Header Ads

ad728
  • Breaking News

    ঐশীর মৃত্যুদণ্ড ও বাংলাদেশীদের হুজুগ

    সত্যিই বাংলাদেশীদের মত হুজুগে মাতাল আর হয় না।
    ঐশি নামক মেয়েটিকে বাবা-মাকে খুনের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে,
    আর পাবলিক নেমে পড়েছে ঐ খুনি মেয়েটাকে বাঁচাতে.....!!!
    অনেককে দেখলাম, ইভেণ্ট খুলে ঐশির ফাঁসি মাফ করার জন্য পিটিশনে সাইন পর্যন্ত নিচ্ছে।

    আসলে বাঙালী’র হুজুগের শেষ নেই। সবার মনে এক কথা- এতদিন মেয়েটাকে দেখে দেখে মায়া হযে গেছে, তার ফাসি হয়ে যাবে এটা মেনে নেওয়া যায় না। কেউ কেউ যুক্তি দাড় করাচ্ছে- যারা তাকে মাদকাগ্রস্ত করেছে, তারাই ফাসি’র যোগ্য।

    মূলতঃ ঐশির দোষ, সে তার বাবা-মাকে খুন করেছে। আর একজন নিরাপরাধ মানুষকে হত্যার করার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে, এটাই স্বাভাবিক। প্রকৃতপক্ষে  ‘ঐশিকে বাচাতে হবে’ এ থিউরীটা প্রথমে ছুড়ে দিয়েছিলো কিছু নাস্তিক, তারা কাজে লাগাতে চেয়েছিলো পাবলিক ইমোশনকে। যারা জানেন না, তাদের জন্য বলছি, পৃথিবী জুড়ে নাস্তিকদের অনেক দাবি আছে, তার মধ্যে একটি দাবি হচ্ছে ‘হত্যাকারী’র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রথা বাতিল করতে হবে’। এই বিরোধীতার কারণ ইসলাম ধর্মে নিরাপরাধ মানুষকে হত্যার শাস্তি হচ্ছে হত্যা (কিসাস)। আর ইসলাম ধর্মের সেই আইনের বিরোধীতা করতেই সারা বিশ্বজুড়ে নাস্তিকদের একটি আন্দোলন হচ্ছে- মৃত্যুদন্ড প্রথা রাহিত করতে হবে। এজন্য ইউরোপ আমেরিকায় অনেক খুনি ধরা পরে, যারা ১০০ খুন কিংবা ২০০ ধর্ষণ করেছে, দেখা যায়-তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড না দিয়ে ২ হাজার বছরের জেল দিয়ে দেওয়া হয়, যা অব্যশই হাস্যকর শাস্তি। কথিত মানবতাবাদী অ্যামনেস্টি-জাতিসংঘ্ এজন্য বার বার বাংলাদেশের উপর চাপ প্রয়োগ করে। উল্লেখ্য বাংলাদেশের প্রতিবছর হাজার হাজার লোক খুন হয়, অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত মাত্র ৪০০ জনকে ফাসি দেওয়া হয়েছে, ফাসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী সংখ্যা মাত্র ১ হাজারের কিছু বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদেশী নাস্তিক্যবাদীদের চাপে বাংলাদেশে ফাসির কার্যাপ্রণালী সফল করা যায় না। আর অন্যায়ের শাক্তি না দিলে অন্যায় আরো বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। বিদেশী মিডিয়ায় খেয়াল করলে দেখবেন, মাঝে মাঝে তারা নিউজ করে- ‘সৌদিতে এত জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ইরানে এত জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর’। এ নিউজ প্রকাশের মানে এই নয় তারা ন্যায়বিচার পেলো কি না, এ্ নিউজের উদ্দেশ্য অপরাধীর অপরাধ যাই থাকুক না কেনো, তাকে কিছুতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না।

    আমার দৃষ্টিতে ঐশির দোষ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তার মৃত্যুদণ্ড রায় ঠিক আছে। কারণ আইনের প্রয়োগের মধ্যেই রয়েছে সমাজের সুখ-শান্তি। প্রতিদিন বাংলাদেশে অনেক সন্ত্রাস হচ্ছে, চুরি-ডাকাতি হচ্ছে, ধর্ষণ-সম্ভ্রমহানী হচ্ছে, খুন-খারাপি হচ্ছে। কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এই যে অপরাধের নিয়ন্ত্রণহীনতা, এর মূল কারণ আইনের প্রয়োগ না থাকা। যদি সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ কিংবা খুনের শাস্তিগুলো তৎক্ষণাত হতো তবে সমাজে এত অন্যায় থাকতো না। এক ঐশিকে হয়ত মৃতুদন্ড দেওয়া হবে, কিন্তু একঐশিকে দেখে আরো লাখো ঐশি শিক্ষা নেবে, ভুলেও পা বাড়াবে না ঐ পথে, বাবা-মা’র মাঝে দেখা যাবে সচেতনতা।

    আমি অবশ্য অবাক হয়েছি অন্যকারণে। আমি নয়ন চ্যাটার্জি হয়েও বিষয়টি খেয়াল করলাম, আর বাংলাদেশের মানুষ মুসলিম হয়েও তাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআনের সেই লাইনটুকু দেখেনি- “কিসাসের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য জীবন।” (২ : ১৭৯)
    সত্যিই মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই।

    10 comments:

    1. ধন্যবাদ, এমনকি আমি নিজেও প্রথমে একটু কষ্ট পেয়েছিলাম মৃত্যুদন্ডের কথা শুনে, তবে আপনার পোস্টটা পুরা বিষয়টাকে নতুন করে ভাবালো,রায় ঠিকই আছে...

      ReplyDelete
    2. আমার মনের কথা বলেছেন ভাই।

      ReplyDelete
    3. আমিও তার ফাঁসির পক্ষে

      ReplyDelete
    4. কিসাসের মধ্যেই রয়েছে আমাদের জীবন।

      ReplyDelete
    5. This comment has been removed by the author.

      ReplyDelete
    6. কিসাসের মধ্যেই রয়েছে আমাদের জীবন।

      ReplyDelete
    7. কিসাসের মধ্যেই রয়েছে আমাদের জীবন।

      ReplyDelete
    8. “কিসাসের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য জীবন।” (২ : ১৭৯) কিন্তু দাদা বংলাদেশে ত কোরানের আইন চলেনা আবার খুনের শাস্তি কি সবসময় খুন?

      ReplyDelete
    9. This comment has been removed by the author.

      ReplyDelete
    10. আপনার এই লেখাটা মানতে পারলাম না। এই বিষয়ে আমি একটা পোষ্ট করেছিলাম। মা-বাবাকে খুন কোন স্বাভাবিক প্রক্রিয়া না যে আমাকে আপনাকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এই মৃত্যুদন্ড অবশ্যই কার্যকর হতে হবে। স্বাভাবিক অপরাধেরই কোন শাস্তির খবর থাকেনা আর এই ধরনের এক্সিডেন্টাল কেইসের শাস্তি না দিলেও কি এমন ক্ষতি হবে?

      https://web.facebook.com/waitingcall/posts/989231204433005

      ReplyDelete

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728