বাংলাদেশের শিশুর জীবন নিয়ে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনিসেফের এত দরদ কেন ?
ইউনিসেফ বাল্যবিয়ের বিরোধীতা করতে গিয়ে বলছে-
“অল্পবয়সে বিয়ে এবং সন্তানধারনের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় তেইশ হাজার (২৩,০০০) শিশু মারা যায়।”।
মেনে নিলাম তাদের দাবি।
কিন্তু
১) বাংলাদেশ সরকারের হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় ১৪ জন শিশু মারা যায় ।(http://bit.ly/2wCJfQe)
সে হিসেবে বছরে মারা যায়, ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬৪০ জন।
অল্প বয়সে বিয়ে করলে যদি ২৩ হাজার শিশু মারা যায়, তবে বাকি (১২২৬৪০-২৩০০০)= ৯৯,৬৪০ জন শিশু মারা যায় কেন ? বাল্যবিয়ে বাদেও যে কারণে বহুগুন শিশু মারা যাচ্ছে, সে কারণগুলো রোধে সরকারের ভূমিকা কোথায় ?
২) দাবি করা হচ্ছে, বাল্যবিয়ের কারণে ২৩ হাজার শিশু মারা যায়। কিন্তু যমুনা টিভি এক রিপোর্টে বলছে (https://youtu.be/
এ সম্পর্কে বাংলাদেশে যারা বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রচারণা চালায় সেই ডয়েচে ভেলে গর্ভপাতের পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বলেছে- “ভাবুন তো বিয়ের আগে কোনো নারী যদি গর্ভবতী হয়ে পড়েন, সমাজ কি তাকে গ্রহণ করবে? ”
(http://bit.ly/2vIFJ9M)
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কিন্তু বলেছিলো-
“আমরা ১৮ বছর পর্যন্ত বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে দিয়েছি। কিন্তু একটি মেয়ে যদি কোনো কারণে ১২-১৩ বা ১৪-১৫ বছরের সময়ে গর্ভবতী হয়ে যায়- তাকে গর্ভপাত করানো গেল না। তাহলে যে শিশুটি জন্ম নেবে তার অবস্থান কী হবে? তাকে কী সমাজ গ্রহণ করবে?” (http://bit.ly/2vJZVc7)। তারমানে ১৮ এর নিচে বিবাহবর্হিভূত সন্তানকে গর্ভপাত করানোর পক্ষপাতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।
আমার কথা হলো- ২৩ হাজার শিশু নিয়ে এত লম্ফঝম্ফ, কিন্তু ৫ লক্ষ ভ্রণশিশু হত্যা নিয়ে লম্ফঝম্ফ কোথায় ? কঠিন আইন থাকার পরও সরকার-প্রশাসন কেন গর্ভপাত এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে না ?
৩) বেশি বয়সে বিয়ে, বেশি বয়সে সন্তান। এই প্রচারণা চালাচ্ছে সরকার ও বিদেশী এনজিওগুলো। কিন্তু বেশি বয়সে সন্তানধারণ যে মাতৃমৃত্যুর অন্যতম কারণ সেটা কেন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে ? (http://bit.ly/2vfoD2z)
৪) বাংলাদেশে এখন একটা বড় সমস্যা সিজারিয়ান অপরেশন। আন্তর্জাতিক হিসেব মতে সিজারিয়ান অপরেশন এর হার ১৫% হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে এর পরিমাণ প্রায় ৫০% এর মত। আর ঢাকাস্থ প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান অপরেশনের হার ৮০% এর মত। সিজারিয়ান অপরেশনের কারণে একদিকে যেমন একটি নারীকে আধা পঙ্গু বানিয়ে দেয়া হয়, অন্যদিকে সিজারিয়ান অপরেশনের ফলে জন্ম নেয়া শিশুরা স্বাভাবিকের তুলনায় কমবুদ্ধি সম্পন্ন ও রোগাগ্রস্ত হয়।(তথ্যসূত্র : মাসিক গণস্বাস্থ্য, ৩৬ বর্ষ ৩য়-৪র্থ সংখ্যা)
যদিও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপরেশন বৃদ্ধির মূল কারণ হাসপাতালগুলোর ব্যবসা, কিন্তু ডাক্তারদের যুক্তি খণ্ডনে চিন্তা করলে- মায়ের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে সিজারিয়ান অপরেশনের হারও তত বাড়তে থাকে। গবেষণাগুলো বলছে- ১৯ এর নিচে মা হতে যদি সিজারিয়ান অপরেশন লাগে ৫%, সেখানে ২৬-এ মা হলে সিজারিয়ান হার বেড়ে দাড়ায় ২৫% -এ।(http://bit.ly/2ul5RrS)
সবশেষে বলবো- বাংলাদেশের শিশুর জীবন নিয়ে জাতিসংঘের অঙ্গসংস্থা ইউনিসেফের এত দরদ কেন ? যে জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী মুসলিম শিশু নিধনে সম্রাজ্যবাদীদের বৈধতা দেয়, সেই জাতিসংঘ যখন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য দরদ দেখায় তখন সেটা সত্যিই চিন্তার বিষয়। মায়ের থেকে মাসির দরদ যখন বেড়ে যায়, তখন ভাবতে হবে নিশ্চয়ই মাসির অতি দরদের আড়ালে অন্য কোন বিশেষ উদ্দেশ্য আছে। সেই বিশেষ উদ্দেশ্যটা উন্মোচন করা এখন অতীব জরুরী।
---------------------------------------------------
--আমার ফেসবুক মূল পেইজ Noyon Chatterjee 5
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
(https://www.facebook.com/noyonchatterjee5),
--পেইজ কোড- 249163178818686 ।
--আমার ব্যাকআপ পেইজ- Noyon Chatterjee 6 (https://www.facebook.com/202647270140320/

No comments