কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে নাস্তিক ও হিন্দুদের টানাটানি
গত দুইদিন ধরে দেখছি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে নাস্তিক আর হিন্দুরা টানাটানি করছে। কেউ দাবি করছে তিনি হিন্দুবাদী ছিলেন, আবার কেউ দাবি করছে তিনি নাস্তিকদের পক্ষে লিখেছেন, তাই তিনি নাস্তিক ছিলেন।
আসলে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন ‘পাগলা ট্যালেন্ট’। ‘পাগলা ট্যালেন্ট’ বলতে আমি এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছি, যিনি মারাত্মক প্রতিভাবান, কিন্তু একটু বেখেয়ালি। যিনি নিজ প্রতিভা প্রকাশের দিকেই বেশি খেয়াল দিয়েছেন, কিন্তু প্রতিভার প্রকাশ সঠিক দিকে ঘটলো নাকি সে খেয়াল দিতে পারেননি। যার কারণে এ শ্রেণীর প্রতিভাবানকে যে কেউ মিথ্যা বলে দলে ভিড়িয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করতে পারে। কাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক সেটাই।
আমার দৃষ্টিতে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।-
১) ইসলামপন্থী জীবন। যখন তিনি ফুরফুরাহ’র দরবারে আসা যাওয়া করতেন। এ সময় তিনি আমপারা নিয়ে কবিতা রচনা করেছেন। তার লেখা অসংখ্য নাতে রাসূল পড়লে যে কারো মাথা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা।
২) এরপর নাস্তিক্যপন্থী জীবন, যখন ‘সওগাত’ গ্রুপ তাকে দলে ভেড়াতে চাইলো এবং তাকে দিয়ে নাস্তিক্যবাদী লেখালেখি করালো।
৩) হিন্দুবাদী জীবন। হিন্দুরা নার্গিস আসার খানমের সাথে বিয়ে ভেঙ্গে প্রমীলা দেবীর সাথে চক্রান্ত করে বিয়ে দিলো। তখন কাজী নজরুল লিখলো শ্যামা সঙ্গীত, হিন্দুদের সাথে মিশে হলো একাকার, সন্তানদের বানালো হিন্দু।
তবে উপরে তিন গ্রুপের সাথে চলাচল করলেও কাজী নজরুল ইসলামকে বিরোধী পক্ষ মুসলিম ও সত্যপন্থী হিসেবেই ট্রিট করতো, কারণ বেসিক্যালি তিনি ছিলেন একজন মুসলিম। এ কারণেই সওগাত গ্রুপ কিংবা হিন্দুরা যখন ব্রিটিশদের থেকে ইনাম পেতো তখন কাজী নজরুল ইসলামের ভাগ্যে জুটলো জেল। এবং সে কারণেই শেষ বয়সে ক্ষতিকারক কিছু খাওয়িয়ে তাকে করা হলো মানসিক প্রতিবন্ধী।
আসলে এভাবেই মুসলমানদের মধ্যে ট্যালেন্টগুলো হারিয়ে যায়। কারণ মুসলমানরা অমুসলিমদের শত্রু হিসেবে ট্রিট করে না। অপরদিকে অমুসলিমরা সর্বদাই মুসলমানদের শত্রু হিসেবে ট্রিট করে। এবং সুযোগে থাকে, যেন কোন মতেই মুসলমানরা উঠতে না পারে। যদি মুসলমানদের মধ্যে কোন ট্যালেন্ট জন্ম নেয়, তখন তাকে শেষ করে দেওয়ার জন্য নানান চক্রান্ত করতে থাকে তারা।
অন্যদিক থেকে আলোচনা করলে, মুসলমানদের মধ্যে কোন প্রতিভা প্রকাশ করলে কোন মুসলিম নেতাকে দেখা যায় না বিনাশর্তে তার গার্জিয়ানশীপ নেওয়ার জন্য। অপরদিকে মুসলমানদের মধ্যে কোন ট্যালেন্ট আত্মপ্রকাশ করলে অমুসলিমরা তাকে লোভ দেখিয়ে দলে ভেড়ানো চেষ্টা করে, গার্জিয়ানশীপ নিতে চায়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশে কোন ভালো ছাত্র/ট্যালেন্ট বের হলে বাংলাদেশে তাকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, কিন্তু পশ্চিমাটা ঠিকই তাকে স্কলারশীপ দেওয়ার নাম করে বিদেশে নিয়ে যায়। এরপর ব্রেইন ওয়াশ করে হয় তাদের পন্থী বানায় নয়ত টাকার লোভ দেখিয়ে চাকুরীতে নামিয়ে প্রতিভাটা নষ্ট করে দেয়। ঐ সময় কাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে ঠিক এ ঘটনাটাই ঘটেছিলো।
No comments