Header Ads

ad728
  • Breaking News

    ১১৯ বছর আগের কবিতায় বাংলাদেশের মানুষের ভবিষ্যৎ

    এক সময় এ অঞ্চলের সকল জমিজমা ধন সম্পত্তির মালিক ছিলো মুসলমানরা। কিন্তু ব্রিটিশরা ক্ষমতায় এসে মুসলমানদের থেকে জমি কেড়ে তাদেরই কর্মচারি হিন্দুদের দিলো (১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন এর মাধ্যমে)। তখন চাকর হিন্দুরা হয়ে গেলো জমিদার আর নবাবের পুত্র মুসলমানরা হয়ে গেলো পথের ফকির। সে সময় মুসলমানদের করুণ অবস্থা নিয়ে একটি কবিতা রচনা করেছিলেন মীর মশাররফ হোসেন। ১৮৯৭ সালে কবিতাটি ‘হাফেজ’ নামক একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কবিতার নাম-“বর্তমান মুসলমান সমাজের একখানি চিত্র”। আসুন কবিতাটির উল্লেখ্যযোগ্য কিছু অংশ পড়ি- “-যাহারা দেশের মান মানি মধ্যে মান্যমান ছিল মান সম্ভ্রম প্রচুর। (অর্থাৎ- এক সময় মুসলমানরা মান-সম্ভ্রমের অধিকারী ছিলো) -তাদের তনয় যারা আরদালি হরকরা হইয়াছে মুটিয়া মজুর। (অর্থাৎ- সেই প্রতাপশালী মুসলমানদের সন্তানরা হয়ে গেলো কর্মচারি, হকার, মুটে, মজুর) -ডেপুটির পুত্র হয়ে ডেপুটির বাক্স লয়ে পালকির আগে আগে ধায়। (অর্থাৎ- যে মুসলমানের বাবা ডেপুটি ছিলো, সেই এখন ডেপুটির বাক্সবাহী চাকর) -মুন্সেফের সন্তান মারিয়া তামাকে টান বাজারেতে টিকে বেঁচে খায়। (অর্থাৎ- এক সময়ের মুন্সেফের সন্তান, এখন দরিদ্র অবস্থা) -কটিতে কাপড় আঁটা হাতেতে বাঁশের ঝাঁটা যায় কাঁটা ফেলিতে পথের (অর্থাৎ- মুসলমানরা হলো ঝাড়ুদার) -জিজ্ঞাস তাঁহার ঠাঁই পরিচয় পাবে ভাই সে যে পৌত্র কোন নবাবের। (অর্থাৎ- সেই ঝাড়ুদার মুসলিমের পরিচয় হয়ত কোন নবাবের নাতী) -শাহানশার বংশধর পান বেচে করে ঘর কোচয়ানী করে কোন জন। (অর্থাৎ- মুসলিম শাসকের বংশধর পান বেচে খায়) “-বঙ্গের বুনেদী দল গেছে সব রসাতল কেহ মরা কেহ আধমরা (অর্থাৎ- বনেদী মুসলমানদের অবস্থা মরা কিংবা আধমরা) -গেছে সব হিন্দু ঘরে কেহ না তা দৃষ্টি করে আরও মুখে বলে ভালো তারা (অর্থাৎ- মুসলিমদের সমস্ত সম্পত্তি হিন্দুর ঘরে চলে গেছে) -একবার মাথা তুলে দেখ ভাই চক্ষু মেলে মুসলমান কিসে হল সারা। -জমিদারী কোথায় গেল সোনারূপা কি হইল এত ঘর কিসে গেল মারা। “-দেখ যত হিন্দু ঘর কিসে হল ধনেশ্বর খোঁজ দেখি কারণ ইহার -প্রতি মুসলমান ঘরে চাকুরীর সাজ পরে সর্বনাশ করিল সবার।” (অর্থাৎ- হিন্দুরা মুসলমানদের ঘরে চাকুরীর অজুহাতে ঢুকেছিলো। এরপর সেই হিন্দুই মুসলমানদের সাথে বেঈমানি করলো। ব্রিটিশ সহযোগীতায় মুসলমানদের জমি কেড়ে নিলো) (পুরো কবিতার পিডিএফ পেতে- https://goo.gl/RHQLYm) বর্তমানেও কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। বাংলাদেশের মানুষ দয়া করে হিন্দুদের যায়গা দিয়েছিলো (৪৭-এ পূর্ব পাকিস্তান শুধু্ই মুসলমানদের জন্য)। হিন্দুদের প্রতি অতিরিক্ত দয়া ভালোবাসা প্রকাশ করেছিলো। মুসলমানদের অতিরিক্ত হিন্দু তোষণে বেড়ে ওঠা হিন্দুরাই এখন মুসলমানদের ঘাড়ে চেপে বসছে। সরকারী সহযোগীয় চাকুরী-বাকরী দখল করছে। সর্বশেষ মুসলমানদের উচ্ছেদ করে জমিজমা দখল করছে। সম্প্রতি সিলেটে প্রায় ৩০ হাজার মুসলমানকে উচ্ছেদ করে ১টি মন্দির বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ১১৯ বছর আগে লেখা মীর মশাররফ হোসেনের কবিতার ঘটনা বর্তমানেও ঘটতে থাকবে। মুসলমানদের ঘর-বাড়ি সম্পদ সব চলে যাবে হিন্দুর ঘরে। মুসলমানরা পথে বসে কুলি-মজুর হবে, আর হিন্দুরা তাদের ঠুকরিয়ে ঠুকরিয়ে শাসন করবে।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728