সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ
সাম্প্রদায়িকতা কাকে বলে ??
সাম্প্রদায়িকতা কোন খারাপ জিনিস নয়। সাম্প্রদায়িকততা হচ্ছে কোন সম্প্রদায়ের পক্ষে কাজ করা । সাম্প্রদায়িক চেতনা না থাকলে আপনার মধ্যে দেশপ্রেমেই জাগ্রত হবে না। ’৫২ ভাষা আন্দোলন হয়েছিলো বাংলাভাষীদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো পূর্ববাংলার মানুষের সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে। কোন জাতির জাতীয়তাবাদ হচ্ছে জাতির সকল সদস্যদের সাম্প্রদায়িকতার সমষ্টি মাত্র।
সাম্প্রদায়িকতা কোন খারাপ জিনিস নয়। সাম্প্রদায়িকততা হচ্ছে কোন সম্প্রদায়ের পক্ষে কাজ করা । সাম্প্রদায়িক চেতনা না থাকলে আপনার মধ্যে দেশপ্রেমেই জাগ্রত হবে না। ’৫২ ভাষা আন্দোলন হয়েছিলো বাংলাভাষীদের সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো পূর্ববাংলার মানুষের সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে। কোন জাতির জাতীয়তাবাদ হচ্ছে জাতির সকল সদস্যদের সাম্প্রদায়িকতার সমষ্টি মাত্র।
সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কাকে বলে ??
মানুষ সাধারণত একত্র হয় দুই ভাবে-
১) হয় কোন কিছুর পক্ষে একত্রিত হয়,
২)অথবা, কোন কিছুর বিপক্ষে একত্রিত হয় ।
হিন্দুদের একটি সমস্যা হলো, তাদের ধর্মে এমন কিছু নেই যার উপর নির্ভর করে তারা একত্র হতে পারে । যেমন হিন্দুরা একেক এলাকায় একেক দেবতার পূজা করে, তাই দেবতা দিয়ে তারা একত্র হতে পারে না। আবার তাদের এমন কোন দিবস নেই, যেটা সকল হিন্দু একত্রে পালন করে। তাই একত্র হওয়ার জন্য হিন্দুদের বেছে নিতে হয় দ্বিতীয় পলিসিটি, মানে কোন কিছুর বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া। আর এই কোন কিছুটাই হচ্ছে ‘মুসলিম জাতি’ । অর্থাৎ নিজ জাতিকে একত্রিত করতে তাদের সৃষ্টি করতে হয় ‘মুসলিম বিদ্বেষ’ । একমাত্র মুসলমান বিদ্বেষের চর্চা করলেই তারা একত্রিত হতে পারে তথা হিন্দুত্ববাদী চেতনা জাগ্রত করতে পারে। এটাই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা নয়।
মানুষ সাধারণত একত্র হয় দুই ভাবে-
১) হয় কোন কিছুর পক্ষে একত্রিত হয়,
২)অথবা, কোন কিছুর বিপক্ষে একত্রিত হয় ।
হিন্দুদের একটি সমস্যা হলো, তাদের ধর্মে এমন কিছু নেই যার উপর নির্ভর করে তারা একত্র হতে পারে । যেমন হিন্দুরা একেক এলাকায় একেক দেবতার পূজা করে, তাই দেবতা দিয়ে তারা একত্র হতে পারে না। আবার তাদের এমন কোন দিবস নেই, যেটা সকল হিন্দু একত্রে পালন করে। তাই একত্র হওয়ার জন্য হিন্দুদের বেছে নিতে হয় দ্বিতীয় পলিসিটি, মানে কোন কিছুর বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়া। আর এই কোন কিছুটাই হচ্ছে ‘মুসলিম জাতি’ । অর্থাৎ নিজ জাতিকে একত্রিত করতে তাদের সৃষ্টি করতে হয় ‘মুসলিম বিদ্বেষ’ । একমাত্র মুসলমান বিদ্বেষের চর্চা করলেই তারা একত্রিত হতে পারে তথা হিন্দুত্ববাদী চেতনা জাগ্রত করতে পারে। এটাই হচ্ছে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, সাম্প্রদায়িকতা নয়।
উপরের আলোচনা থেকে দুটো সংজ্ঞা আসছে। একটি সাম্প্রদায়িকতা, অপরটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। দুটো বিষয় কিন্তু এক নয়। অথচ আজকাল চেতনাবাদীরা মুসলমানদের বেলায় দুটো বিষয়কে এক করে ফেলে । কেউ ইসলামের পক্ষে বললেই তাকে সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দেয়, অথচ নির্দেশ করে ‘সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ’ হিসেবে। অপরদিকে কোন হিন্দু হিন্দুত্ববাদ প্রকাশ করলেও সেটা দেখা হয় ভালো হিসেবে, যদিও তার মূলে লুকিয়ে আছে গভীর সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ।
সাম্প্রদায়িকতা বা কোন জাতির পক্ষে কাজ করা ভালো জিনিস। তবে অবশ্যই তা সৎ উদ্দেশ্যে ও ন্যায় সঙ্গতভাবে হতে হবে। কেউ কেউ অসৎউদ্দেশ্যেও সাম্প্রদায়িকতা ব্যবহার করে থাকে। যেমন- আমেরিকা। আমেরিকা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে বলে। কিন্তু এটা সৎ উদ্দেশ্যে নয়, অসৎ উদ্দেশ্যে। সে মুসলিম কমিউনিটির বিরুদ্ধচারণ করতে গিয়ে বিপরীত পক্ষ তথা হিন্দুদের বেছে নেয়। এক্ষেত্রে আমেরিকার সাম্প্রদায়িকতার পেছনে লুকিয়ে থাকে গভীর সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ।
বিষয়গুলো আলোচনার দরকার এই কারণে, আজকাল কোন মুসলমান, মুসলমানদের পক্ষে বললেই তাকে সাম্প্রদায়িক ট্যাগ দেয় হয়, যদিও নির্দেশ করা হয় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষকে। এ ভ্রান্তির অবসানের দরকার আছে। আশা করবো, মুসলমানদের বেলায় ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দের অপব্যবহার বন্ধ হবে।
No comments