বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহানের আসল পরিচয়
গতকাল মারা গেছে বেগম পত্রিকার সম্পাদক নূরজাহান নামে এক মহিলা। বেগম পত্রিকার প্রকাশক হচ্ছে নূরজাহানের বাবা নাসিরুদ্দিন। মূলত নাসিরুদ্দিনের দেখিয়ে দেওয়া পথেই পরিচালিত হয় `বেগম' পত্রিকাটি। নাসিরুদ্দিনের মুল পত্রিকার নাম সওগাত। সওগাতকে অনেকেই মুসলিম সাহিত্যিকদের প্লাটফর্ম হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু আদৌ কি সওগাত মুসলিম লেখকদের প্লাটফর্ম ছিলো ? নাকি তাদের কাজ ছিলো ঐ সময়ে মুসলমানদের ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিটা নষ্ট করে দেওয়া ?
নাসিরুদ্দিন ছিলো মূলত পুরুষ ফেমিনিস্ট, যেটা পেয়েছিলো তার মেয়ে। ঐ সময় মুসলমানরা ইসলামী নিয়মনীতি ভালোভাবে পালন করতো, যে বাঁধন ভাঙ্গতেই কাজ করতো নাসিরুদ্দিন। নূরজাহান বলেছিলো- তার মা ফাতেমা খাতুন কলকাতায় গেলে স্ত্রীর বোরখা খুলে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো পিতা নাসিরুদ্দিন (৩০ এর দশকের ঘটনা)। (http://goo.gl/4TWIjb)
শুধু তাই না সুফিয়া কামালের বোরকা খুলেছিলো এই নাসিরু্দ্দিন-ই। সুফিয়া কামালের জীবনীতে পাওয়া যায়-
“(১৯২৭ খ্রী:) ১৩৩৪ এর অগ্রহায়ণ সংখ্যায়ও সুফিয়ার কবিতা প্রকাশিত হয়। অগ্রহায়ণ সংখ্যা প্রকাশের কয়েকদিন পর বোরখা পরিহিতা সুফিয়া এন. হোসেন 'সওগাত' অফিসে এসে হাজির। উদ্দেশ্য, কবিতা ছাপানোর জন্য সওগাত সম্পাদককে তাঁর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানানো। উল্লেখ্য, 'সওগাত' অফিসে একজন মুসলিম মহিলার আগমন ছিল এই প্রথম। সুফিয়ার বোরখা দেখে নাসিরউদ্দীন সাহেব একটু হাসির ছলে বলেছিলো, 'বোরখা পরলে আপনাকে কবি বলে মানায় না'। জবাবে সুফিয়া জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে বোরখা পছন্দ করেন না, তবে বাড়ির রীতি-নীতির কারণে পরতে হয়। এর পর যখনই তিনি 'সওগাত' অফিসে আসতেন, দোতলার সিঁড়ির উপর উঠেই বোরখা খুলে রাখতেন।”
(http://goo.gl/z8MYbD)
নাসিরুদ্দিনের সওগাত পত্রিকায় লেখালেখি করতো অনেকেই। কিন্তু এদের মধ্যে কারো কারো লেখায় যথেষ্ট সন্দেহ রয়ে যায়। যেমন লেখকদের তালিকায় ছিলো- আবুল মনসুর আহমদ, মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী, হবীবুল্লাহ বাহার, ইব্রাহীম খাঁ, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, কাজী মোতাহার হোসেন প্রমুখ। এখানে লক্ষণীয় ইব্রাহীম খাঁ, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, আবুল মনসুর আহমদরা উপর দিযে কুসংষ্কার, গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লিখলেও তাদের অবস্থান যথেষ্ট সন্দেহযুক্ত। এরা উপন্যাসের নামে মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় বিভেদ তৈরী করতো, এবং কথিত কুসংষ্কারের নাম দিয়ে শিক্ষিত সমাজকে ইসলাম বিদ্বেষী করে তুলতো। খুব সম্ভবত ব্রিটিশরাই মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ তৈরী করতে এদেরকে সৃষ্টি করেছিলো।
অপরদিকে সওগাতের অপর আরেক লেখক কাজী মোতাহার হোসেন হচ্ছে বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথের আমদানিকারক, শিক্ষার নাম দিয়ে মুসলিম নারীদের পর্দা থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার হোতা। কাজী মোতাহার হোসেনের ভাষায়- ‘শিক্ষার চাঞ্চল্যে পর্দার কুহক কাটাইয়া উঠিতে না পারিলে তাঁহাদের সত্বর মুক্তি নাই’ [বাঙালীর সামাজিক জীবন : সঞ্চরণ]।
কাজী মোতাহারের মেয়ে ছায়ানটের সানজিদা খাতুন, ছেলে যৌনবাদী মাসুদ রানার লেখক কাজী আনোয়ার হোসেন । সানজিদা খাতুন ও তার স্বামী ওয়াহিদুল হক-ই বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ নামক হিন্দু সংস্কৃতির আমদানিকারক।
এখানে লক্ষণীয় এরা প্রত্যেকেই মুসলমানদের মধ্যে ঢুকেছিলো মুসলিম নাম নিয়ে, এবং এখনও তারা নিজেদেরকে নাস্তিক হিসেবে প্রকাশ করে না, কিন্তু ‘ধর্মান্ধতা-গোড়ামী দূরীকরণ’, ‘অসাম্প্রদায়িকতা’ ইত্যাদি বাণী শুনিয়ে মুসলমানদের গোড়া এরাই সবচেয়ে বেশি কেটেছে। মুসলিম সমাজের জন্য এরাই ছিলো প্রধান বিশ্বাসঘাতক।
আমার মনে হয়, বাংলাদেশের মুসলমানদের ইতিহাস ভালো করে জানা উচিত, এবং কোন ধারাটি তাদের ক্ষতি করেছে সেটা বোঝা উচিত। তাহলে খুব সহজে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব হবে না।
No comments