বাংলাদেশের সরকার প্রধান কি ইসলামের থেকে হিন্দু ধর্মের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে গেছেন ?
এবার বাংলাদেশে মুসলমানদের কোরবানী ঈদ ও হিন্দুদের দূর্গা পূজা খুব কাছাকাছি পড়েছে। এই দুই উৎসবে সরকারের বিভিন্ন ভূমিকা ছিলো চোখে পড়ার মত। যেমন-
১) কোরবানী ঈদ উপলক্ষে গরুর হাট বসানোর উপর এবার ছিলো সরকারের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা। যেখানে সেখানে হাট করা যাবে না, হাট করলে যানজট হয়, হাট করলে পরিবেশ দূষণ হয়, এত হাটের দরকার কি ? হাট কমাও। হাট তিন দিনের বেশি বসতে পারবে না। স্কুলের মাঠে হাট কেনো ? হাট উচ্ছেদ করো। শেষে এসে হাটগুলোকে শহর থেকে ভাগিয়ে দিয়ে শহরের বাইরে স্থাপন করা হয়েছে। অথচ এবার পূজায় সবার সামনে উন্মোচিত হলো সরকারের উল্টো অবস্থান। আসুন স্কুল কলেজগুলোতে পূজা করি। যত পারুণ তত মণ্ডপ বানান, মাঠ-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্বত্র মণ্ডপ চাই। কোরবানীর হাটের ব্যাপারের ‘দূর’ ‘দূর’, আর পূজার ব্যাপারে ‘আসুন’ ‘আসুন’। কারণটা কি ? বাংলাদেশের সরকার প্রধান কি ইসলামের থেকে হিন্দু ধর্মের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে গেছেন ??
২) কোরবানী ঈদ উপলক্ষে মুসলমানদের জন্য কোন বরাদ্দ নাই। কত দরিদ্র মানুষ আছে যারা কোরবানী দিতে পারে নাই, সরকার কি পারতো না, তাদের সামান্য কিছু বরাদ্দ দিয়ে দরিদ্র মানুষগুলোকে মাংশ খাওয়াতে। কিন্তু সরকার সেটা করে নাই। অথচ পূজার সময় দেখুন। প্রত্যেক মন্দিরে মন্দিরে থাকে আলাদা বরাদ্দ। সরকার উপরের মহল থেকে ডিসি-টিএনও-ইউএনও’র প্রতি নিদের্শ দেয়া থাকে- কোন মণ্ডপ যদি বরাদ্দ নাও নিতে চায়, তবে যেন জোর করে বরাদ্দ দেয়া হয়। শুধু সরকারী বরাদ্দ নয়, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় এমপি-ডিসি-ম্যাজিস্ট্রেট ও নেতাদের পক্ষ থেকেও মন্দিরগুলোতে আলাদা অনুদান থাকে। কিন্তু অবাক লাগে মুসলমানদের জন্য সে ধরনের কোন বরাদ্দ থাকে না। এ থেকেও কি অনুমান করা যায় না, বাংলাদেশের সরকার প্রধান ও তার রাজনৈতিক দলের সদস্যরা কি ইসলামের থেকে হিন্দু ধর্মের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে গেছেন ??
৩) এ বছর মুসলমানদের জন্য সরকার নির্ধারিত কোরবানীর স্পট ছিলো মাত্র ৬ হাজরের মত। অথচ পূজার স্পট করা হয়েছে ৩০ হাজার। সরকার বলেছে- কোরবানী যত্রতত্র চলবে না, কিন্তু পূজা যত্রতত্র চলবে। পূজা হবে ঘরে, কোরবানী হবে দূরে। ইতিমধ্যে সরকারের উর্ধ্বতন মহল থেকে প্রত্যেক পৌরসভায় চিঠি দেয়া হয়েছে পূজা উপলক্ষে এলাকার রাস্তা জরুরী মেরামত করার জন্য। পূজার সময় যেন মানুষের কষ্ট না হয়। কেন হঠাৎ এই হিন্দুপ্রীতি !! হঠাৎ অতিরিক্ত হিন্দু প্রীতি থেকে কি অনুমাণ করা যায় না, বাংলাদেশের সরকার প্রধান হঠাৎ ইসলামের থেকে হিন্দু ধর্মের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে গেছেন ??
৪) এ বছর সরকার বলেছে- ১৮ বছরের নিচে কেউ কোরবানী করতে পারবে না, করলে নাকি ভয় পাবে। শুধু তা্ই নয় কোরবানী রক্ত নিয়েও অনেক সরকারপন্থী মিডিয়ায় সৃষ্ট করা হয়েছে অপপ্রচার। কিন্তু পূজার সময় ? বিকট চেহারার মূর্তি, হাতে অস্ত্রপাতি, যা দিয়ে মানুষ খুন করছে সে। এছাড়া মূর্তির হাতে রয়েছে মানুষের কাটা মাথা, গলায় মনুষ্য মুণ্ডুর খুলির মালা, রক্ত লাল জীবে মানুষের রক্ত। তারপরও বলা হচ্ছে মূর্তি খুব ভালো, শিশুদের জন্য পূজা খুউব উপকারি।আসুন সবাই মিলে পূজা করি আর কোরবানিকে দূরে ঠেলি। এ থেকে কি অনুমাণ করা যায় না, বাংলাদেশে সরকার প্রধান হঠাৎ ইসলামের থেকে হিন্দু ধর্মের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে গেছেন । তাই হিন্দু ধর্ম ভালো লাগছে, আর ইসলাম ধর্ম খারাপ লাগছে।
৫) নদী দূষণ হবে বলে, পৃথিবীর কোথাও মূর্তি পানিতে ফেলতে দেয় না। ইউরোপ-আমেরিকার কোথাও নয়। এমনকি ভারতেও পানিতে মূর্তি ফেলার উপর জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ দেশে মূর্তি পানিতে ফেলাতে নিষেধ করা তো অনেক পরের জিনিস উল্টো সারা দেশে রাস্তাঘাট বন্ধ করে, মানুষকে আটকে রেখে মূর্তিগুলোকে সরকারী বাহিনী দিয়ে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নদীতে। এরপর ৩০ হাজার মণ্ডপের ২-৩ লক্ষ মূর্তি একযোগে পানিতে ফেলানো হয়। কোরবানী করলে পরিবেশ দূষণ হয়, কিন্তু মূর্তি পানিতে ফেললে পানি দূষিত হয় এই কথা ঘুনাক্ষরেও বলে না সরকার। এ দ্বারা অবশ্য বোঝা যায় বাংলাদেশের সরকার প্রধান বিশেষভাবে হিন্দু ধর্মের দিকে ঝুকে রয়েছেন।
৬) ভারতে পূজার মূর্তি ৩৯ ফুটের বেশি করা যায় না, আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু বাংলাদেশে ৭১ ফুট, ৬০ ফুট বিভিন্ন উচ্চতার মূর্তি বানানো হচ্ছে। হিন্দুরাষ্ট্র ভারত নিষেধাজ্ঞা দিলেও, বাংলাদেশ কোন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। এ দ্বারাও প্রমাণ হয় বাংলাদেশের সরকার প্রধান মূর্তি পূজার দিকে বিশেষ ঝুকে গেছেন। কারণ তিনি তো বলেছেন- ‘গজে চড়ে মা দূর্গা এসেছেন, তাই এবার ফসল ভালো হযেছে।’
আমিও চাই- মা দূর্গা বাংলাদেশের সরকারকে আশির্বাদ করুন। সমস্যা কি জানেন, হিন্দু ধর্মে নতুনভাবে দিক্ষিত হওয়া যায় না। হলে তাকে নমশুদ্র হতে হয়। থাক তাতেও সমস্যা নাই- হিন্দু ধর্মকে ভালোবাসতে পারলেই অনেকে খুশি। হোক না ছোট জাত...
No comments