প্রসঙ্গ: বাংলা একাডেমীর ঈদ শব্দ পরিবর্তন করে ইদ করা কি কারণ থাকতে পারে ??
বাংলা একাডেমী নাকি ঈদ শব্দ পরিবর্তণ করেছে, নতুন বানান দিয়েছে ইদ। তাদের দাবি ঈদ বিদেশী শব্দ, এই শব্দে নাকি `ঈ‘ হয় না।
ঈদ লিখতে ঈ হয় কেন ?
ঈদ আরবী শব্দ। আরবী ভাষায় লিখলে—عيد
আরবী ভাষায় তিনটি অক্ষর আইন, ইয়া ও দাল।
আরবী ভাষায় তিনটি অক্ষর আইন, ইয়া ও দাল।
আরবী ভাষায় তিনটি অক্ষর আইন, ইয়া ও দাল।
আরবী ব্যকরণ অনুসারে আইন অক্ষরটি উচ্চারণ করতে গলার ভেতর থেকে এবং তা দীর্ঘ হয়।
যেহেতু `ই‘ অক্ষর দিয়ে আমরা এমন অসংখ্য শব্দ উচ্চারণ করি যা দৃঢ় করে উচ্চারণ করতে হয় না এবং দীর্ঘও হয় না।
এজন্যই সম্ভবত আদি লেখকরা ঈদ শব্দটি লিখতে 'ঈ' ব্যবহার করেছেন।
আরবী ব্যকরণ অনুসারে আইন অক্ষরটি উচ্চারণ করতে গলার ভেতর থেকে এবং তা দীর্ঘ হয়।
যেহেতু `ই‘ অক্ষর দিয়ে আমরা এমন অসংখ্য শব্দ উচ্চারণ করি যা দৃঢ় করে উচ্চারণ করতে হয় না এবং দীর্ঘও হয় না।
এজন্যই সম্ভবত আদি লেখকরা ঈদ শব্দটি লিখতে 'ঈ' ব্যবহার করেছেন।
এ সম্পর্কে জানা যায়, বাংলাদেশী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ঈদ লিখতে ঈ ব্যবহার করেছেন। কাজী নজরুল ইসলাম আরবী-ফার্সিতে বিশেষ দক্ষ ছিলেন, এ কারণেই ঈদ লিখতে শুদ্ধ হিসেবে ঈ-অক্ষর খানাই ব্যবহার করেছেন। আমার ধারণা, এখন বাংলা একাডেমীতে কাজী নজরুল ইসলামের থেকেও বড় পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে, যারা ঈদ শব্দটিকে ইদ হিসেবে বানাতে চাইছেন। তবে এই ভাষা পরিবর্তন কি এমনি এমনি ঘটছে (কারণ বাংলা একাডেমীর আরো অনেক কাজ আছে যেগুলো হচ্ছে না। যেমন- পুরাতন অনেকগুরুত্বপূর্ণ বই রিপ্রিন্ট করা দরকার, নতুন গবেষণা করা দরকার), নাকি কোন বিশেষ কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এই পরিবর্তন হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা করার দরকার আছে বলে মনে করি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ইসলামী শব্দগুলো পরিবর্তন করার একটা হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন-পাঠ্যপুস্তকে ইসলামী শব্দগুলোকে কলকাতাকরণ লক্ষ্য করা যায়।
যেমন-
নবী‘কে --নবি
কুরআন‘কে--- কোরান
শহীদ‘কে--- শহিদ
ঈমান‘কে--- ইমান
হজ্জ‘কে--- হজ
যেমন-
নবী‘কে --নবি
কুরআন‘কে--- কোরান
শহীদ‘কে--- শহিদ
ঈমান‘কে--- ইমান
হজ্জ‘কে--- হজ
উপরের বাংলা ভাষার ইসলামী শব্দের বিবর্তন বলে দিচ্ছে বাংলা ভাষার ইসলামী শব্দগুলোর উপর হিন্দুদের দৃষ্টি পড়েছে। আসলে বাংলা ভাষায় হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ নতুন কিছু নয়। আপনি যদি বাংলা ভাষার ইতিহাস খুলেন, তবে দেখবেন- বাংলাভাষাকে প্রাথমিক যুগেই হিন্দুরা গলাটিপে হত্যা করতে চেয়েছিলো। হিন্দু সেন রাজাদের যুগে হিন্দু পুরোহিতরা ফতওয়া দিয়েছিলো- যে বাংলাভাষা চর্চা করবে সে নরকে যাবে“।
পরবর্তী মুসলিম শাসক বখতিয়ার খিলজি বাংলা বিজয় করে বাংলাভাষাকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছিলেন। এ জন্য দিনেশ চন্দ্র সেন মন্তব্য করে, "মুসলমান সম্রাটগণ বর্তমান বঙ্গ – সাহিত্যের জন্মদাতা এইরূপ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গভাষা বাঙ্গালী মুসলমানের মাতৃভাষা। [ সুত্র : দীনেশ চন্দ্র সেন - প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান, (১৯৪০) কলকাতা।]"
পরবর্তী মুসলিম শাসক বখতিয়ার খিলজি বাংলা বিজয় করে বাংলাভাষাকে নিশ্চিত মৃত্যু থেকে রক্ষা করেছিলেন। এ জন্য দিনেশ চন্দ্র সেন মন্তব্য করে, "মুসলমান সম্রাটগণ বর্তমান বঙ্গ – সাহিত্যের জন্মদাতা এইরূপ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। বঙ্গ সাহিত্য মুসলমানদেরই সৃষ্ট, বঙ্গভাষা বাঙ্গালী মুসলমানের মাতৃভাষা। [ সুত্র : দীনেশ চন্দ্র সেন - প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান, (১৯৪০) কলকাতা।]"
মুসলমানরা বাংলা শাসন করার সময় বাংলা ভাষায় মুসলমানদের ব্যাপক সাহিত্য চর্চার ফলে বাংলা ভাষা একটি সমৃদ্ধ ভাষা হয়ে উঠে এবং একটি পরিপূর্ণ ভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বলাবাহুল্য সেই সময় বাংলাভাষায় আরবী ও ফার্সী ভাষার ব্যাপক প্রভাব ছিলো। কিন্তু সমস্যা ঘটে ব্রিটিশরা আসার পর। ব্রিটিশরা দেখলো বাংলা ভাষা চর্চা মানেই মুসলমানদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা । এই বিষয়টি যদি চলতে দেয়া হয়, তবে আগামীতে বাংলাসংস্কৃতি মানেই মুসলমানি সংস্কৃতি হবে। এটার অবশ্যই পরিবর্তণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশরা কলকাতার হিন্দু সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করে ভিন্নমাত্রার সাহিত্য রচনা করতে থাকে, এর মাধ্যমে তারা এক নতুন বাংলা ভাষার জন্ম দেয়, যা আরবী-ফার্সী বিবজির্ত, জটিল ও দুর্বধ্য সংস্কৃতি শব্দবহুল। (এ সম্পর্কে জানতে গোলাম মোর্তজার ইতিহাসের ইতিহাস বইটি পড়তে পারেন)
আজ থেকে ২০০ বছর আগে ইংরেজরা যেভাবে অনুধাবণ করেছিলো বাংলাভাষা থেকে আরবী-ফার্সী বাদ দেয়ার মাধ্যমে ইসলামী সংস্কৃতি বাদ দেয়ার কথা, আমার মনে হয় বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ঢুকে পরা হিন্দুত্ববাদীরা সেই একই সূত্র অনুধাবণ করছে। এ কারণেই তারা আঘাত হানছে ঈদ, নবী, কুরআন, ঈমান শহীদ, হজ্জ শব্দগুলোর উপর।
’
সবশেষে বলবো-
’
সবশেষে বলবো-
`ঈ‘ দিয়ে খুব বেশি শব্দ প্রচলিত নেই। ঈ অক্ষরে ছোট বাচ্চারা পড়ে- ঈদ, ঈমান, ঈদগাহ, ঈগল ও ঈশান।
বাংলা একাডেমীর দাবি হচ্ছে, বিদেশী শব্দের ঈ হবে না। এ সূত্র অনুযায়ী প্রথম ঈদ, ঈমান, ঈদগাহ ও ঈগল (ইংরেজী শব্দ) সবগুলো বানান পরিবর্তণ হয়ে বাদ যাবে। বাকি থাকবে শুধু ঈশান।
বাংলা একাডেমীর দাবি হচ্ছে, বিদেশী শব্দের ঈ হবে না। এ সূত্র অনুযায়ী প্রথম ঈদ, ঈমান, ঈদগাহ ও ঈগল (ইংরেজী শব্দ) সবগুলো বানান পরিবর্তণ হয়ে বাদ যাবে। বাকি থাকবে শুধু ঈশান।
হ্যা পাঠক, ঈশান শব্দটি হচ্ছে হিন্দু ভগবান শিবের আরেক নাম। এখন থেকে ঈ-তে ছোট্ট বাচ্চারা শিখবে ঈশান।
বাংলা ভাষায় মুসলমানদের অবদান নিয়ে আমার দুটো পোস্ট পড়তে পারেন-
১) http://bit.ly/2sC49hv,
২) http://bit.ly/2rSCqvN
১) http://bit.ly/2sC49hv,
২) http://bit.ly/2rSCqvN
---------------------------------------------------
--আমার ফেসবুক পেইজ Noyon Chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
--আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/)
No comments