রাষ্ট্রপতি হিসেবে এপিজে আবুল কালামকে নিয়ে কিছু কথা
মারা গেছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম।
অনেকের মনেই এপিজেকে নিয়ে নানান প্রশ্ন এসেছে, কেউবা বলছে, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তাই সেখানে নিয়োগ পেয়েছে একজন মুসলিম রাষ্ট্রপতি।’
এ লেখাটি তাদের জন্য, যাদের মন্যে প্রশ্ন জেগেছে, “আসলেই কি ভারতে মুসলিমদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয় ? নিয়োগ দেওয়ার কারণটাই বা কি ?’’
অনেকের মনেই এপিজেকে নিয়ে নানান প্রশ্ন এসেছে, কেউবা বলছে, ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, তাই সেখানে নিয়োগ পেয়েছে একজন মুসলিম রাষ্ট্রপতি।’
এ লেখাটি তাদের জন্য, যাদের মন্যে প্রশ্ন জেগেছে, “আসলেই কি ভারতে মুসলিমদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয় ? নিয়োগ দেওয়ার কারণটাই বা কি ?’’
এপিজে আব্দুল কালাম প্রেসিডেন্ট হয় ২০০২ সালে ২৫ জুলাই। বিজেপির অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় এপিজে আব্দুল কালামকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করে। এখানে লক্ষ্যনীয়, ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চ পর্যন্ত ভারতের গুজরাট রাজ্যে চলে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গা। আর এরপর ২৫ জুলাই নিয়োগ পায় আব্দুল কালাম। যার কারণে বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, আব্দুল কালামকে বিজেপি সাপোর্ট দেওয়ার মানেই হচ্ছে, মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনে এই বলে সান্ত্বনা দেয়া ‘দেখো, আমরা মুসলিম দরদি, তাই একজন মুসলিমকে রাষ্ট্রপতি করা হয়েছে’।
‘এপিজে আব্দুল কালাম’ নামক অস্ত্র বিজেপি বার বার সফলতার সাথে ব্যবহার করতো। এটা স্মরণীয় গুজরাট দাঙ্গার পরে ঐ অঞ্চলের মুসলমানদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এই এপিজেকেই পাঠানো হয়েছিলো । সুচতুর এপিজে আব্দুল কালাম দাঙ্গা পরবর্তী গুজরাটে যাওয়ার সময় বলেছিলো: “My mission was not to look at what
had happened, not to look at what was happening, but to focus on what should be
done”.
এপিজে আব্দুল কালাম বিজেপির কাছে এতটাই পছন্দনীয় ব্যক্তিত্ব ছিলো যে ২০০৭ সালে পুনরায় এপিজেকে রাষ্ট্রপতি করতে সমর্থন দিয়েছিলো বিজেপি। কিন্তু কংগ্রেসের সমর্থন না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ২০১২ সালেও একই ভাবে এপিজেকে রাষ্ট্রপতি চায় বিজেপি, কিন্তু সেবারও কংগ্রেসের সমর্থন মেলেনি।
বলাবাহুল্য, বিজেপি’র রাজনীতির মূল ভিত্তি হচ্ছে সংখ্যালঘু বিদ্বেষ, সেখানে একজন মূল ধারার মুসলমানকে সেই বিজেপি বার বার রাষ্ট্রপতি চাইছে, বিষয়টি নিয়ে সত্যি গোলমাল স্পষ্ট। নিরামিষভোজন, গিতাপাঠ, কৃষ্ণের ভক্ত হওয়া, পূজায় অংশগ্রহণ এবং সূর্যপূজা তথা অগ্নিপূজা ছিলো এপিজের নিয়মিত অনুসঙ্গ, এ জন্যই হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএস বলতো, “এপিজে হচ্ছে রিয়েল হিন্দু” (http://goo.gl/ZVfA4w)।
আসলে বিজেপি তার সভায় যদি কোন মুসলমানকে সংযুক্ত করে, তবে ঐ ব্যক্তির ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ সৃষ্টি হয়। যেমন এবার বিজেপি তার মন্ত্রী সভায় দু’জন মুসলিমকে সুযোগ দিয়েছে। প্রথমজন সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী নাজমা হেপতুল্লাহ, যে মহিলা ক্ষমতায় এসেই বলেছে-“ভারতের মুসলমানরা সংখ্যালঘু নয়, পার্সিরা সংখ্যালঘু। তাই সংখ্যালঘুর সুযোগ-সুবিধা মুসলিমরা পাওয়ার যোগ্য নয়” (http://goo.gl/MBhTQ2)।
আরেকজন মুসলিম মন্ত্রী হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি। সেও ক্ষমতা পেয়ে বলেছে, “কোন মুসলমানের যদি গরুর মাংশ খেতে ইচ্ছে করে তবে সে যে ভারত ছেড়ে পাকিস্তান কিংবা আরব চলে যায়।” (http://goo.gl/wXluAd)।
আরেকজন মুসলিম মন্ত্রী হচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি। সেও ক্ষমতা পেয়ে বলেছে, “কোন মুসলমানের যদি গরুর মাংশ খেতে ইচ্ছে করে তবে সে যে ভারত ছেড়ে পাকিস্তান কিংবা আরব চলে যায়।” (http://goo.gl/wXluAd)।
আসলে ভারতে যে কোন টার্মেই সংখ্যালঘু নাম নিয়ে যাদের কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়, তারা কখনই মূল ধারার মুসলিম হয় না, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থাকে।
যেমন:
---ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হুসাইন এবং ফখরুদ্দিন আলী দু’জনই ছিলো জহরলাল নেহেরু’র অনুসারী সমাজতন্ত্রপন্থী নাস্তিক।
--বর্তমান বিজেপি সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে হামিদ আনসারিকে। সেও একজন কট্টর কমিউনিস্ট ও ধর্ম বিরাগী।
--এছাড়া ভারতে প্রধান বিচারক পদে নিয়োগকৃত আজিজ মুবাশশির আহমদ ও আলতামাশ কবির- দু’জনেই ছিলো শিয়া।
যেমন:
---ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি জাকির হুসাইন এবং ফখরুদ্দিন আলী দু’জনই ছিলো জহরলাল নেহেরু’র অনুসারী সমাজতন্ত্রপন্থী নাস্তিক।
--বর্তমান বিজেপি সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে হামিদ আনসারিকে। সেও একজন কট্টর কমিউনিস্ট ও ধর্ম বিরাগী।
--এছাড়া ভারতে প্রধান বিচারক পদে নিয়োগকৃত আজিজ মুবাশশির আহমদ ও আলতামাশ কবির- দু’জনেই ছিলো শিয়া।
তাই ভারতের ক্ষমতায় মুসলিম নামধারী কাউকে দেখলে মুসলমানদের উল্লাস করার কিছু নেই, কারণ তাদের মধ্যে গোলমালের কারণেই তারা ঐ উচ্চপদগুলোতে সুযোগ পেয়েছে।
সবাইকে লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
No comments