Header Ads

ad728
  • Breaking News

    এটিএম বুথের নিরাপত্তার একমাত্র সমাধান ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস সংযুক্ত করা


    আগের পোস্টে আমি লিখেছিলাম, যদি মুসলিম মেয়েদের বোরকা-হিজাব পরে এটিএম বুথে ঢুকতে না দেওয়া হয়, তবে তাদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন হবে। এ পোস্ট করার পর, অনেক মুসলমানকে দেখলাম, আমার পোস্টের বিরুদ্ধে গেলো এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হিন্দু ধর্মাবলম্বী শুভঙ্কর সাহার পক্ষে গিয়ে বললো- “যা করেছে ঠিক করেছে, এতে করে আমাদের টাকা চুরি বাচবে”।

    এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হলো- বাংলাদেশের অনেক মুসলমানের কাছে ধর্ম পালনের থেকে টাকা অনেক বড় জিনিস। ‘ধর্ম গেলে যাক, টাকা যেন না যায়’ এটাই তাদের কাম্য।

    সত্যিই বলতে- মুসলমানদের টাকা আর জানের মায়ার কারণে তারা এখন ধর্ম পালন করতে পারে না। এই যেমন কিছুদিন আগে মুসলিম প্রধান আফ্রিকান রাষ্ট্র সেনেগাল আর চাদে নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে নেকাব-বোরকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে এটিএমবুথের ঘটনাটি একটি সূচনামাত্র, এর রেশ টেনে শিঘ্রই পুরো দেশেই বোরকা নিষিদ্ধ করার কোন উদ্যোগ তৈরী হতে পারে। যেমন, হয়ত শিঘ্রই দেখা যাবে- তারাই একটি বোরকা পরিহিতা মহিলা দিয়ে বোমা ফুটালো, এরপর সেই ছবি মিডিয়ায় প্রকাশ করে বোরকা নিষিদ্ধ করে দিলো।

    হিজাব নিষিদ্ধ করলেই কি এটিএম বুথের জালিয়াতি কমে যাবে ?
    প্রকৃত সমাধান কি ?

    এর উত্তরে বলতে হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশ অনুসারে এটিএম বুথগুলো হবে স্বচ্ছ্ব কাঁচের এবং কেউ মুখ ঢাকতে পারবে না। একই সাথে চিপ-ভিত্তিক এটিএম কার্ড চালু করা হবে।

    আসলে এগুলোর কোনটারই দরকার নেই। এমনকি এটিএম বুথে সিসিটিভিরও দরকার নাই। নতুন করে স্ব্চ্ছ্ব এটিএম বুথও তৈরী করে খরচ করারও দরকার নেই। আপনি যতই নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন না কেন, চোরও তার বিকল্প কোন পদ্ধতি আবিষ্কার করে ফেলবে। এখন সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে প্রত্যেক এটিএম মেশিনের সাথে একটি করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস সংযুক্ত করে দেওয়া। এতে একমাত্র নির্দ্দিষ্ট ব্যক্তির আঙ্গুল স্পর্ষ করলেই কেবল টাকা বের হয়ে আসবে, বাকি হাজারভাবে চেষ্টা করলেও টাকা বের করা সম্ভব নয়। একাজের জন্য এখন মাত্র দুটো কাজ করতে হবে-
    ১) প্রত্যেকে মেশিনের সাথে একটি অতিরিক্ত ফিঙ্গার প্রিন্ট ডিভাইস সংযুক্ত করুন।
    ২) প্রত্যেক গ্রাহক তার ব্যাংকে গিয়ে তার একাউন্টে নিজ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংযুক্ত করে দিয়ে আসুন।

    ব্যস আর কিছু দরকার নাই। এত হাজার হাজার এটিএম বুথ ভেঙ্গে নতুন কাচের বুথ তৈরী করারও প্রয়োজন নাই।

    এভাবে করলে যে সুবিধাগুলো হবে-

    ক) সাধারণত এটিএম বুথের চুরিগুলো হয়- কোন ব্যক্তির কাছ থেকে এটিএম কার্ড ছিনতাই করে, জোর করে কার্ডের পিন নম্বর জেনে নেওয়া হয়। এরপর তাকে আটক রেখে চোররা বুথে প্রবেশ করে টাকাগুলো বের করে নেয়।
    ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস সিস্টেমে আপনার এটিএম কার্ডেরও দরকার নাই। তাই চোর আপনার ম্যানিব্যাগে এটিএম কার্ড না দেখলে বুঝতে পারবে না, আপনার একাউন্ট আছে না নাই। এজন্য অনেক ইউরোপীয় দেশে একটি কথা প্রচলিত আছে- You Get Out Of Your Home With Your Thumb (অর্থাৎ- তুমি ঘর থেকে শুধু তোমার বৃদ্ধাঙ্গুলি নিয়ে বের হও)। আর যদি কার্ড থাকেও, তবে চোর আপনাকে ছাড়া বুথে প্রবেশ করতে পারবে না। যেহেতু বুথের বাইরে গার্ড থাকে, তাই একজন লোককে জোর করে বুথে প্রবেশ করানোর রিস্ক চোররা নিবে না অবশ্যই।

    খ) সাম্প্রতিক সময়ে যে চুরির ঘটনাগুলো ঘটছে, তা হচ্ছে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে তথ্য চুরি করে তা দিয়ে ক্লোন কার্ড তৈরী করা। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইছে চিপ-ভিত্তিক এটিএম কার্ড তৈরী করতে। কিন্তু এখানেও সমস্যা আছে। কয়েকদিন পর চিপ ক্লোন করার ঘটনাও যে ঘটবে না, তা কে বলতে পারে ? কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করার কোন সিস্টেম কিন্তু  সম্ভব নয়। আর যদি একই সাথে একটি পিন নম্বর সংযুক্ত করে দেয় তবে ১০০% শক্ত সিকিউরিটি হয়ে গেলো।

    সত্যিই বলতে, সিকিউরিটি সাথে বোরকা-হিজাবের কোন সম্পর্ক নেই, বরং ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইস, একটি পিন নম্বর এবং ব্যাংকিং সফটওয়্যারগত সিকিউরিটির সিস্টেম উন্নত করাই টাকা চুরি ঠেকানের সবচেয়ে কার্যকরী পন্থা।

    সবাইকে ধন্যবাদ।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728