বাংলাদেশে যেরকম মনস্তাত্বিক যুদ্ধ চলছে
মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ বা psychological warfare হলো বর্তমান বিশ্বে যে কোন জাতির ওপর আগ্রাসন চালানোর প্রাথমিক ধাপ। মনস্তাত্বিক যুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর দ্বারা কোন জাতির ব্রেনওয়াশ করে তার মধ্যে শত্রুজাতির প্রতি ভালোবাসা তৈরী করা হয়। এর ফলে উক্ত জাতি তার অধিকার আদায়ের মনোবল ও প্রতিরোধক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
তবে বাংলাদেশের ব্যাপারটি একটু অদ্ভূত। কোন বাইরের অপশক্তি নয়,বরং এদেশের ক্ষমতাসীন সরকারই এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠদের বঞ্চিত করে সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়নের কারণে।
এমতাবস্থায় আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে এই অপবাদ দূর করা সম্ভব, যদি এদেশের মুসলমানদের মনমানসিকতাকে সরকারের আদলে গড়ে তোলা যায়। এই কাজটিই বর্তমান সরকার করছে ক্রিকেট টীমে হিন্দু প্লেয়ার ঢোকানোর মাধ্যমে। আমি নয়ন চ্যাটার্জি বলব, সরকার এক্ষেত্রে পুরোপুরিই সফল।
নিউইয়র্কে এটিএন বাংলার সাংবাদিক দর্পণ কবীর, একটি লেখা লিখেছেন “ভারতের পরাজয় বাংলাদেশী হিন্দুদের মন খারাপ!” এই শিরোনামে। সেখানে তিনি নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন-
//সম্প্রতি পাকিস্তানকে বাংলা ধোলাই করার পর আমার একজন শ্রদ্ধেয় দাদা উল্লাসে নাস্তা খাওয়ালেন। সেদিন তাকে যখন বললাম- বাংলাদেশ ভারতকে হারাবে এবং বিশ্বকাপে ভারত নোংরা কাজ করেছে- তখন দাদা উল্টো প্রসঙ্গ টেনে বললেন- ভারত আছে বলে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আছে। এ সব নিয়ে তর্ক এবং মৃদু মন-মালিন্য হলো। যাই হোক-ভারতের পরাজয়ের পর ঐ দাদা আমাকে ফোন করে উল্লাস প্রকাশ করেননি এবং নাস্তা খাওয়ার প্রস্তাবও দেননি। তিনি চুপসে গেছেন।// (http://goo.gl/JsCnhf)
লিঙ্কে গিয়ে লেখার নিচের কমেন্টগুলো দেখুন। সবগুলো এই যুক্তি দিয়ে ঠাসা যে, যেহেতু ক্রিকেট টীমে ২ জন হিন্দু আছে তাই হিন্দুদের কিছু বলা যাবে না! দর্পণ কবীরের দেখা গোটা নিউইয়র্কবাসী প্রবাসী হিন্দু সম্প্রদায়, যারা সেদেশে কামাই করে কখনোই বাংলাদেশে টাকা পাঠায় না, তারা দায়মুক্ত হয়ে গেল জাতীয় টীমের মাত্র ২ জন হিন্দু খেলোয়াড়ের কারণে।
মাত্র ২ জন হিন্দুর কারণে এদেশের প্রশাসনের গণ-হিন্দুকরণ নিয়ে আর কেউ কিছু বলতে পারবে না, বললেই সেই ২জন হিন্দুর দোহাই দিয়ে সবাইকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হবে। আমার নিজের পোস্টেও এধরণের মতামত ব্যক্ত করেছে অনেকে। যাই হোক, আমি বাংলাদেশী মুসলমানদের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী এজন্য যে, আমি নয়ন চ্যাটার্জি তাদেরকে এতোদিন ‘বেকুব’ বলে এসেছি। কারণ তারা বেকুবও নয়, তারা হলো নির্বোধ শিশুর দল। একটি শিশু দেশ বোঝে না, জাতি বোঝে না, সে প্রশাসন, চাকরি-ব্যবসা এগুলোর কিছুই বোঝে না। সে বোঝে কেবল খেলা, আর এই ক্রিকেট খেলার মোয়া ধরিয়ে দিয়েই এদেশের ২০ কোটি নির্বোধ শিশুর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে একদিন বাংলাদেশ হবে ভারতের ৩০তম প্রদেশ।
No comments