Header Ads

ad728
  • Breaking News

    মোসাদ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক

    কালকে থেকে বিএনপি’র অনেকেই মোসাদ ইস্যুতে কথা বলেছে। কেউ বলছে- ‘মোসাদ নেই’, কেউ বলছে- ‘মোসাদ কল্পকাহিনী’, কেউ বলছে- ‘সরকার এগুলো করছে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে’। আসলে রাজনীতি মানেই তো রাজনীতি, রাজনীতির কাজই হচ্ছে অপর দলকে চাপে ফেলা। আওয়ামীলীগও চেয়েছে মোসাদ ইস্যুটাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিএনপিকে চাপে ফেলতে। কিন্তু এর মানে এই নয়- মোসাদ ইস্যুটা সঠিক নয়। আওয়ামীলীগের উচিত ছিলো ইস্যুটাকে রাজনৈতিক নয়, দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা, কিন্তু সেটা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। অনেকেই বলেছে, “মোসাদ হচ্ছে দুর্ধষ গোয়েন্দা সংস্থা, তারা এভাবে প্রকাশ্যে মিটিং করবে, এটা তারা মেনে নিতে পারছে না। আর তারা বাংলাদেশের ইস্যুতে এভাবে কথা বলবে এটাও মেনে নিতে পারছে না।” একটা প্রবাদ আছে- “বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়”। মোসাদ বলতে বাংলাদেশের মানুষ মনে হয় অতিপ্রাকৃত কিছু ভাবে। এই কারণে মোসাদ এজেন্ট সরাসরি দেখলে তারা বিশ্বাস করে না। এখানে লক্ষ্যনীয়- মোসাদ হচ্ছে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা। আর সেদিনের ঘটনায় ভারতে আগত মেন্দি আল সাফাদি হচ্ছে- নেসেট (ইসলাইলী পার্লামেন্ট) এর আন্তর্জাতিক কূটনীতিক দায়িত্বরত একজন। মেন্দি আল সাফাদির নিজেরই একটি লবিগ্রুপ আছে, নাম- মেন্দি আল সাফাদি সেন্টার। এই লবিগ্রুপটি ভারত, আমেরিকা, কোরিয়া, তুরষ্কসহ বেশ কয়েকটি দেশে ইসরাইলি স্বার্থের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষের বোঝা উচিত- যে মেন্দি আল সাফাদিকে পাঠানো হয়েছে ইন্দো-ইসরাইল এর সম্পর্ক ডেভেলপ করার জন্য, সে তো সাধারণ মানের কেউ হতে পারে না, সাফাদি অবশ্যই মোসাদের অফিসার লেভেলের কোন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। এরপর কথা হচ্ছে, সাফাদিকে রিসিভ করেছে বাংলাদেশের শিপন কুমার বসু নামক এক ব্যক্তি। আমি আমার আগের পোস্টে দেখিয়েছি- আমেরিকা থেকে আগত ইসরাইলি লবির অপর সদস্য ইহুদী রিচার্ড বেনকিন বাংলাদেশে কয়েকজন ব্যক্তির সাথে কাজ করেছে- তারমধ্যে একজন সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী এবং আরেকজন শিপন কুমার বসু। সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী বিএনপি আমলেই কিন্তু মোসাদ কানেকশনে গ্রেফতার হয়েছিলো, তাহলে শিপন ‍কুমার মোসাদ এজেন্ট হতে সমস্যা কোথায় ? শিপন কুমার বসু মোসাদের একজন সক্রিয় এজেন্ট এটা আরো নিশ্চিত হয় কারণ রিচার্ড বেনকিন যাওয়ার (২০০৯) ৭ বছর পর মেন্দি আল সাফাদি ঐ শিপন কুমার বসুর কাছেই আসে। অনেকে বলেছে- বাংলাদেশ বিরোধী এত বড় একটা মিটিং এভাবে ফেসবুকে প্রকাশ্যে করবে এটা তো বলা যায় না। আসলে গোপন মিটিং তো হয় গোপনে, প্রকাশ্যে তো সেই মিটিং এর ছবি প্রকাশিত হবে না এবং হয়ও নি। যেটা হয়েছে সেটা ভারত-মোসাদের একটি মিটিং। আসলে এ ধরনের হাজার মিটিং হলেও সরকারের ঘুমন্ত গোয়েন্দা বিভাগের কিছু আসে যায় না, সমস্যা ঘটেছে যখন সেই মিটিং এ বিরোধী দলের কোন নেতা থাকে। স্বাভাবিকভাবে তারা ধারণা করেছে- নিশ্চয়ই সরকার বিরোধী কোন এজেন্ডা আছে। এখানে যদি বিএনপির যায়গায় আওয়ামীলীগ থাকতো তবে তারাও সেটাই মনে করতো। আর ইসরাইলি পত্রিকা জেরুজালেম অনলাইন নিজেই যখন সেই ঘটনা প্রকাশ করে তখন সরকার চুপ করে বসে থাকবে কেন ? তবে শেষে শুধু এতটুকু বলবো, মোসাদ বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে এটা নিশ্চিত। কোন ফাঁকা দিয়ে ঢুকবে এখন সেটাই হলো কথা । আমার মনে হয়, এক্ষত্রে আওয়ামীলীগ জড়িত না বিএনপি জড়িত, এসব ফালতু তর্কে না যেয়ে দেশের স্বার্থে বিদেশী শত্রু দমনে সবার একসাথে কাজ করাটাই উচিত। বি:দ্র: একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, বাংলাদেশ সরকার বিরোধী মিটিং কেন ভারতে হয় ? ভারত তো আওয়ামীলীগের বন্ধু, তাহলে কিভাবে কি ?? আলোচনা হবে পরের পোস্টে। ছবি : ইসরাইলি হোমল্যান্ড সিকিউটিসি সংস্থার কর্মকর্তা আরি এগোজির সাথে মেন্দি আল সাফাদি।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728