
আজকে দৈনিক প্রথম আলো তার ফেসবুক পেইজে একটি খবর দিয়েছিলো। খবরটি ছিলো--
“এই মাত্র পাওয়া :
দুর্গা পূজার সরকারি ছুটি ২৩ অক্টোবরের পরিবর্তে ২২ অক্টোবর”
ফেসবুক পেইজে এই খবরটির নিচে কিছু কমেন্ট দেখুন---
মুসলমানদের কমেন্ট-
১) Arif Chowdhury------ ৩,৪ দিন ছুটি দেয়া দরকার, আমরা যেমন ঈদে আনন্দ ফূর্তি করি তাদেরকেও সুযোগ করে দেয়া হোক।
২) Yousuv Khan------- একদিন কেন আমরা যেমন ঈদের 7 দিন অনেক আনন্দ করি তেমনি তাদেরকে 7 দিন ছুটি দেয়া হোক
৩) শিপন সিকদার কাব্য----------- ধর্ম যার যার,দেশটা সবার। হিন্দু ধর্মের মানুষগুলো যদি আমাদের ঈদের ৪-৫ দিনের ছুটি মেনে নিতে পারে,তাদের ছুটির ক্ষেত্রে আমাদের সমস্যাটা কোথায়!!
৪) Md Reza------- সকলের খেয়াল করা উচিত যার যার ধর্মীয় উৎসব যেন সঠিকভাবে করতে পারে| সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া উচিত| আমি একটা কথা বলতে পারি আমাদের চারপাশে যত হিন্দু পরিবার আছে, সবাই শান্তিতে আছে| হিন্দু মুসলিম নেই কোন বিভেদ|
আসুন এবার কিছু হিন্দুর কমেন্ট দেখি----
১) Joy Debnath---- কি দরকার ছিল একটা দিন ছুটি দেয়ার? আমরা তো সংখ্যালঘু আমাদের আবার ধর্মিয় অনুষ্ঠানে ছুটি লাগে নাকি?
২) Sumon Kumar Ovi---- বালের ছুটি। ঈদ হয় এক দিন। ছুটি দেয় ৪ দিন।আর পূজা হয় ৪ দিন। কিন্তু ছুটি দেয় এক দিন।
৩) Rahul Paul----- বাপরে বাপ!!! একদিন ছুটি দিয়েছেন!!! আমি মনে করেছি ছুটি দিবেই না।তো আমাদের বেলায় ৩ দিন ছুটি দিলে কী দেশের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়ে যায়?
৪) Nopur Sarnop--- চার দিনের পুজোতে ১ দিন ছুটি??? জন্ম থেকেই জ্বলছি। অামৃত্যুই মনে হয় জ্বলতে হবে।।।।।।চার দিন ছুটি চাই............শেষ কথা
(সূত্র: প্রথম আলোর সূত্র: https://goo.gl/PV300Y)
উপরের কমেন্টগুলো পড়লে বুঝতে পারবেন, বাংলাদেশের মুসলিমরা হচ্ছে খুব দরদী এবং হিন্দু তোষক, নিজের ভালোর থেকে তারা হিন্দুর ভালো বেশি বুঝে। অপরদিকে হিন্দুদের কমেন্ট পড়লে বুঝতে পারবেন- হিন্দুরা বাংলাদেশে এত অধিকার পেয়েও খুশি নয়, তাদের আরো চাই চাই। অন্য ধর্মের উপর প্রভাব বিস্তার তাদের মনমগজে ঘুরপাক খায়।
বাংলার মুসলিমরা খুব হিন্দু তোষণ করে, এটা আজকের কথা নয়। কয়েকশ’ বছর ধরে এই ট্রেন্ড চলছে। কিন্তু হিন্দু তোষণ করে মুসলিমদের কি উপকার হয়েছে, না অপকার হয়েছে ? এ সম্পর্কে আজ থেকে ১১৮ বছর আগে সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন একটা কবিতা লিখেছিলো। কবিতাটির নাম ‘বর্তমান মুসলমান সমাজের একখানি চিত্র’। কবিতাটির মাধ্যমে বলা হয়েছে ব্রিটিশ আমলে কিভাবে মুসলিম সম্ভ্রান্ত সমাজটির পতন ঘটলো। কবিতাটির বিশেষ কিছু অংশ ব্যাখ্যাসহ আপনাদের জন্য দেওয়া হলো-----
“-দ্বিতল ত্রিতল ঘর
খাড়া আছে ভিত্তি পর
সুর্কি চুন খসিয়া পড়েছে।
-জানালা কপাট ভাঙা
ভেঙে পড়ে ইট রাঙা
কত গাছ শিকড় ছাড়িছে
-চামচিকে আরশুলা
দিনকানা পেঁচাগুলা
গিরগিটি জেঠী করে বাস
-যাদের বাসের কথা
কুঁড়ে বেঁধে আছে তথা
দালানের এপাশ ওপাশ।”
ব্যাখ্যা: কবিতার শুরুতে বর্ণনা করা হয়েছে ব্রিটিশ আমলে অভিজাত মুসলমানদের করুণ অবস্থার কথা। তারা এবং তাদের পূর্বপুরুষরা যে অট্টালিকায় বাস করতো, তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এবং তারা কুঁড়েঘরে বাস করতে বাধ্য হচ্ছে।
“-কাঁটায় চিরিছে গা
কুড়ালে কাটিছে পা
শিরে কাট, ফিরে সারা হাট।
-এ হাট তাদেরি ছিল
ফাঁকি দিয়ে কেড়ে নিল
পুরাতন নায়েবের ভাই
-পৈত্রিক বসত বাড়ী
পুষ্করিণী গোলাবাড়ী
কিনিয়াছে তাহার জামাই
-প্রথমেতে ছুঁচ হয়ে
পশে হিন্দু রয়ে রয়ে
মুসলমান জমিদার ঘরে
-ক্রমে চেপে বসে ঘাড়ে
সাধ্য নাই মাথা নাড়ে
“ফাল” হয়ে ফাড়ে চেড়ে পরে।”
ব্যাখ্যা: মুসলমান অভিজাত পরিবারের সন্তানেরা সহায়সম্বল সব হারিয়ে কাঠ কেটে হাটে নিয়ে যাচ্ছে, অথচ এ হাট তাদেরই ছিল। হিন্দুরা মুসলমানদের মধ্যে ‘ছুঁচ’ হয়ে ঢুকে ‘ফাল’ হয়ে বের হয়েছে। হিন্দু নায়েবের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবার তাদের জমিদারী হারিয়েছে। কিন্তু এই হিন্দু নায়েবকে তো তারাই মাথায় তুলেছিল তার তোষামোদিতে ভুলে।
“-সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়
জোড় হাতে কথা কয়
তোষামোদে বড় বাহাদুর।
-গণ্ডমূর্খ জমিদার
ফুলে হলো ঢোলাকার
শুনিতেও ভাল লাগে কানে
-আগ পাছ নাহি চান
আহলাদেতে গলে যান
খাবি খান খুশির তুফানে
-যদি বলি জল উচা
বলে হিন্দু তাই সাচা
প্রতিবাদ করে না কাহার
-বিদ্যাহীন বুদ্ধিহীন
একেবারে অর্বাচীন
বাঙ্গালার সব জমিদার।”
ব্যাখ্যা: হিন্দুদের তোষামোদি মনোবৃত্তির যে বর্ণনা মীর মশাররফ হোসেন দিয়েছিল, তা সব সময়ের জন্যই সত্য। এখনও হিন্দুরা যেখানে যায়, সেখানে অতিরিক্ত অতিরিক্ত কাচু-মাচু ভাব করে। এতে হিন্দুদের অতীব বিশ্বাস করে ফেলে মুসলিম মালিকরা। সব দায়িত্ব তুলে দেয় হিন্দুদের হাতে। আর সেই হিন্দুটি এক সময় মুসলিম মালিকের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে।
সে সময়ে মুসলমানরা রাজা-বাদশা থেকে পথের ফকির হয়েছিল, যার বর্ণনা দিয়ে মীর মশাররফ হোসেন আরো লিখেছে-
“-যাহারা দেশের মান
মানি মধ্যে মান্যমান
ছিল মান সম্ভ্রম প্রচুর।
-তাদের তনয় যারা
আরদালি হরকরা
হইয়াছে মুটিয়া মজুর।
-ডেপুটির পুত্র হয়ে
ডেপুটির বাক্স লয়ে
পালকির আগে আগে ধায়।
-মুন্সেফের সন্তান
মারিয়া তামাকে টান
বাজারেতে টিকে বেঁচে খায়।
-কটিতে কাপড় আঁটা
হাতেতে বাঁশের ঝাঁটা
যায় কাঁটা ফেলিতে পথের
-জিজ্ঞাস তাঁহার ঠাঁই
পরিচয় পাবে ভাই
সে যে পৌত্র কোন নবাবের।
-দেখ দিল্লী লক্ষৌ গিয়ে
আছে ভস্মে আচ্ছাদিয়ে
কত মহামূল্য রত্ন ধন
-শাহানশার বংশধর
পান বেচে করে ঘর
কোচয়ানী করে কোন জন।
এক সময়কার মুসলিম নবাবের নাতির হাতে এখন ঝাড়ু, কিংবা বাদশাহর বংশধরদেররা এখন পান বেচে সংসার চালায়। এ দৃশ্যগুলো কবির কল্পনা নয়, বরং ইতিহাসের চরম বাস্তব। কিন্তু বাংলা ও পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের এই দুরবস্থার কারণ কী ছিল? মীর মশাররফ হোসেনের আরো বলেছে-
“-বঙ্গের বুনেদী দল
গেছে সব রসাতল
কেহ মরা কেহ আধমরা
-গেছে সব হিন্দু ঘরে
কেহ না তা দৃষ্টি করে
আরও মুখে বলে ভালো তারা
-একবার মাথা তুলে
দেখ ভাই চক্ষু মেলে
মুসলমান কিসে হল সারা।
-জমিদারী কোথায় গেল
সোনারূপা কি হইল
এত ঘর কিসে গেল মারা।
জমিদার পরিবারের সন্তান মীর মশাররফ হোসেন তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছেন, এই যতো কথিত হিন্দু জমিদার দেখছো, তাদের প্রত্যেকে অর্থশালী হয়েছে প্রতারণার মাধ্যমে মুসলমানদের ধনসম্পদ কেড়ে নিয়ে-
“-দেখ যত হিন্দু ঘর
কিসে হল ধনেশ্বর
খোঁজ দেখি কারণ ইহার
-প্রতি মুসলমান ঘরে
চাকুরীর সাজ পরে
সর্বনাশ করিল সবার।”
(কবিতাটির পিডিএফ পেতে- https://goo.gl/RHQLYm)
১৮৯৭ সালে আজ থেকে ১১৮ বছর আগে লেখা মীর মশাররফ হোসেনের কবিতার দ্বারা এটাই প্রমাণ হয়-- ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে মুসলিমরা যে হিন্দু তোষণ করে, এর ফল কিন্তু ভালো নয়। বরং ইহা মুসলিমদের অধঃপতনের লক্ষণ। আপনি কথিত অসাম্প্রদায়িক সাজবেন, হিন্দুদের প্রতি সমীহ দেখাবেন, লাভ নেই। এই হিন্দুরাই আপনার বাড় পেয়ে সুযোগ নিয়ে আপনারই গলায় ছুরি চালা্বে, আপনার সব কিছু কেড়ে নিবে।
তাই প্রথম আলোর ফেসবুক পেইজে মুসলিমদের কমেন্ট এবং ১১৮ বছর আগে মীর মোশাররফ হোসেনের কবিতা এটাই প্রমাণ করে, যেহেতু মুসলমানরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, তাই ব্রিটিশ আমলে যেমন সম্ভ্রান্ত মুসলিমরা খুব কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে হয়েছিলো, ঠিক তেমনি খুব শিঘ্রই বাংলাদেশের মুসলিমরাও কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হতে চলেছে, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে হিন্দুবাদীদের এক কঠিন পরাধীনতার শিকল।
No comments