এটিএম বুথে নেকাব নিষিদ্ধ: বাংলাদেশে চূড়ান্তভাবে বোরকা নিষিদ্ধ হওয়ার যাত্রা শুরু
আপনি যদি নিজেই যাচাই করেন, তবে বুঝতে পারবেন, এটিএম বুথের চুরির সাথে বোরকা-নেকাবের কোন সম্পর্ক নাই। এটিএম বুথে যে চোর-ডাকাত ধরার পড়েছে তারা কেউ বোরকা পরে আসেনি। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই চোর বা ডাকাত ছিলো পুরুষ। তবুও কেন খড়গ নেমে এলো নারীদের বোরকার উপর ?
এটিএম বুথের বোরকা নিষিদ্ধকারীদের দাবি- এর মাধ্যমে সিসিটিভিতে চোরের মুখ দেখা যাবে, এরপর সেটা দেখে তাকে সনাক্ত করার প্রসেসিং শুরু হবে। তারমানে বিষয়টি দাড়াচ্ছে সিসিটিভি কিন্তু চুরি ঠেকাতে পারে না। সিসিটিভির হাত-পা নেই যে সে চোর আটকে ফেলবে, কিংবা সে চেহারা স্ক্যান করে অ্যাকা্উন্ট আটকে দেবে এমন কোন প্রযুক্তিও সেখানে নেই। শুধুমাত্র চেহারার ছবি তুলে রাখতে পারবে। তবে কেউ যদি চেহারাকে নানান আকৃতিতে সাজিয়ে আসে, সেক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না সিসিটিভির।
আচ্ছা, এখন তো বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠানে, রাস্তাঘাটে সিসিটিভি আছে। সে হিসেব করলে সেখানেও তো নিরাপত্তার কারণে বোরকা খুলে প্রবেশ করতে হবে !কারণ ঐ দোকান, স্কুল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কোন অকারেন্স ঘটলে তার মুখ দেখাও জরুরী, কিন্তু নেকাব পরলে তো সেটা দেখা যাবে না। তাই বলতে পারেন, এটিএম বুথের পর সেখানেও বোরকা নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ইউরোপে অনেক অমুসলিম দেশে, আমেরিকার অনেক স্টেটে, মুসলিম রাষ্ট্র সেনেগাল, চাদ কিংবা বসনিয়াতেও হিজাব বা বোরকা ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন স্কুল কলেজ কিংবা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারীভাবে বোরকা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এবার সরাসরি সরকারী আদেশের মাধ্যমে হিজাব/নেকাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
সোজাভাষায় এখন থেকে সিসিটিভির আওতাধীন কোন স্থানে কোন নারী বোরকা-হিজাব পরতে পারবে না, আর যেহেতু এখন সব প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটে সিসিটিভি লাগানো হচ্ছে তাই সর্বক্ষেত্রেই হিজাব-নেকাব নিষিদ্ধ হওয়ার ঘোষণা শুরু হলো মাত্র।
No comments