনি। পারভেজ মোশাররফ তার জীবনী গ্রন্থইন দ্য লাইন অব ফায়ার’- বলেন, “ভারতের স্বীকৃতি অনুসারে যুদ্ধে প্রায় ৬০০ জন নিহত এবং ১৫০০ লোক আহত হয়। তবে আমাদের কাছে আসা তথ্য অনুসারে প্রকৃত হতাহত সংখ্যা ভারতের স্বীকৃত হতাহতের অন্তত দ্বিগুন হবে। অপ্রত্যাশিতভাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভারতের কফিনের সংকট দেখা দেয়। নিয়ে একটা কেলেঙ্কারীর ঘটনাও পরে ফাঁস হয়ে পড়ে। আমাদের সৈণ্যের সংখ্যা অস্ত্রশস্ত্রের স্বল্পতা সত্ত্বেও আমাদের সৈন্যরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেছে। ভারতীয় হতাহতের সংখ্যাই প্রমাণ করে পাকিস্তান সৈন্য অফিসারদের যুদ্ধ দক্ষতা পেশাদারিত্ব ’’
    কারগিল যুদ্ধ সম্পর্কে বাংলাদেশের দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক সাংবাদিক শাহাদত হোসেন খান তারআজকের বিশ্ব রাজনীতিবইয়ের ১৭২ পৃষ্ঠায় লিখেন:
    সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফ মনে করতেন যে, কারগিল মুজাহিদদের সাথে লড়াইয়ে ভারতের সৈন্যরা পরাজিত হবে। কারণ মুজাহিদরা ১৬-১৮ হাজার ফুট উচুতে পাহাড়ের চূড়ায়। ভৌগলিক সুবিধার জন্য একজন মুজাহিদের পক্ষে ১টি পুরো ভারতীয় ব্যাটেলিয়নকে ঠেকিয়ে রাখা কোন ব্যাপার নয়। পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে এলেই ভারতীয় সৈন্যরা পাখির মত মারা পড়তো। ১০ সপ্তাহের লড়াইয়ে ভারত এত সৈন্য হারিয়েছে যা ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও হারায়নি। মুজাহিদদের বিজয়ে পাকিস্তানে আনন্দের হিল্লোল বয়ে যায়। সকলে মন গর্বে ভরে ওঠে।” ( সম্পর্কে পড়তে পারেন: http://goo.gl/x9NMRQ)
    যুদ্ধের যে সময় পাকিস্তান সেবাহিনী মুজাহিদিনরা যখন অধিকৃত কাশ্মীরের একটি বিরাট অংশ বিজয়ের ঠিক দ্বারপ্রান্তে, ঠিক সেসময় হঠাৎ একটি অঘটন ঘটে যায়। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ যুক্তরাষ্ট্র সফরে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন নওয়াজকে এই বলে ম্যানেজ করে ফেলে যে, “আপনি দেশে গিয়ে অবশ্যই কারগিল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অদ্ভূত মুচলেকায় সই করে দেশে এসেই কারগিল থেকে সেনাপ্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় নওয়াজ। নওয়াজের আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে বিক্ষোভে ফেটে পরে সেনাবাহিনী মুজাহিদিনরা। কেননা, তারা সামান্য কিছু লোক মিলে ভারতের ৪টি ডিভিশনকে একের পর এক বরফের নিচে পুতে ফেলছিলো। আর সেই বিজয়ের মুহুর্তে কিনা পিছু হঠার নির্দেশ ! সত্যিই হতাশাজনক !
    সম্পর্কে বাংলাদেশের দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক সাংবাদিক শাহাদত হোসেন খান তারআজকের বিশ্ব রাজনীতিবইয়ের ১৭২-১৭৩ পৃষ্ঠায় লিখেন:
    প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ওয়াশিংটন গিয়ে কারগিল থেকে সেনা প্রত্যাহারে মুচলেকায় সই করেন। জনগণের নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত জাতিকে মেনে নিতে হয়। .............প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কারগিলের নিশ্চিত বিজয়কে ওয়াশিংটনের কাছে বিক্রি করে দেয়। নওয়াজ শরীফের কূটনৈতিক পরাজয়কে সশস্ত্র বাহিনী প্রধান পারভেজ মুশাররফ জাতির জন্য একটি কলংক হিসেবে গণ্য করেন।
    সত্যি কথা বলতে, কারগিল যুদ্ধে জয় বলতে যদি কিছু থেকে থাকে তবে পুরোটাই কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী মুজাহিদিনদের এবং পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রাপ্য। প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাদের রণে ভঙ্গ দিতে হয়েছে, ইতিহাস এটাই। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৃতিত্ব বলে উল্লেখ করার মত কিছুই ছিলো না। সম্পর্কে পারভেজ মোশাররফ তার জীবনী গ্রন্থইন দ্য লাইন অব ফায়ার’- বলেন:
    ভারত তার যৎসামান্য সামরিক সাফল্যকে গৌরবগাথায় পরিণত করলো। তার একটি হাস্যকর উদাহরণ, বীরত্বের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ খেতাব প্রদান করা হলো একজন সৈনিককে শুধু এই কারণে যে সে দায়িত্বপালনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। পরে জানা গেলো সৈন্যটি এখনও বেচে আছে। আর আমার বলতে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে, আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ (নওয়াজ শরীফ তার সাঙ্গপাঙ্গরা) আভাসে-ইঙ্গিতে বলতে চেয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য প্রকৃতপক্ষে একটা সামরিক বিপর্যয়। এমনকি কোন কোন নেতা, আমাদের সেনাবাহিনীকে একটি দুর্বৃত্ত বলে আখ্যায়িত করেছে।

    উপরের আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্ট, কারগিল যুদ্ধের সাফল্য বলে যেটা ছিলো সেটার ভাগিদার হচ্ছে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী মুজাহিদরা। আর ভারতের জন্য কারগিল যুদ্ধ মানে শুধুই পেদানি খাওয়ার ইতিহাস। তাই কারগিল যুদ্ধ নিয়ে ভারতের খুশি করার কিছুই নেই

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728