বাংলাদেশের হিন্দুরা হল ভারত মাতার সন্তান তার কিছু নমুনা দেখে নেই
আমি আমার পোস্টে লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশের হিন্দুরা মনেপ্রাণে ভারতীয় এবং ভারতমাতার সন্তান, এ বিষয়টি বাংলাদেশের অনেক মুসলমানই মেনে নিতে চায় না। এসব বেকুবের দল বাংলাদেশী হিন্দুদেরকে তাদের মতোই মনে করে। তাই এদের ভুল ভাঙাতে আমি অতীত ইতিহাস নিয়ে কিছু আলোচনা রাখব।
কলকাতার হিন্দুরা ঢাকা ভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল, এ নিয়ে কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না। কিন্তু ঢাকা শহরের স্থানীয় হিন্দুরাও যে ঢাকা ভার্সিটির বিরোধিতায় পিছিয়ে ছিল না, এই ইতিহাস কেউই জানে না বলা চলে। কিন্তু এ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে রমেশচন্দ্র মজুমদারের আত্মজীবনী ‘জীবনের স্মৃতিদীপে’ বইতে।
রমেশচন্দ্র মজুমদার ছিলেন ১৯২১ সালে ঢাকা ভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই তার শিক্ষক এবং ১৯৩৭ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত ঢাকা ভার্সিটির ভিসি। সুতরাং তার বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকতে পারে না। আসুন পাঠকেরা, দেখি তিনি কী বক্তব্য দিয়েছেন-
“আশ্চর্যের বিষয় এত বড় বড় অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও ঢাকা শহরের হিন্দু অধিবাসীরা সাধারণতঃ বিশ্ববিদ্যালয়কে আদৌ ভালো চোখে দেখতো না। প্রথম থেকেই তাদের মনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি খুব বিদ্বেষভাব ছিল। তার একটি কারণ যে- হিন্দুরা কোনোদিনই ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করাটা পছন্দ করেনি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাটাই তাদের ইচ্ছা ছিল।” (সূত্র: জীবনের স্মৃতিদীপে, পৃষ্ঠা ১১৭, https://goo.gl/sh47CQ)
“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্টের (গভর্নিং বডির) সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কানুন তৈরি, বাজেট পাস এবং সাধারণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্ত বিষয়ের আলোচনা এবং বিতর্ক হতো। এই কোর্টে স্থানীয় হিন্দুদের একটি বড় দল ছিল। কোর্টের মিটিংয়ে প্রায় সব বিষয়েই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতো এবং নানা প্রস্তাব আনতো।” (সূত্র: জীবনের স্মৃতিদীপে, পৃষ্ঠা ১১৮, https://goo.gl/DroJE8)
“রমনায় যেসব বড় বড় বাড়ি দখল করে আমরা শিক্ষকেরা বসবাস করছিলাম এটাতেই তাদের (হিন্দুদের) ঘোর আপত্তি ছিল। একবার তাদের বলেছিলাম যে- আমরা না এলে এ বাড়ি তো আপনাদের দিতো না। সুতরাং হিংসা করেন কেন? কিন্তু বহুদিন পর্যন্ত এ মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেনি। কোর্টের অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অনেক প্রস্তাব ও বক্তৃতা হতো। ভাইস চ্যান্সেলার হার্টগ সভাপতি থাকতো। আমাদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ সমর্থন করার জন্য বাকযুদ্ধে নামতে হতো। অবশ্য ভোটের সময় জয়লাভের ব্যাপারে আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত ছিলাম। কারণ মুসলমান সভ্যেরা আমাদের পক্ষেই থাকতেন। মুসলমান এবং শিক্ষক সদস্যেরা একত্রে হিন্দুদের চেয়ে অনেক বেশি ছিলেন।” (সূত্র: জীবনের স্মৃতিদীপে, পৃষ্ঠা ৫৩,https://goo.gl/pgzEh0 )
পরিশেষে বলা যায়, সেই ১৯২১ সালে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় ভারতমাতার একনিষ্ঠ অনুগত ছিল, আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ভারতমাতার প্রতি এই আনুগত্যই বাংলাদেশের হিন্দুদেরকে অমরত্ব দান করবে, বাংলাদেশের স্থানীয় মুসলমানদের তুলনায় সর্বদা তাদের প্রাধান্য নিশ্চিত করবে। সবাইকে নমষ্কার।
No comments