Header Ads

ad728
  • Breaking News

    পাকিস্তান বিদ্বেষের সীমানা ও বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা

    আজকাল অনেককেই দেখি পাকিস্তান বিদ্বেষ দেখিয়ে নিজেকে খুব মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী হিসেবে প্রকাশ করতে চায়। এরা খেলাধূলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় পাকিস্তান বিদ্বেষ দেখায়। আর যে না দেখায় তাকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে ট্যাগ মারে।
    একটি কথা অনস্বীকার্য,
    বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতার নাম নিলে যার নাম প্রথমে আসবে তিনি হচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কেউ যদি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর থেকেও নিজেকে অধিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী হিসেব প্রমাণ করতে চায়, তবে আমি বলবো- তার মধ্যে সমস্যা আছে, কারণ অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ।
    ১৯৭১ সালে মু্ক্তিযুদ্ধ, ৩০ লক্ষ শহীদ, ২ লক্ষ মা-বোন নির্যাতিত। সে হিসেবে মাত্র ৩ বছর পর ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান বিদ্বেষ যে সর্বতুঙ্গে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সেই ১৯৭৪ সালেই কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান গিয়েছিলেন ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিতে। সেই সময় বঙ্গবন্ধুকে ভারতের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার নিষেধ করা হয়েছিলো পাকিস্তান না যেতে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু সকল বাধা উপেক্ষা করে লাহোরে ওআইসি সম্মেলনে গিয়েছিলেন। (http://www.shobdoneer.com/ac/55506)
    এখানে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা -
    মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতা নয়, বরং ভাতৃত্ববোধ স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে যুদ্ধগত দ্বন্দ্ব ভুলে যেতে হবে। আমার ধারনা আজকে যারা কথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে খায়, তারা যদি ১৯৭৪ সালে থাকতো, তবে খোদ বঙ্গবন্ধুকেও তারা পাকিস্তানী চর উপাধী দিয়ে ছাড়তো। ১৯৭৪ সালের সে ঘটনা থেকে বোঝা যায়,
    ভারত চায় বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান থাকুক। কারণ পাকিস্তান হচ্ছে ভারতের আদর্শগত শত্রু। তারা চায়- বাংলাদেশ পাকিস্তানের দলে না গিয়ে ভারতের দলে আসুক। কিন্তু ভারত বাধা দিলেই সেটা শুনতে হবে- এটা বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা নয়। বরং ইসলামের খাতিরে ভারতকে উপেক্ষা করে পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্ব করাটাই বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা।
    সত্যি বলতে বর্তমানে পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য আগ্রাসী শত্রু নয়। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা পুনরায় বাংলাদেশকে দখল করতে আসবে এমন কোন ঘোষনা দেয়নি। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের উপর আগ্রাসী ভূমিকা বিদ্যামান রেখেছে। ভারত কিন্তু সরাসরি ঘোষণাই দিয়েছে বাংলাদেশের একতৃতীয়াংশ দখল করে নিবে তারা (http://goo.gl/j2xx7A)। কিংবা ভারতের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেছে ১৫-২০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ভারতের অন্তুর্ভূক্ত হবে তথা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠা হবে (http://goo.gl/aEAWhA)। এছাড়া ভারত প্রকাশ্যেই অর্থনীতি, সংস্কৃতি, টিভি চ্যানেল, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, নেশাদ্রব্য, খাদ্য ও পন্যদ্রব্য সর্বক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশে উপর আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে- ভারতীয় আগ্রাসনের বিষয়টি আড়াল করতে একটি গোষ্ঠী উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাংলাদেশে নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম দিয়ে পাকিস্তান বিদ্বেষ চালু করছে।
    একটি কথা মনে রাখতে হবে,
    দ্বন্দ্ব থাকা প্রয়োজন আদর্শভিত্তিক, কবে কোন যুদ্ধ হয়েছিলো সেটার উপর ভিত্তি করে শত্রু নির্ধারিত হয় না। যেমন বর্তমানে যারা নিজেদের আধুনিক শক্তি হিসেবে দাবি করে, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি তারা কিন্তু বিশ্বযুদ্ধগুলোতে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো, সে যুদ্ধে কোটি কোটি মানুষ নিহত হয়েছিলো। কিন্তু তারা কিন্তু বিষয়টি ধরে রাখেনি। তারা নিজেদের আদর্শ মিলাতে বার বার মিলিত হচ্ছে। যেমন বর্তমানে এরা মুসলমান মারতে ন্যাটো গঠন করছে।
    আবার অনেকে বলতে পারেন,
    ৭১-এ ভারত বাংলাদেশকে সাহায্য করেছে, পাকিস্তান বিরুদ্ধে ছিলো, এ হিসেব মিলালেও ভারত আমাদের বন্ধু, পাকিস্তান শত্রু।
    এ সম্পর্কে বলতে গেলে আপনাকে কোরীয় যুদ্ধ (২৫ জুন ১৯৫০ – ২৭ জুলাই ১৯৫৩)-এর দিকে তাকাতে হবে। এ ‍যুদ্ধে আমেরিকা ও ব্রিটেন ছিলো পুজিবাদের পক্ষে। আর কমিউনিজমের পক্ষে ছিলো সোভিয়েত রাশিয়া ও চীন। অথচ মাত্র ৪ বছর আগে ১৯৪৬ সালে শেষ হওয়া ২য় বিশ্বযুদ্ধ এই চারটি দেশই একে অপরের মিত্র হিসেবে জার্মানি ও জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পূজিবাদী আদর্শের খাতিরে ঠিকই আমেরিকা ও ব্রিটেন জার্মানি ও জাপানের সাথে মিলে গেলো। আমেরিকা ও ব্রিটেন কিন্তু '২য় বিশ্বযুদ্ধের চেতনা' নামে কোনো নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করে চিরজীবনের জন্য জার্মানি ও জাপানের সাথে শত্রুতা বজায় রাখেনি। কারণ আমেরিকার আদর্শিক ভিত্তি হচ্ছে পূজিবাদ, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন বা চীনের আদর্শিক ভিত্তি হচ্ছে কমিউনিজম, যে দ্বন্দ্ব এখন পর্যন্ত আমরা দেখতে পাচ্ছি।
    ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আদর্শিক ভিত্তি এক, যার নাম ইসলাম, এর উপর ভিত্তি করে ১৯৪৭-এ বাংলাদেশ ও পাকিস্তান হিন্দুত্ববাদী ভারত থেকে আলাদা হয়েছিলো। এবং খোদ বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত সেই আদর্শের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।
    আবার ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলো আদর্শিক নয়, বরং স্বার্থগত দ্বন্দ্বের কারণে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন, স্বার্থগত দ্বন্দ্ব বাদ দিয়ে আদর্শিক ভাবে মিলিতে হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে ভারতকে উপেক্ষা করতে হবে।
    লেখার শেষে তাই আবার বলছি, যে বা যারা আজকে পাকিস্তান বিদ্বেষের ধোয়া তুলছে তাদের উদ্দেশ্য কখনই ভালো নয়, বরং ভারতের হিন্দুয়ানী আদর্শ বাংলাদেশের উপর জোর করে চাপিয়ে দিতেই এই নতুন ফন্দি। একই সাথে তারা আড়াল করতে চাইছে বাংলাদেশের উপর ভারতীয় আগ্রাসনের ভয়ঙ্কর সব চিত্র।
    সবাইকে ধন্যবাদ।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728