Header Ads

ad728
  • Breaking News

    শিক্ষাব্যবস্থার ফুটো অনুসন্ধানে....................

    অনেকেই বলছে- “ছাত্রছাত্রীরা টিভি রিপোর্টারের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, এতে শিক্ষামন্ত্রীর দোষ কোথায় ? পাঠ্যবইয়ে তো সব উত্তর ঠিকই দেয়া ছিলো। ছাত্ররা সেগুলো পড়েনি, দোষ তাদের।” যারা এ ধরনের কথা বলছে, তারা আসলে মূল বিষয়টিই বুঝতে পারেনি। ছাত্র-ছাত্রীদের এই করুণ অবস্থার জন্য অবশ্যই অবশ্যই শিক্ষাব্যবস্থাই দায়ী। বিষয়টি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে। শুরুতেই আপনারা একটি সূত্র মুখস্ত করে রাখুন- “ষড়যন্ত্র যেখানে মূখ্য হয়, শিক্ষাদান সেখানে গৌণ হয়ে দাড়ায়”। পুরো ঘটনা বুঝার জন্য একটি সূত্রই যথেষ্ট। এখন কথা হলো সেটা কিভাবে ?? আপনারা দেখবেন, শিক্ষামন্ত্রীসহ তথাকথিত শিক্ষাবিদ গংরা (জাফর ইকবাল, আবু সাইয়্যিদ) একটি কথা বার বার বলছে- “মুখস্ত শিক্ষা বাদ দিতে হবে, সৃজনশীলের উপর জোর দিতে হবে”। উপর দিয়ে এ কথাগুলো শুনতে ভালো মনে হলেও, আসলে এই কথাগুলো পেছনে রয়েছে গভীর কন্সপিরেসি। যেহেতু পাঠ্যবইয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশেষ কিছু থিউরী প্রবেশ করানো হয়েছে, তাই ঐ গ্রুপটি চাচ্ছে শিক্ষার্থীরা যেন কিছুতেই সেই থিউরীগুলো এড়িয়ে না যেতে পারে। প্র্রয়োজনে নতুন মূল্যবান বই ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্রিতে পৌছে দেওয়া হচ্ছে, যা আগে কখন দেখা যায়নি। উদাহরণস্বরূপ- ক্লাস-৯ এর বইয়ে আছে- “সাকোটা দুলছে” নামক একটি কবিতা। আগে হলে হয়ত ছাত্র-ছাত্রীরা কবিতা থেকে কিছু প্রশ্ন পড়ে দায় সারতো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখন চাইছে- ছাত্র-ছাত্রীরা সবাই যেন ‘সাকোটা দুলছে’ কবিতার মূল থিম অর্থাৎ ‘‘৪৭ এর দেশভাগ ঠিক হয় নি, বাংলাদেশ-ভারত এক হলে ভালো হয়” এই থিউরীটা ভালোভাবে মাথায় ঢোকাতে পারে। এ জন্য পাঠ্যবই সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে দুটি উদ্দিপক, যেখানে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছে- দুই বাংলা ভাগ হওয়া ঠিক হয়নি। কিন্তু এখানে যদি সৃজনশীল না থেকে আগের সিস্টেম থাকতো, তবে উদ্দিপকও থাকতো না, ফলে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় মূল থিমটা শিক্ষার্থীরা নাও শিখতে পারতো, শিক্ষকরাও হয়ত এড়িয়ে যেতো। এখানেই সৃজনশীলের মূল হাকিক্বত। পাঠক, আবার সেই আগের সেই সূত্রে ফিরে আসুন- “ষড়যন্ত্র যেখানে মূখ্য হয়, শিক্ষাদান সেখানে গৌণ হয়ে দাড়ায়”। কর্তৃপক্ষের যখন ইচ্ছা, শিক্ষার্থীদের ব্রেইনে বিশেষ কিছু থিউরী প্রবেশ করাবে, তখন মূল শিক্ষা সুযোগ কিন্তু থাকে না। আজকে শিক্ষামন্ত্রী ও জাফর ইকবাল গং যখন বলছে- “মুখস্ত করা ঠিক নয়”। তখন স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উদিত হয়- “কখন মুখস্ত করা ঠিক নয় ? কতটুকু মুখস্ত করা ঠিক নয় ? স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, বুদ্ধিজীবি দিবস কবে- এই তারিখগুলোও কি ‍মুখস্ত করা ঠিক নয় ?” পাঠক একটি উদহরণ দিলে মনে হয় বুঝতে সহজ হবে। ধরুন একটি নতুন কম্পিউটার। কম্পিউটারে শুরুতে উইন্ডোজ সেটআপ দিতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুসারে সফটওয়্যার ইন্সটল দিতে হবে। কিন্তু উইন্ডোজ সেটআপ না দিয়ে যদি আপনি নানান সফটওয়্যার ইন্সটল দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে কিন্তু হবে না। একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা কিন্তু সেরকম। তাকে সারা জীবন চলার জন্য নূন্যতম কিছু জ্ঞান মুখস্তের দরকার আছে। কিন্তু কন্সপিরেসি বাস্তবায়নে সেই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, ডাইরেক্ট ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অমুখস্ত বা সৃজনশীলের দিকে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা এ+ পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না। এখানে লক্ষ্যনীয় ষড়যন্ত্রকারীরা আরো পরিণত বয়সে শিক্ষার্থীদের উপর তাদের থিউরী এ্যাপ্লাই করতে পারতো। কিন্তু সেটাও সম্ভব নয়। কারণ তারা জানে- একটি শিশুকে ছোট বেলায় ব্রেইন ওয়াশ করা যত সোজা, বড় হয়ে গেলে তত সোজা না। তাই স্কুল জীবনেই তার মাথায় পোকা ঢুকিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়েই নূন্যতম বেইজ নষ্ট হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের। আর সেটাই প্রকাশ পেয়েছে সম্প্রতি মাছরাঙ্গা টিভির প্রতিবেদনে।

    No comments

    Post Top Ad

    ad728

    Post Bottom Ad

    ad728