বাংলাদেশের এটিএম বুথে হিজাব নিষিদ্ধ করলো হিন্দু নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা
আপনারা নিশ্চয় জানেন, আজকে বাংলাদেশে ব্যাংক এক বিজ্ঞাপ্তিতে বলেছে- নারীদের এটিএম সেবা গ্রহনের সময় তাদের হিজাব বা নেকাব খুলে নিতে হবে। তাদের যুক্তি- এর মাধ্যমে এটিএম’র চুরি ঠেকানো যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এক মিটিং- এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, মিটিং এর নেতৃত্ব দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ‘শুভঙ্কর সাহা’। (https://goo.gl/aSehx2)
আসলে সমস্যা এখানেই। মিটিং- এর নেতৃত্ব যখন একজন অমুসলিমের হাতে, তখন ঐ অমসুলিম জানে না, দেশটির ৯৫% মানুষের ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের সাথে হিজাব বা নেকাব জড়িত। আবার এমনও হতে পারে, বিষয়টি তিনি ইচ্ছা করে নিজ শক্তি বলেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে কটাক্ষ করলেন।
বিষয়টি একটি চিন্তা করুন, ধরুন খাদ্যমন্ত্রনালয়ের একটি সভায় হঠাৎ করে বলা হলো- এখন থেকে বাংলাদেশের প্রত্যেক হোটেলে গরুর মাংশ রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে কিংবা প্রত্যেককে গরুর মাংশ খেতে হবে। আবার ধরুণ, হয়ত পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের মিটিং এ বলা হলো, আজ থেকে এমন কোন ধোয়া উৎপন্ন করা যাবে না যা পরিবেশ দূষণ করে। তাই শ্মাশানে মানুষ পোড়ানো নিষিদ্ধ করতে হবে।
যদিও বাংলাদেশের জনসংখ্যার মাত্র ২-৩ শতাংশ হিন্দু, তবুও বিষয়টি কিন্তু তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে, ফলে তারা প্রতিবাদ-আন্দোলন শুরু করবে। এবং আমি এও জানি, অধিকাংশ মুসলমান তখন হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি বাচানোর জন্য এগিয়ে আসবে এবং নিজেরাও আন্দোলনে নামবে।
এখন কথা হচ্ছে, একজন অমুসলিমের নেতৃত্বে একটি মিটিং এ কিভাবে এ ধরনের একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে বলা হয় মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে ? এটিএম বুথের কত পার্সেন্ট চুরির ঘটনা ঘটেছে হিজাব পরে ? কয়টা ঘটনার দায় কোটি কোটি নারীর উপর চাপিয়ে দেওয়া হলো কেন ? অনেক সময় তো চোর শার্ট-প্যান্ট পরেও চুরি করে, তাই এটিএম বুথে শার্ট-প্যান্ট নিষিদ্ধ করে দিন, ন্যাংটা হয়ে প্রবেশ করার আইন জারি করেন।
হ্যা, বাংলাদেশে অনেকের মেয়ে, অনেকের মা, অনেকের স্ত্রী, অনেকের বোন হিজাব পরিধান করে, এবং সেটা ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট থেকেই পড়ে। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান মৌলিক ধারা অনুসারে প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্মীয় অধিকার সংরক্ষণ করে, তাই শুভঙ্কর সাহা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ বাংক কিছুতেই এটিএম বুথে হিজাব নিষিদ্ধের আইন জারি করতে পারে না,প্রয়োজনে তারা প্রত্যেক বুথে নারী রক্ষী রাখতে পারে নিরাপত্তার জন্য, এর বেশি কিছু নয়।
আমার মনে হয় এরপরে শুভঙ্কর সাহা আর বাংলাদেশের ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক পদে থাকার যোগ্যতা রাখে না। এ ঘৃন্য সিদ্ধান্তের পর তাকে অবিলম্বে বহিষ্কার করাই একমাত্র সমাধান।

good post
ReplyDeleteঐ মাথামোটা নির্বাহী পরিচালককে বলছি,
ReplyDeleteযারা জালিয়াতি করেছে, তাদের কেউ কিন্তু হিজাবধারী ছিলোনা। তাহলে আসল অপরাধীদের চুল ছিড়তে না পেরে এমন আজাইরা সিদ্ধান্ত নেবার কারন কি?
সামনে আরো খারাপ দিন আসতেছে । ;((
ReplyDelete