
গত কয়েকদিন ধরে রানাদাশ গুপ্ত বেশ মিটিং মিছিল যাচ্ছে। তার দাবি- চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়নহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ নাকি জঙ্গীবাদ ছড়াচ্ছে। তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সকল পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে, গ্রেফতার করতে হবে। তার দোষ কতদিন আগে এক ভিডিও পাওয়া গেছে- সেখানে চেয়্যারম্যান হারুনুর রশীদ স্থানীয় তাবলীগ মুসল্লীদের বলেছেন- “আপনারা হিন্দুদের মুসলমান করেন না কেন ?” (http://goo.gl/NDzfSg)
উল্লেখ্য- কিছুদিন আগে এই রানাদাশ গুপ্ত ভারত গিয়ে মোদির কাছে বলে এসেছে- “মোদি যেন বাংলাদেশের উপর হস্তক্ষেপ করে।”
এদিকে,
গত কয়েকদিন আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ছা্ত্রলীগের ছাত্রী বিষয়ক উপসম্পাদক রিতিকা রহমানকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। তার দোষ সে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছিলো- মুসলমানরা হিন্দুদের জন্মাষ্টমী নিয়ে উৎফুল্ল কেন ? হিন্দুরা কি মুসলমানদের সাথে নামাজ পড়তে আসে ? এই স্ট্যাটাস দেওয়ার পর হিন্দুরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং হিন্দুদের প্রতিবাদের মুখে ঐ ছাত্রীকে বহিষ্কার করা করে ছাত্রলীগ। (http://goo.gl/X5QRgU)
কিছুদিন আগে শাবি ছাত্রলীগের এক নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। তার দোষ সে ফেসবুকে হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ মনুসংহিতা থেকে একটি লাইন তুলে দিয়েছিলো, যেখানে লেখা ছিলো- “নারীর সৃষ্টি হয়েছে শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য” (মনুসংহিতা- ৯:৯৬)
ব্যস এর পরই হিন্দুরা ক্ষেপে উঠে এবং হিন্দুদের প্রতিবাদের মুখে ঐ সাম্প্রদায়িক (!) ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ। (http://goo.gl/BL7qNi)
যাই হোক এই হচ্ছে বাংলাদেশের মুসলমানদের সাম্প্রদায়িকতা, যাকে হিন্দুরা জঙ্গীবাদ বলেই দাবি করে থাকে।
এবার একটু ছবির দিকে তাকান- ভারতে হিন্দুরা জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পথনাট্যের দৃশ্যায়ন করছে। প্রতিটি দৃশ্যায়নের থিম হচ্ছে মুসলমানদের কুপিয়ে মারতে হবে, হত্যা করতে হবে। যে দেশের শিশুরা নাটকের মধ্যে এত জঘন্য মুসলিম বিদ্বেষী হিংস্র পথনাট্যের দৃশ্য মঞ্চায়ন করতে পারে, তবে বাস্তবে তাদের অবস্থানটা কোথায় ? একবার চিন্তা করে দেখেছন ??
আমি বলবো, অবশ্যই বলবো-
হিন্দুরা ভালো জাতি, মুসলমানরা খারাপ জাতি। হিন্দুরা তাদের স্বজাতির ভালোটা বুঝে, তারা বুঝে কিভাবে অপর জাতিকে দমিয়ে নিজ জাতিকে উপরে তোলা যায়। এটা করতে গি তারা নিজের খারাপটাও ভালো করে উপস্থাপন করে। গরুর মুত-গু খায়, প্রচার করে এটার মধ্যে ভিটামিন আছে। সংসদে ন্যাংটা সাধু এনে ভাষণ দেওয়ায়, আর প্রচার করে খুব সভ্য কাজ হয়েছে। একেই বলে সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসা, আরো সোজা ভাষায় বলতে সাম্প্রদায়িকতা। এদেরকে কিন্তু আমি-আপনি ভালো বলি।
আর মুসলমানরা হয়েছে এখন অসাম্প্রদায়িক। তারা নিজের থেকে হিন্দুর ভালোটা বেশি বুঝে। মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির বানায়, মুসলিম উচ্ছেদ করে মন্দিরের জমি দেয়। হিন্দুদের জোর করে ২০০ কোটি টাকা অনুদান দেয়। কেউ হিন্দুদের স্বার্থের বিরুদ্ধে বললে তার টুটি চেপে ধরে, তাকে দেশ ছাড়া করে, জেল-জরিমানা করে। সবাই বলে- “হিন্দু মুসলিম ভাই ভাই। হিন্দুদের অধিকার দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। মুসলমানদের কম দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু হিন্দুদের বেশি দিতে হবে।” এত সুযোগ পেয়ে রানাদাশ গুপ্তরা আরো মাথায় চড়ে বসেছে- একে একে কাঠাল ভেঙ্গে কোয়া খাচ্ছে। আবার ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ দখল করার অনুরোধও করে এসেছে।
আমি বলবো, যদি এখন বাচতে চান-
তবে ‘সংখ্যালঘু হলেই তার প্রতি ভালোবাসা দেখাতে হবে’, এই তত্ত্ব ছেড়ে ফেলুন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশীদের সাথে অনেক বিহারীও থাকতো। ঐ সময় যদি সংখ্যালঘু বিহারীদের কথা ভাবতে হতো, তবে এখন বাংলাদেশ স্বাধীন করা হতো না। স্বাধীনতার পর যে বিহারীরা থেকে গেছে তাদের একঘরে করা হয়েছে, বিহারী ক্যাম্প বানিয়ে তাদের নিষ্পেষণ করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে স্বাধীনতার কথা বলে। তাহলে যে হিন্দুরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, যে হিন্দুরা ভারতে মুসলিম মারছে, বাংলাদেশেও মারার ছক আকছে, বাংলাদেশের টাকা ভারত নিয়ে জমাচ্ছে, আপনার চাকুরী-ব্যবসা কুরে কুরে খাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আপনি নরম কেন ?? কিসের এত অসম্প্রদায়িকতা, কিসের এত সেক্যুালারিজম। তারা তো সেক্যুালারিজম দেখায় না, আপনি কেন জোর করে মারছেন। বাংলাদেশী মুসলমানদের এই ভুলের কারণে তাদের পস্তাতে হবে, অনেক পস্তাতে হবে। এখন বুঝতেছেন না, একটা সময় বুঝবেন, আমি সত্য বলেছি, না মিথ্যা বলেছি।
No comments