
বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান নামে এক মহিলা মারা গেছে। এ নিয়ে প্রথম আলো, বিবিসি থেকে শুরু করে তামাম নাস্তিক্যবাদীদের কান্নাকাটির শেষ নেই। তবে আমার মনে হয় ‘নূরজাহান’ নামক এই মহিলা বা ‘বেগম পত্রিকা’ কেমন সেটা আগে জানার দরকার আছে।
‘বেগম’ মুসলিম নারীদের জন্য বের করা একটি সচিত্র সাপ্তাাহিক পত্রিকা, যেখানে নারীদের ছবি ছাপা হতো। পত্রিকাটির প্রথম শুরু হয় ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে। পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলো সুফিয়া কামাল, কিন্তু চার মাস পরে সম্পদাকের দায়িত্ব গ্রহণ করে নূরজাহান (বামপন্থী রোকুনুজ্জামান দাদা ভাইয়ের বউ)।
বেগম-এর প্রথম সংখ্যার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছিল :
“মুসলিম সমাজ আজ এক কঠোর দায়িত্ব গ্রহণের সম্মুখীন। অর্জিত স্বাধীনতার সম্মান ও গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে কেবল পুরুষেরই নয়, মুসলিম নারীকেও এগিয়ে আসতে হবে নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে।
তার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ নারী-সমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে করে তারা সেই স্বাধীন-সার্বভৌম আদর্শ-রাষ্ট্রের-সত্যিকার দাবিদার হতে পারে সগৌরবে।
এর জন্য চাই আমাদের মানসিক প্রয়াস- আশা-আকাঙ্খার ব্যাপ্তি আর জীবন সম্বন্ধে এক স্থির ধারণা। কিন্তু জীবনের প্রতি পরিপূর্ণ দৃষ্টিপাত সম্ভব কেবল সাহিত্য ও সংস্কৃতির মধ্যস্থতায়। অথচ সাহিত্য শিল্পচর্চায় আমরা (মুসলমান নারী) এখনও উল্লেখযোগ স্থান অধিকারে সক্ষম হইনি। এর কারণ নানাবিধ- তবে মহিলাদের জন্য সাময়িক পত্রিকার সম্পূর্ণ অভাব এর প্রধানতম কারণ।
সুধী ব্যক্তিরা বলেন, জাতি গঠনের দায়িত্ব প্রধানত নারী-সমাজের হাতে- কথাটা অনস্বীকার্য নয়। এবং এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হলে পৃথিবীর কোনোদিক থেকেই চোখ ফিরিয়ে থাকলে আমাদের চলবে না, এ কথাও মানতে হবে। শিল্প, বিজ্ঞান থেকে আরম্ভ করে গৃহকার্য ও সন্তান পালনে- সর্বক্ষেত্রে আমরা সত্যিকার নারীরূপে গড়ে উঠতে চাই। আল্লাহর রহমতে ‘বেগম’ সচিত্র সাপ্তাহিক পত্রিকা রূপে প্রকাশিত হলো।” (http://goo.gl/SD2fTA) অর্থাৎ ধর্মের কথা বলেই বেগম পত্রিকার যাত্রা শুরু।
অথচ
২০১১ সালে বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান দৈনিক প্রথম আলোর কাছে এক সাক্ষাৎকারে বলে-“নারীকে আরও এগিয়ে যেতে হবে। সে জন্য সমাজের কিছু ভূমিকা রয়েছে। সমাজ থেকে কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা একদম দূর করতে হবে। তবেই পুরোপুরি নারীমুক্তি হবে।” (http://goo.gl/NQTyGD)
ডেইলি স্টারে নুরজাহান আরো বলে- “আমি নিজেকে একজন ফেমিনিস্ট মনে করি, আমরা আমাদের সমাজ পরিবর্তন করতে চাই”। (http://goo.gl/UzxdJM)
উল্লেখ্য,
৫০ এর দশকে একজন মুসলিম নারী পর্দা ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারতেন না, সেখানে নুূরজাহান ও তার বাবা নাসিরুদ্দিন নারীদের ছবি তুলে পত্রিকায় প্রকাশ করে দিতো। বিষয়টি এখন শুনতে স্বাভাবিক লাগলেও ঐ সময় স্বাভাবিক ছিলো না, কারণ তখন নাটক-যাত্রাপালায় পর্যন্ত পুরুষরা নারীদের চরিত্রে অভিনয় করতো। বলা যায়, বর্তমানে নারীদের বেহায়া করার মূল প্লট তৈরী করেছিলো সেই নূরজাহান।
এখানে লক্ষণীয়-
নূরজাহানরা বেগম পত্রিকা শুরু করেছিলো মুসলিম নারীদের অগ্রযাত্রার কথা বলে, তাদের ধোকা দিয়ে। প্রথম প্রথম ধর্মের কথা দিয়েই তারা নারীদের মধ্যে ঢুকতো। যেমন ধর্ম সম্পর্কে মহিলাদের জ্ঞান লাভের জন্য ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয় ‘বেগম বিশ্বনবী সংখ্যা’। এ সংখ্যায় ২৪টি প্রবন্ধ, ৪টি কবিতা, ২টি সচিত্র প্রতিবেদন ছাপা হয়। কিন্তু শেষে এসে সেই নূরজাহানই বলছে- তার লক্ষ্য ছিলো ফেমিনিজম, নারীকে ঘর থেকে বের করা, নারীদের ধর্মভিরুতা রোধ করা। আসলে নাস্তিক গুরু বদরুদ্দিন ওমর যেমন ‘লেখক শিবির’ নামক ক্লাব খুলে বড় বড় নাস্তিক পয়দা করেছে, ঠিক তেমনটি নূরজাহানও ‘বেগম’ পত্রিকা খুলে ফেমিনিস্ট জন্ম দিয়েছে।
মূলত এসব পত্রিকার পেছনে ইহুদীদের যোগসাজস বিদ্যমান। এর প্রমাণও পাওয়া যায়, ১৯৫৪ সালে মার্কিন ইহুদী ফেমিনিস্ট আইদা আলসেথ ঢাকায় বেগম পত্রিকা অফিস পরিদর্শন করে। তার দিক নির্দেশনায় ১৯৫৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে 'বেগম ক্লাব' প্রতিষ্ঠিত হয় । (https://goo.gl/xtLuaA) এবং সেই বেগম ক্লাব থেকেই বের হয়ে আসে বাংলাদেশের কথিত নারীবাদী গং।
এবার আপানারই বলুন, এই মহিলার মৃত্যু নিযে বিবিসি-প্রথম আলোরা কেন নাচানাচি করবে না ?
No comments