Header Ads

ad728
  • Breaking News

    মায়ের হাতে সন্তান হত্যা : পেছনের কারণ অনুসন্ধান ও সমস্যার সমাধান


    সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় দুই সন্তানকে হত্যা করেছে এক মা। এ ঘটনাটি মিডিয়াতে বেশ তোলপার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলেছেন- একজন মা কিভাবে তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে? এক্ষেত্রে সন্তান হত্যার কারণ হিসেবে মানসিক সমস্যা, দুশ্চিন্তা কিংবা পরকীয়াকে নিয়ে আসলেও আমি সমস্যার আরো গভীরে যাওয়ার পক্ষপাতি।
    একটি জরিপ বলছে বনশ্রীর এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। মা-বাবা’র হাতে শিশু হত্যা মত ঘটনা বর্তমানে বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। জরিপটির দেওয়া তথ্য অনুসারে গত ২ বছরে এ রকম ৯০টি ঘটনার খবর তারা পেয়েছে (http://goo.gl/ZRZGqy)। অর্থাৎ মা-বাবার হাতে শিশু হত্যা নতুন করে গজিয়ে ওঠা একটি সামাজিক সমস্যা। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টিকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সামাজিক সমস্যা বলবো। কারণ, পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থান হচ্ছে বাবা-মায়ের কোল, কিন্তু সেই বাবা-মা যখন নিজ প্রাণপ্রিয় সন্তানকে হত্যা করে, তখন তা পৃথিবীর সকল অমানবিকতাকে হার মানিয়ে দেয়।
    বাবা-মা কর্তৃক সন্তান হত্যা করার এ ঘটনাকে ইংরেজীতে বলা হয়ে থাকে ফিলিসাইড (filicide)। ল্যাটিন শব্দ filius অর্থ: পুত্র আর filia অর্থ : কন্যা, এবং cide শব্দের অর্থ হত্যা বা খুন। উন্নত বিশ্বে বর্তমানে ফিলিসাইড এক ভয়ঙ্কর সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উন্নত বিশ্বের মধ্যে ফিলিসাইডে সবচেয়ে এগিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বাবা-মা তার আদরের সন্তানদের রেগুলার বিভিন্ন কায়দা-কানুন করে মেরে ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে সেই হত্যার দৃশ্য ইউটিউবে পর্যন্ত আপলোড করে দেয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি বছর ফিলিসাইডের প্রায় ৫০০টি ঘটনা ঘটে। গত ৩২ বছরে দেশটিতে প্রায় ৩২ হাজার ফিলিসাইড কেইস জমা পড়েছে। দেশটিতে মোট হত্যাকাণ্ডের যে আসামীরা গ্রেফতার হয়েছে তার মধ্যে ২.৫% ফিলিসাইডের আসামী।
    (http://goo.gl/9U8l8L, https://goo.gl/iFWaC0)
    বলাবাহুল্য বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশগুলোতে এ ধরনের ঘটনা শুনে মানুষ আকাশ থেকে পড়ে, কিন্তু পশ্চিমা বিশ্বে ফিলিসাইড একটি বহু পুরাতন সমস্যা, যা বাংলাদেশেও আমদানি ঘটা শুরু করেছে। পশ্চিমা বিশ্বে ফিলিসাইড নিয়ে বিস্তর গবেষণা ও জরিপ আছে। দ্রুত সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতনতা ও কর্মশালার আয়োজন করছে, বাবা-মা ও শিশুদের আলাদাভাবে ট্রেনিং দিচ্ছে ফিলিসাইডে প্রতিরোধে। কিন্তু তারপরও ফিলিসাইড সমস্যা কমতির মধ্যে নেই বরং নিত্যনতুন বেড়েই চলেছে।
    বিষয়টি নিয়ে কথা বললাম এ কারণে, বনশ্রীর ঘটনা পর অনেকেই বলেছেন বাংলাদেশে বাবা-মা কর্তৃক সন্তান হত্যার প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এ ব্যাপারে কর্মশালা ও সচেতনতা দরকার। কিন্তু আমার মনে হয় এগুলো করে কোন লাভ নাই। কারণ উন্নত রাষ্ট্র আমেরিকা এসব কর্মশালা আর সচেতনতা করেছে বহু আগেই, কিন্তু লাভের লাভ হয় নাই। তাই বলতে হয় বাংলাদেশের মানুষও যদি ঐ আমেরিকার পথেই আগায় তবে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।
    ফিলিসাইড বৃদ্ধি মূল কারণ সবাই বলে মানসিক সমস্যা। পারিবারিক অশান্তি বা কলহ। আলটিমেটলি সব গিয়ে পড়ে ঐ মানসিক সমস্যার উপরই । কারণ একজন মানুষ মানষিকভাবে বিপর্যস্ত না হলে তার দ্বারা কখনই আপন শিশুকে হত্যা করা সম্ভব নয়।। কিন্তু কেন এ মানসিক বৈকল্য ?
    বর্তমানে সমাজের মানসিক বৈকল্য নিয়ে লিখলে স্ট্যাটাসের পর স্ট্যাটাস লিখা যাবে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। তাই সংক্ষেপে মূল বিষয়টি আলোচনা করলাম-
    ১) সমাজ ও পাঠ্যবইয়ে ধর্মভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা উঠিযে দেওয়া:
    পাঠ্যবইয়ে যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে সেটা হচ্ছে বস্তুবাদী নৈতিক শিক্ষা। বস্তুবাদী নৈতিক শিক্ষা সমাজে আরো অশান্তি তৈরী করে। যেমন বনশ্রীতে যে সন্তান হত্যার ঘটনা ঘটেছে তার পেছনের কারণ ছিলো বস্তুবাদি নৈতিক শিক্ষা। বনশ্রীর মা তার সন্তানদের ভালো লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলো, এবং সেখান থেকেই তার মানসিক সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। সন্তানকে ভালো স্কুলে পড়াতে চায় কিংবা ভালো রেজাল্ট করাতে গিয়ে মানসিক অবসাদে ভোগা বাবা-মা’র সংখ্যা বর্তমান সমাজে কম নয়।
    এই ভালো রেজাল্ট করার আকাঙ্খাটাই তৈরী করে দেয় বস্তুবাদি নৈতিক শিক্ষা, যা শিক্ষা সিলেবাসে পড়ানো হচ্ছে। উচিত ছিলো ধর্মীয় নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা, তাহলে এ সমস্যাগুলো উৎপত্তি হতো না। বলাবাহুল্য বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষা সিলেবাসে ইসলাম ধর্ম বইটির নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, নতুন নাম দেওয়া হয়েছে- ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা। বইয়ের নামই বলে দিচ্ছে- ধর্মের সাথে নৈতিক শব্দটা যোগ নেই। বর্তমানে সেক্যুলার সিলেবাসে যে নৈতিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তার সম্পূর্ণ ধর্ম বিচ্ছিন্ন। মানে নৈতিকতার একটি নতুন সংজ্ঞা দাড় করানো হচ্ছে- “তোমার ধর্মীয় অবস্থান যাই হোক না কেন, তোমার নৈতিকতার ভিত্তি হবে ভিন্ন।” যেহেতু ধর্ম ও নৈতিকতাকে পৃথক করে দেওয়া হয়েছে তাই সমাজে বস্তুবাদ দৃঢ় হয়ে গেছে। আর বস্তুবাদী মানুষ মানেই শুধু চাই আর চাই, কিছুতেই তার মন ভরে না, ফলে সৃ্ষ্টি হয় হতাশা। আর সেই হতাশাই হচ্ছে সকল মানসিক সমস্যার মূল কারণ।
    ২) অমুসলিম রাষ্ট্রের মিডিয়ার কুপ্রভাব:
    ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমন সব সামাজিক সমস্যা চালু আছে যেগুলো বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ কখন কল্পনাও করতে পারবে না। ভারত কিংবা পশ্চিমা টিভি চ্যালেনগুলোকে যখন বাংলাদেশের মানুষ ঘরে আসছে তখন তাদের সমাজিক সমস্যাগুলোও বাংলাদেশের মত মুসলিম দেশে আমদানি ঘটছে। যেমন ধরুন- আপনি হয়ত ভারতীয় টিভি সিরিয়ালে পরকীয়া দেখছেন, কিংবা কোন পশ্চিমা চ্যালেনে অবৈধ লিভটুগেদার দেখছেন, ব্যস ঐ অবক্ষয়গুলো কিন্তু ঢুকে যাচ্ছে ভাইরাসের মত। আর সে সকল নৈতিকতা বিবর্জিত অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে ফিলিসাইড মত সমাজিক সমস্যা তৈরী হচ্ছে।
    সংক্ষেপে- দুটি কাজ করলে ফিলিসাইড এর মত ভয়ঙ্কর সব সামাজিক সমস্যা থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পাবে-
    ১) শিক্ষা সিলেবাস পরিবর্তন করে ধর্মভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা প্রনয়ন করতে হবে। এর দ্বারা নিজ মনে সামাজিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাবে।
    ২) পশ্চিমা বা ভারতীয় টিভি চ্যানেল নিষিদ্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে বিজাতীয় সামাজিক রোগগুলোর আমদানি বন্ধ হবে।
    অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মানো + রোগ আমদানি বন্ধ করা = সমাধান
    আমি বলবো, এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী, নয়ত খুব শিঘ্রই আপনিও ফিলিসাইডের মত ভয়ঙ্কর সমস্যার সম্মুখিন হতে পারেন।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728