‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এমন উক্তি ইসলাম বিরোধী: আল্লামা শফী
হিন্দুদের পূজার অনুষ্ঠানে কতিপয় মুসলমানের শরীক হওয়াকে সমর্থন ও উৎসাহিত করে “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার” এমন উক্তি বা বক্তব্য দেয়া সম্পূর্ণ ইসলাম ও যুক্তি বিরোধী বলে উল্লেখ করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী। তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মানুসারীরাও এ ধরনের বক্তব্য স্বীকার করে না। যদি করত, তাহলে ভারতীয় মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী’র উৎসবে হিন্দুরা হিংসাত্মক আক্রমণ ও বাধা দিত না। গরু কুরবানীর হালাল কাজে বাধা দিয়ে মুসলমানদেরকে হত্যা করতো না।
তিনি বলেন, গরু জবাই করা ও গরুর মাংস খাওয়া হিন্দুশাস্ত্রে নিষিদ্ধ থাকলেও ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। তাহলে ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলমানদের এই ধর্মীয় অধিকারে কেন বাধা দেয়া হচ্ছে? অপরদিকে মূর্তিপূজা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম, অথচ হিন্দুধর্মে এটাই উপাসনা ও পুণ্যের কাজ। কিন্তু মুসলমানরা তো ইসলামে নিষিদ্ধ মূর্তি পূজায় হিন্দুদেরকে কখনোই বাধা দেওয়ার দাবি বা আওয়াজ তুলেনি।
আজ (৮ অক্টোবর) শনিবার সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে হেফাজত আমীর এসব কথা বলেন।
আল্লামা আহমদ শফী বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ৬ অক্টোবর সংবাদপত্রে প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী পুজার বাণীর একটা অংশে বলেছেন, “দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবই নয়, এটি আজ সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে”। তিনি আরো বলেছেন, “আমার প্রত্যাশা, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- এ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে আমরা সবাই একসাথে উৎসব পালন করব”।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত ও আপত্তিকর। এই বক্তব্য বাংলাদেশের কোটি কোটি মুসলমানকে আহত করেছে।
তিনি বলেন, হিন্দুদের ধর্মীয় উপাসনা, পূজা বা আরাধনায় যে কোনরূপ অংশ নেয়া মুসলমানের জন্যে অবশ্যই হারাম। নিজে পূজা করা যাবে না, প্রতিমা তৈরিতে ব্যক্তিগত অর্থসাহায্য করা যাবে না, উপাসনায় দৈহিক, মানসিক, আর্থিক কোন ধরনের সহায়তা দেয়া যাবে না। যদি কোন মুসলমান ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমুসলিমদের পূজা অর্চনায় শরীক হয়, পূজা অনুষ্ঠান উপভোগ করে, দেবীর কাছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে, দেবীর বিভিন্ন গুণকীর্তন করে, তাহলে সে কোনভাবেই আর মুসলমান থাকে না।
আল্লামা শাহ আহমদ শফী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়সহ কিছু কিছু মহল থেকে এমন শ্লোগান তোলা হচ্ছে যে, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”। এটা কুফরী উক্তি। তিনি বলেন, মূলত এমন শ্লোগান তোলাটা মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধ ধ্বংস করার নানামুখী ষড়যন্ত্রেরই একটা অংশ। তিনি বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাস বাদ, ইসলাম বিরোধী শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠাসহ বিজাতীয় ভোগবাদি, নগ্নপনা ও বেহায়াপনার সংস্কৃতিকে অবাধ করে দেওয়ার পাশাপাশি নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এদেশের মুসলমানদেরকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাবোধ বলে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।

No comments