খেলা নামক অপ্রয়োজনীয় বস্তু বন্ধ করুন, জাতির পতন রোধ করুন
মুসলমানদের মধ্যে খেলাধূলা নামক বস্তু কখনই চালু ছিলো না। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, অবসর সময় পেলে মুসলিম যুবকরা কখনই খেলাধূলা নামক মূল্যহীন বস্তুতে জড়াতো না, বরং ব্যস্ত থাকতো যুদ্ধ প্রশিক্ষণে।
যুদ্ধ প্রশিক্ষণের বিষয়টি সকল মুসলিম যুবকের অবসরের কাজ ছিলো। কারণ যদি কখন যুদ্ধ-বিগ্রহ সংগঠিত হতো, তখন নির্দ্দিষ্ট সেনাবাহিনী বাইরে প্রয়োজন হলে সাধারণ যুবকদেরও ডাক পর্যন্ত। এখনও অনেক অমুসলিম দেশে সাধারণ জনগণ থেকে প্রয়োজনে যুদ্ধগমণের বিষয়টি চালু আছে, যদিও মুসলিম দেশ থেকে বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে খেলাধূলার জনপ্রিয়তা খুব বেশি সময় আগের নয়। ব্রিটিশদের শেখোনো ক্রিকেট আর ফুটবলই বাংলাদেশের জনগণ বেশি পছন্দ করে আর সেটাতেই মেতে থাকে। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নাই, বাংলাদেশীরা মারাত্মক হুজুগে, তাকে যদি কোন কিছুতে একবার মাতিয়ে দেওয়া যায়, তবে সেটাই সে বিষ্ফোরণ ঘটায়, ক্রিকেট খেলার ক্ষেত্রে ঘটেছে সেটা। ক্রিকেট খেলা সরকার ও মিডিয়ার পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে, পাবলিকের সামনে ফুলিয়ে ফাপিয়ে ধরা হয়েছে, ব্যস পাবলিক সেটা নিয়ে মজে গেছে। কিন্তু যে বা যারাই কাজটা করেছে অবশ্যই ভালো করে নাই।একটি জাতিকে খেলার মাধ্যমে পঙ্গু করে দিয়েছে তারা।
আমি বলবো- ক্রিকেট নামক অপ্রয়োজনীয় বস্তু ছড়িয়ে বাংলাদেশের সাথে কত বড় বেঈমানী করা হয়েছে তা বোধ হয় বাংলাদেশের মানুষ কল্পনাও করতে পারবে না। এই ক্রিকেট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মেরুদণ্ড অন্তত ৫০ বছরের জন্য ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে, নয়ত বাংলাদেশীদের যে যোগ্যতা ছিলো তা দিয়ে তারা সারা বিশ্বে এতদিন সে বড় একটি শক্তিতে রূপান্তরিত হতে পারতো।
বিশ্বাস না হয় আপনি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের দিকে তাকান। দেখবেন ঐ সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনাটা জাগ্রত ছিলো। সাইদ আহমেদ শহীদ বেরেলভী যে সৈন্যবাহিনী গড়েছেন তার বড় অংশ আসতো বাংলা থেকে, মীর নেসারউদ্দিন তীতুমীর তার বড় প্রমাণ।
ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে যে মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূমি হবে, সেটার মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানীদের থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশীদের অবদান ছিলো অনেক বেশি।কোন জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে, এর উদাহরণ বাংলাদেশ ছাড়া আর নাই।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের লুঙ্গি-কাছা দেওয়া সাধারণ জনগণ সুপ্রশিক্ষিত পাকিস্তানী চৌকশ সেনাবাহিনীকে নাজেহাল করেছিলো মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন তো- এখন দেশে বিদেশী আগ্রাসণ হলে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধ স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব কি না ? কখনই সম্ভব নয়।
ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে যে মুসলমানদের জন্য আলাদা ভূমি হবে, সেটার মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানীদের থেকে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশীদের অবদান ছিলো অনেক বেশি।কোন জাতি ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে, এর উদাহরণ বাংলাদেশ ছাড়া আর নাই।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের লুঙ্গি-কাছা দেওয়া সাধারণ জনগণ সুপ্রশিক্ষিত পাকিস্তানী চৌকশ সেনাবাহিনীকে নাজেহাল করেছিলো মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন তো- এখন দেশে বিদেশী আগ্রাসণ হলে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধ স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব কি না ? কখনই সম্ভব নয়।
ইতিহাস বার বার সাক্ষ্য দিচ্ছে বাংলাদেশীদের মেধা আছে, যোগ্যতা আছে, চিন্তা শক্তি আছে। শুধু সেটা ব্যবহারের দিকটা ঠিক করে দিতে হবে, এই যা। কিন্তু যাদের হাতে দেশ ও মিডিয়া দেওয়া হয়েছে তারা কিন্তু করে ফেলেছে উল্টো । তারা বাংলাদেশে মানুষকে ভালো কিছু না শিখিয়ে, শিখিয়েছে ফালতু ও অপ্রয়োজনীয় খেলা। বাংলাদেশের জনগণ সেই ফালতু খেলাতেই মজে গেছে, খেলা্ই জীবন, খেলাই মরন ভাবছে। তিন দিন আগে টিকিটের লাইনে দাড়াচ্ছে, টিকিটের জন্য মারামারি-কাটাকাটি করছে। এটা কিন্তু সভ্য মানুষের লক্ষণ নয়, আর বাংলাদেশীদের মত জাতির জন্য তো চরম লজ্জাকর। আমি নিশ্চিত, বাংলাদেশীদের পূর্বপুরুষরা আজ খেলার মত ফালতু বিষয় নিয়ে রণক্ষেত্র দেখলে রাগে দুঃখে ঠিক ঠিক মুখ লুকাতো।
আমার মনে হয়, সাহাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে একটি গ্রুপকে এখনই খেলার বিরুদ্ধে দাড়ানো উচিত। মানুষকে এর বিরুদ্ধে সচেতন করা উচিত। কারণ এখন বিপিএল, এরপর এশিয়া কাপ, এরপর ওয়ার্ল্ড কাপ টি-টুয়েন্টি এভাবে একের পর এক খেলা দিয়ে বছরের ৩৬৫ দিন বাংলাদেশীদের মনমগজ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে, জাতিকে বন্ধা করে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশীদের এখন দিনরাত শুধুই খেলা, শুধুই খেলা নামক অপচয়। খেলার নেশায় মত্ত হয়ে এদের ভালো মন্দের বিচার বু্দ্ধি পর্যন্ত নষ্ট হয়ে গেছে। এরা খেলাকেই বোকার মত বানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, খেলাকে বোকার মত বানিয়েছে জীবন-মরন, ঘুম-জাগ্রত, অফিস-আদালত সর্বত্র শুধু খেলা আর খেলা। এভাবে খেলার নেশায় যদি বাংলাদেশীরা ডুবে থাকে, তবে বাংলাদেশের পতন হতে আর খুব বেশি সময় লাগবে না।
তাই এই অপ্রয়োজনী বস্তু তথা ক্রিকেট খেলাকে ‘না’ বলার সময় এখন এসেছে। তরুণ সমাজকেই জাতির এই পতন ঠেকাতে এগিয়ে আসতে হবে। শ্লোগান তুলতে হবে- “খেলা নামক অপ্রয়োজনীয় বস্তু বন্ধ করুন, জাতির পতন রোধ করুন।”
সবাইকে ধন্যবাদ।
No comments